ডা. সাদাব সাউদ সানী
মেডিকেল অফিসার (৩৩তম বিসিএস), ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (২০০৫-০৬)
১৮ মে, ২০২৩ ০১:২৫ পিএম
পিঠের ব্যথার কারণে পায়ে ও অন্ত্রের সমস্যা হতে পারে
মানুষের পিঠে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ রয়েছে। এগুলো হলো-কশেরুকা, ডিস্ক, স্পাইনাল কর্ড এবং স্নায়ু, পেশি, টেন্ডন ও লিগামেন্টস। এ অংশগুলোতে কোনো সমস্যা হলে একজন মানুষের পিঠে ব্যথা হতে পারে। তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।
হাড়ের স্তুপ যা মুদ্রার স্তুপের মতো একে অপরের উপরে বসে থাকে। এই হাড়গুলোর প্রতিটির কেন্দ্রে একটি ছিদ্র রয়েছে। স্ট্যাক করা হলে হাড়গুলো একটি ফাঁপা টিউব তৈরি করে, যা মেরুদণ্ডকে রক্ষা করে। এটিকে কশেরুকা বলে। কুশন যোগ করতে এবং নড়াচড়ার অনুমতি দিতে প্রতিটি কশেরুকার মধ্যে রাবারি ডিস্ক বসে থাকে।
মেরুদণ্ড হলো স্নায়ুর হাইওয়ে, যা মস্তিষ্ককে শরীরের বাকি অংশের সাথে সংযুক্ত করে। কশেরুকার মাঝের ছিদ্রের মধ্যদিয়ে মেরুদণ্ড যায়। মেরুদণ্ড থেকে স্নায়ু-শাখা পাশাপাশি কশেরুকার মধ্যে দিয়ে সরু পথে বের হয়। তারা বাহু, পা এবং অঙ্গগুলোর সাথে সংযোগ স্থাপন করে। এই কারণেই পিঠের সমস্যার কারণে পায়ে ব্যথা বা মূত্রাশয় বা অন্ত্রের সমস্যা হতে পারে।
পেশি, টেন্ডন এবং লিগামেন্টগুলোকে একসাথে পিঠের নরম টিস্যু বলা হয়। এই নরম টিস্যুগুলো পিঠকে বলবান করে এবং এটি একসাথে ধরে রাখতে সহায়তা করে।
পিঠে ব্যথার কারণ
অনেক কারণে পিঠে ব্যথা হতে পারে। এ জন্য বেশিরভাগ সময় চিকিৎসকরাও সঠিক কারণ জানেন না। তবে সাধারণত মানুষের পিঠের পেশিতে টান পড়লে ব্যথা হতে পারে। এটি প্রায়শই ঘটে থাকে। যখন একজন ব্যক্তি ভারি কিছু তোলে বা পিঠ বাঁকিয়ে কাজ করে, তখন পেশিতে টান পড়ে। এই ব্যথা শারীরিক কার্যকলাপের পরে হঠাৎ শুরু হয়। এছাড়াও পিঠে ব্যথা হওয়ার আরও যেসব কারণ রয়েছে-
১. ডিস্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফুলে বা ছিঁড়ে গেলে।
২. মেরুদণ্ডের জয়েন্টে আর্থ্রাইটিস হলে।
৩. মেরুদণ্ডে হাড় বেড়ে যদি কাছাকাছি স্নায়ুগুলিকে চাপ দেয়।
৪. কশেরুকা জায়গার বাইরে বেরিয়ে আসলে।
৫. মেরুদণ্ডের পথ সরু হয়ে গেলে।
৬. টিউমার বা ইনফেকশন হলে (এটি খুব বিরল)।
প্রায় প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো সময় পিঠে ব্যথা হয়। তবে ব্যথা তীব্র হলেও এটি সাধারণত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিজেই চলে যায়। জরুরি চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের খুব একটা প্রয়োজন হয় না। এ জন্য প্রথমেই কোনো বিষয়ে দুশ্চিন্তা করা যাবে না।
যখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
১. সকালে ঘুম থেকে উঠার পর যদি আপনার পিঠে ব্যথার তীব্রতা বেশি থাকে।
২. আপনার পায়ে যদি অসাড়তা বা দুর্বলতা থাকে।
৩. মূত্রাশয় বা অন্ত্র নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হলে (প্রসাব আটকে গেলে বা প্রস্রাবের চাপ আসলে ধরে রাখতে সমস্যা হলে)।
৪. ওজন হ্রাস পেলে।
৫. জ্বর বা অন্য উপায়ে অসুস্থ বোধ করলে।
৬. নিয়মিত স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ, যেমন-করটান, ডেলটাসন সেবন করে থাকলে।
৭. ডায়াবেটিস বা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে এমন রোগ থাকলে।
৮. ক্যান্সার বা অস্টিওপরোসিসের ইতিহাস থাকলে।
৯. পিঠের ব্যথা এতটাই তীব্র যে. আপনি সাধারণ কাজগুলি করতে পারছেন না।
১০. পিঠের ব্যথা ৪ সপ্তাহের মধ্যে উন্নতি হতে শুরু না করলে।
এএইচ
-
০৯ জানুয়ারী, ২০২৩