অসংক্রামক রোগীদের অধিকাংশই তামাকসেবী
মেডিভয়েস ডেস্ক: দেশে মোট মৃত্যুর ৭০ শতাংশের কারণ অসংক্রামক রোগ। অসংক্রামক রোগীর একটি বড় অংশ তামাক ব্যবহারকারী বলে মন্তব্য করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা। রোগ ও মৃত্যু হার কমাতে তামাক কর নীতি প্রণয়ন ও জোরদার জরুরি মনে করছেন তারা।
সোমবার (১৪ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক কর নীতির প্রয়োজনীয়তা’শীর্ষক পরামর্শমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো (বিইআর) ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
সভায় বক্তারা জানান, ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী শক্তিশালী তামাক কর নীতি প্রণয়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে বিইআর একটি তামাক কর নীতির রূপরেখা প্রণয়ন করেছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল এই রূপরেখা অনুসরণ করে তামাক কর নীতির খসড়া প্রণয়নে উদ্যোগী হয়েছে। তারা আশা ব্যক্ত করেন, সরকারের সংশিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তামাক কর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেবে।
তারা বলেন, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের চেয়ে বেশিতে সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। যার উপর কর আদায় করা গেলে সরকার বছরে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বাড়তি রাজস্ব পেত। এই কর ফাঁকি বন্ধে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। এসময় তারা তামাকের সহজলভ্যতা কমানো, মূল্য বৃদ্ধি, কর ফাঁকির জায়গা চিহ্নিত করা, রাজস্ব আদায়ে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুসহ তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ সভাপতিত্ব করেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বকারী (অতিরিক্ত সচিব) হোসেন আলী খোন্দকার ও সিটিএফকের লিড পলিসি অ্যাডভাইজার মো. মোস্তাফিজুর রহমান। প্যানেল আলোচক ছিলেন দ্য ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ড. সৈয়দ মাহফুজুল হক। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিট, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের প্রতিনিধিসহ তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ, উন্নয়নকর্মী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।