২৫ জুন, ২০২৩ ১২:৪৮ পিএম

ডা. সংযুক্তা সাহার বিরুদ্ধে বিএমডিসিতে অভিযোগ

ডা. সংযুক্তা সাহার বিরুদ্ধে বিএমডিসিতে অভিযোগ
অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহা।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালের চিকিৎসা নেওয়া মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলে (বিএমডিসি) লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

আজ রোববার (২৫ জুন) সকালে রাজধানীর বিজয়নগরে বিএমডিসির কার্যালয়ে এ অভিযোগ দায়ের করেন প্রয়াত মাহবুবা রহমান আঁখির স্বামী মুহাম্মদ ইয়াকুব আলী।

লিখিত অভিযোগে ইয়াকুব আলী বলেন, ‘আঁখি সন্তান গর্ভধারণের পর অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার ব্যথামুক্ত নরমাল ডেলিভারি বিষয়ক ফেসবুক ভিডিও দেখে তাঁর কাছে চিকিৎসা সেবা ও ডেলিভারি করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। এরই ধারাবাহিকতায় কয়েক ধাপে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। গত ৯ জুন ২০২৩ তারিখ আমার স্ত্রী মাহবুবা রহমানের প্রসব ব্যথা হলে, আমি প্রথমে অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার সহকারী জমিরকে ফোন করে জানাই। এসময় ডা. সংযুক্তা সাহা চেম্বারে আছেন বলে জমির ও ডা. সংযুক্তা সাহার সহকারী একজন চিকিৎসক আমাকে নিশ্চিত করেন এবং মাহবুবা রহমানের অ্যাপোয়েন্টমেন্ট নেন।’

মাহবুবা রহমান আঁখির স্বামী বলেন, ‘রাত ১২টা ২৫ মিনিটে আমি আমার স্ত্রী মাহবুবা রহমানকে নিয়ে সেন্ট্রাল হাসপাতালে পৌঁছাই। ডা. সংযুক্তা সাহার চেম্বারে গেলে কিছু স্টাফ ডা. সংযুক্তা সাহা ওপরে লেবার ওয়ার্ডে আছেন বলে আমাদের লেবার ওয়ার্ডে নিয়ে যায়। আমি ডা. সংযুক্তা সাহার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে লেবার ওয়ার্ডে ডা. সংযুক্তা সাহার একজন অ্যাসিস্টেন্ট চিকিৎসক আমার স্ত্রী মাহবুবা রহমানকে ভেতরে নিয়ে যায় এবং আমাকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলে।’

তিনি বলেন, ‘কিছুক্ষণ পর আমাকে নিচে এডমিশন ফি দিতে বলে। আমি নিচে গিয়ে ডা. সংযুক্তা সাহার নামে এডমিশন নিই। মানি রিসিট এনে ডা. সংযুক্তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে বলা হয় আপনার স্ত্রীর ডেলিভারি হচ্ছে, সংযুক্তা সাহা সেখানে ব্যস্ত আছেন, পরে কথা বলবে। এরপর আমার পারমিশন না নিয়েই ডা. সংযুক্তা সাহার টিমের সদস্য ডা. মুনা সাহা, ডা. শাহজাদী মুস্তাশিদা সুলতানা আমার স্ত্রীকে ৪৫ মিনিট ব্যায়াম করায় এবং সাইড কাটতে গিয়ে মূত্রনালি ও মলদ্বারসহ অন্যান্য অর্গান কেটে ফেললে মারত্মক রক্তক্ষরণ হয়, যা বন্ধ করতে তারা ব্যর্থ হয়।’

ইয়াকুব আলী আরও বলেন, ‘আমার আনুমতি ছাড়াই অজ্ঞান অবস্থায় আঁখিকে ওটিতে নিয়ে সিজার করে বাচ্চা বের করে। পরবর্তী সময়ে আমি ডা. মাকসুদা আক্তার মিলি, ডা. এহসানকেও ওটিতে দেখতে পাই। আমি ডা. সংযুক্তা সাহাকে খোঁজাখুঁজি করলে তারা সকালে আমাকে জানায় ডা. সংযুক্তা সাহা নেই। শাহজাদী মুস্তাশিদা সুলতানা স্বীকার করেন যে তিনি ডা. সংযুক্তা সাহার নির্দেশে এ কাজ করেছেন। এরপর রোগীকে জরুরিভাবে ঢাকা মেডিকেল নিয়ে যেতে আমাকে বলে, কিন্তু আমি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে সিসিইউতে ভর্তি করাই।’

আঁখির স্বামী আরও বলেন, ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর সেন্ট্রাল হাসপাতাল থেকে জানানো হয় আমার সন্তান মারা গেছে এবং তারা মর্গে রেখেছে। এরপর গত ১৮ জুন দুপুরে আমার স্ত্রী মাহবুবা রহমানও ইন্তেকাল করেন। পরে ১৯ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পোস্ট মর্টেম শেষে রাত ১০টায় কুমিল্লার লাকসামে আমার স্ত্রী ও সন্তানকে দাফন করা হয়।

পারিবারিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে ইয়াকুব আলী বলেন, ‘আমার স্ত্রী মাহবুবা রহমানের বাবা, ভাই, বোন কেউই নেই। বিধবা মা তার একমাত্র সন্তান মাহবুবা রহমানকে খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করিয়েছেন। মাহবুবা রহমান চাকরি করে মায়ের কষ্ট লাঘব করবেন এমন প্রত্যাশা ছিল। মাহবুবা রহমান রাজধানীর সরকারি ইডেন মহিলা কলেজের গণিত বিভাগের মাস্টার্সে অধ্যয়নরত ছিলেন। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে আঁখির মাও এখন মৃতপ্রায়।’

তিনি বলেন, ‘আমি গত তিন বছর ধরে আমার স্ত্রী মাহবুবা রহমানকে নিয়ে খুব সুখে শান্তিতে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করছিলাম। আমাদের সন্তানকে নিয়ে অনেক পরিকল্পনা, অনেক আয়োজন, অনেক কেনাকাটা হয়েছিল, কিন্তু সেন্ট্রাল হাসপাতালের ভুল চিকিৎসায় নিমিষেই যেন সবকিছু শেষ হয়ে গেল। আমি এখন বেঁচে থাকার সাহসটুকু হারিয়ে ফেলেছি।’

ইয়াকুব আরও আলী বলেন, ‘আমার দাবি-১. আমার স্ত্রী ও নবজাতককে হত্যা করা হয়েছে, এজন্য আমি দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করছি, ২. সেন্ট্রাল হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করতে হবে, ৩. অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার রেজিস্ট্রেশন বাতিল করতে হবে এবং আর কোনো হত্যাকান্ড যাতে না ঘটে, সেজন্য হাসপতাালগুলোতে আলাদা মনিটরিংসেল গঠন করতে হবে।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : বিএমডিসি
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক