১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩ ১২:২২ পিএম
পাখি নিয়ে ফটোগ্রাফি

বিগ বার্ড অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত ডা. শাওন

বিগ বার্ড অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত ডা. শাওন
ডা. শাওন কুমার দেবের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হচ্ছে। (ছবিতে সবার ডানে)।

ফটোগ্রাফির মাধ্যমে পাখির নতুন প্রজাতি, বিপন্ন বা বিরল প্রজাতির সন্ধানের স্বীকৃতি স্বরূপ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের চিকিৎসক শাওন কুমার দেব।

পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ৩ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত 'পাখিমেলা ২০২৩' এ তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

দেশে পাখির উপর উল্লেখযোগ্য যে কোনো পর্যবেক্ষণের জন্য পুরস্কার প্রদান করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগ। এর আওতায় পাখির নতুন প্রজাতি/বিপন্ন বা বিরল প্রজাতির সন্ধান/পাখির উপর যেকোনো চমকপ্রদ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরার মাধ্যমে পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হন প্রত্যেক প্রতিযোগী।

এ বছর পাখি নিয়ে পর্যবেক্ষণে সেরাদের মনোনীত করতে গত ১ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যালোচনা করে আয়োজকরা। এর মধ্যে তিনজনকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। সহ আয়োজক ছিল ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টার, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব, আরণ্যক ফাউন্ডেশন, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ বন বিভাগ, IUCN এবং বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতি।

যে ছবির জন্য পুরস্কার 

ডা. শাওন বলেন, ‘বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করা সৃষ্টিশীল মানুষদের নিয়ে আমাদের একটি গ্রুপ আছে, যাদের বয়স প্রায় কাছাকাছি। তাদের অন্যতম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্ট থেকে পাস করা আবীর এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে আর্কিটেকচারে পাস করা রানা। গত বছরের ডিসেম্বরে আমরা সিলেটের কয়েকটা জায়গা ভ্রমণ করি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। ভ্রমণে আমরা এসব জায়গায় অনুসন্ধান চালাই। আমরা সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ছবি তুলতে গিয়ে বনের ভেতর ঘুরছিলাম, মাঝে মাঝে ছবিও তুলছিলাম। এক পর্যায়ে একটি পাখির ডাক শুনি, বিরল এ ডাক যা আগে কখনো শুনিনি। কোনটা কোন পাখির ডাক, ই-বার্ডে যুক্ত থাকার সুবাদে এ বিষয়ে আমাদের একটি ধারণা আছে। কিন্তু সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে সেদিনের পাখির ডাকটি অপূর্ব মনে হয়। গাছটির নিচে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি। দেখি, পাখিটি নড়াচড়া করছে। সহসা সামনে আসে। পরে পাখিটির কয়েকটি ছবি তুলি। ছবিগুলো বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ান কিছু গ্রুপে দিই, যারা পাখি চিহ্নিতকরণে কাজ করে। বার্ডস বাংলাদেশ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সায়েম ইউ চৌধুরী পাখির ছবিটা ভালোভাবে দেখেন, তিনি পাখি নিয়ে বাংলাদেশে গবেষণা করেন। পাখি সংক্রান্ত জাতিসংঘের কিছু প্রজেক্ট তত্ত্বাবধান করেন তিনি। এর আওতায় তিনি টাঙ্গুয়ার হাওড়সহ বিভিন্ন জায়গার পাখি গণণা ও কক্সবাজারের সোনাদিয়া দীপে শীতকালে দেখা যায়—এমন কিছু দুষ্প্রাপ্য পাখির তথ্য সংগ্রহ করেন। তা ছাড়া বাংলাদেশের ই-বার্ডের কার্যক্রমও তিনি দেখেন। সায়েম ইউ চৌধুরী আমাদের ছবিটা ভালোভাবে দেখেন, মুঠোফোনে রেকর্ড করা কলও পর্যালোচনা করেন। তিনি বুঝতে পারেন পাখিটির নাম পিগমি পাইক্যাচার, যেটি বাংলাদেশে এর আগে কখনো দেখা যায়নি। আমরা পাখিটির প্রথম তথ্য প্রদানের অংশীদার হলাম। এজন্য আমি বিগ বার্ড বাংলাদেশের পুরস্কারে ভূষিত হলাম।’

তিনি আরও বলেন, নতুন নতুন পাখি অনুসন্ধান ও চিহ্নিত করণের জন্য এ পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রতি বছর তিনজনকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এবার পিগমি ফ্ল্যাইক্যাচার পাখির চিহ্নিতকরণের জন্য বিগ বার্ড পুরস্কারের জন্য তাঁকে বাছাই করা হয়।

একই ক্যাটাগরিতে পুরস্কারজয়ী জাহাঙ্গীর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী সাঈদ হোসাইন গত নভেম্বরে সুন্দরবন গিয়েছিলেন, সেখানে তাদের গ্রুপ একটি পাখি শনাক্ত করে। এটা যে বিরল প্রজাতি, প্রথমে তারা বুঝতে পারেনি। পরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১২ জনের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসে। তারা সুন্দরবনে অনুসন্ধান চালিয়ে একই পাখির ছবি তুলে। তারা আবিষ্কার করে পাখিটি পৃথিবীতে দুষ্প্রাপ্য ও বিপণ্ণ প্রায় একটি প্রজাতি। পাখিটি চীনের কিছু অংশে পাওয়া যায়। মার্কিন দলটি ই-বার্ডে পোস্ট দিয়ে পাখিটির সন্ধানের দাবি করে। পরে জাবির শিক্ষার্থী দাবি করেন, তারা আগেই এর ছবি তুলেছেন। ই-বার্ড তাদের পুনর্বিবেচনা করে। এতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের পাখি গবেষকরা আসার আগেই জাবির শিক্ষার্থী এর ছবি তুলেছিলেন।

অন্যজন হলেন এএসএম আরিফ-উল-আনাম। তিনি রাজশাহীর পদ্মা নদীতে একটি পাখি চিহ্নিত করেন, যা বাংলাদেশে প্রথমবারের আবিষ্কৃত হয়।

গল্পের শুরু যেভাবে

পাখির ছবি তোলায় পরিপূর্ণভাবে মনোযোগী হওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ডা. শাওন কুমার দে বলেন, ‘পাবনার সুজানগরে তাতীবান্দা ইউনিয়ন সাব সেন্টারে আমার প্রথম পোস্টিং ছিল। এটি ছিল একটি জমিদার বাড়ির সীমানা। ওখানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ছিল। এগুলো দেখে আমি ছবি তোলায় খুব উৎসাহিত হই। ভাবি, এতো এতো পাখি, আমি তো এগুলোর নাম জানি না! তাহলে এগুলো চিহ্নিত করি।’

‘সে সময় বই মেলা হচ্ছিল। মেলা থেকে পাখি বিষয়ক একটি বই কিনি। সময়টা ছিল ২০১৪ সাল। তখন মোবাইলে লেন্স লাগিয়ে ছবি তুলতাম। দেখলাম, মোবাইলের ছবিগুলো খুব একটা ভালো হচ্ছে না। পরে ক্যামেরা ও লেন্স কিনি। পূর্ণ গতি নিয়ে ছবি তোলা শুরু করি। তখন কোর্সে আসি ঢাকা মেডিকেলে। এর মধ্যেই শুক্রবার ঢাকা ও এর আশপাশে ডিএসএলআরে ছবি তোলা শুরু করি। ই-বার্ড নামে আন্তর্জাতিক একটি প্ল্যাটফর্মে এসব পাখির ছবির চেক লিস্ট দিই’, যোগ করেন ডা. শাওন।

ছবি তোলার জায়গা

ছবি তোলার স্থানগুলোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কেরাণীগঞ্জে নিউভিশন ইকো সিটি জলাশয়, ঢাকার বোটানিক্যাল গার্ডেন ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে আমরা ছবি তুলি। একই সঙ্গে ঢাকার বাইরে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানসহ কক্সবাজার থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সুন্দরবন ও সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারে বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশে ছবি তুলি। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ভূমে-চরে, যেমন—মুন্সীগঞ্জের চর, রাজশাহীর চর, পদ্মার চর, বাইক্কার বিল ও টাঙ্গুয়ার হাওড়সহ বিভিন্ন জায়গায় আমরা ছবি তুলি।’

শখের বশে ফটোগ্রাফি

শখের বশে নিজের খরচেই এ কাজ করেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ছোট বেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল কিছুটা অবদান রাখার। বিভিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা জায়গায় গেলাম—সেখানে পাখির কি প্রজাতি আছে, তার একটি চেক লিস্ট তৈরি। এগুলো বিভিন্ন প্লাটফর্মে দিচ্ছি। এতে একটা রেকর্ড থেকে যাচ্ছে, ই-বার্ডে থেকে যাচ্ছে। ই-বার্ড যতদিন থাকবে, তত দিন এই রেকর্ডটা থেকে যাবে।

ফটোগ্রাফিতে যেসব ঝুঁকি

আবিষ্কারের নেশায় এ কাজ করতে গিয়ে কখনো কোনো ঝুঁকিতে পড়েছেন কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. শাওন বলেন, ‘ঝুঁকি অবশ্যই আছে। বনে-জঙ্গলে সাপের উপদ্রব আছে। অনেকে আবার সাপের ছবিও তোলে। আমরা সাধারণত দিনের বেলায় ছবি তুলি। মূলত শীত মৌসুমে কাজ করি, বর্ষা বা অন্য মৌসুমে কম যাই। সাপের উপরে গিয়ে না পড়লে সাপ আঘাত করে না। দ্বিতীয়ত শীতকালে অথবা দিনে সাধারণ সাপ বের হয় না, এরা মূলত রাত ও বর্ষায় বের হয়।’

এ নিয়ে একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ছবি তুলতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় গিয়েছিলাম। সেখানে বন্য হাতির আনাগোনা আছে। আমরা যাওয়ার কিছুক্ষণ আগেই, একদল হাতি ওই জায়গা অতিক্রম করেছে। এ রকম চিহ্ন আমরা পেয়েছি। ওই জায়গায় এমনও শুনেছি, হাতি দেখে কেউ কেউ দৌড়ে পালিয়েছে। তবে আমরা কখনো এমন পরিস্থিতিতে পড়িনি।’

আরেকটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত ডিসেম্বর মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে গিয়েছি, কিছু বিরল প্রজাতির পাখির ছবি উঠানোর জন্য। ওখানে কিছু জায়গা বেশ পিচ্ছিল ছিল। সেখানে পড়ে গিয়ে ক্যামেরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি হালকা আঘাতও পাই। এ রকম কিছু দুর্ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া অনেক সময়ই পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে যেতে হয়। ফলে ফটোগ্রাফারদের বহনকারী অটোরিকশা উল্টে যাওয়ার ঘটনাও প্রায়ই ঘটে।’

তিনি বলেন, আমরা সাধারণত এমন অঞ্চলে যাই, যেখানে আবাসনের জন্য সরকারি পর্যায়ের অবকাঠামোও নেই। ফলে গ্রামবাসীর বাসায় থাকতে হয়। থাকা ও খাওয়া বাবদ টাকা দিই।

ফটোগ্রাফিতে বাধা

অনেক সময় ছবি তোলায় বাধার মুখে পড়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক জায়গায় আবাসন কোম্পানিগুলো নিরাপত্তা প্রহরী বসিয়ে দেন। তারা মাঝে মাঝে খুব দুর্ব্যবহার করেন। এমনকি পরিচয় দিলেও। ক্যামেরা দেখলেই এমনটি করে। জানি না, কেন করে?’

তবে নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে কখনো সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতা চাননি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোথাও গিয়ে পাখির ছবি তুলবো, এতেই আমরা খুশি। আমাদের চাওয়া-পাওয়া খুবই কম।’

ডা. শাওন বলেন, এ ছাড়া অনেক জায়গায় ঝোপ কাটা ও পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। জলাশয়গুলো নষ্ট করা হয়েছে, ওখানে মাছ রক্ষার জন্য জাল পেতে রাখা হচ্ছে। অসংখ্য পাখি ওই জালে আটকা পড়ছে, মারা যাচ্ছে। 

তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের জন্য চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আমরা চাই, প্রকৃতি বেঁচে থাকুক। এ নিয়েই তো আমাদের জীবন। প্রকৃতির এক অংশ আরেক অংশের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এখন যেসব অরণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আমরা আগে সেখানে পাখির কলকাকলি শুনতাম। পাখির ছবি তুলতে পারলেই আমরা খুশি হয়ে যেতাম। মন অভাবনীয় ভালো হয়ে যেতো। কিন্তু প্রকৃতি ধ্বংসের আয়োজন দেখে মন খারাপ হয়ে যায়। এ কারণে ঢাকা ও এর আশপাশে ছবি তোলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। দূরে গেলেই হয় তো ছবি তোলা হয়।’

তিনি বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে ছোট ঝোপের মধ্যে কিছু পাখি থাকে, সেগুলো কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা সব জায়গায় দেখছি। খবর পেলাম, সেখানে গোপনে পাখি শিকার করা হচ্ছে। জেলেদের সংখ্যা বেড়ে গেছে। জাতিসংঘের সুরক্ষিত অঞ্চল হওয়ার পরও ঝোপ পরিষ্কার করে গরু পালনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

হুমকির মুখে দেশের জীববৈচিত্র

পাখির জন্য বাংলাদেশ খুবই সমৃদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণ-পূর্বে বার্মা প্লেট আর উত্তরে হিমালয়ের প্লেট, ইন্ডিয়ান প্লেট। এই দুটির সংযোগস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশ। ফলে জীব বৈচিত্র বিশেষ করে পাখির দিক থেকে অনেক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। একটি ছোট দেশে প্রায় ৭২০ এর অধিক প্রজাতির পাখির রেকর্ড হয়েছে। এতো কম জায়গায় এতো পাখি থাকা সারাপৃথিবীতে একটি বিরল ব্যাপার। প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করার ফলে বাংলাদেশের জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়ছে।

প্রেরণায় যারা

চিকিৎসা পেশার সঙ্গে বিপরীতমুখী হওয়ার পরও কীভাবে নতুন নতুন পাখি শনাক্তে কাজ করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অনেক চিকিৎসক ফটোগ্রাফি করেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শামীম হাসান নিয়মিত পাখির ছবি তোলেন। এ হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় পরিচিত এই শিশু বিশেষজ্ঞ। ডিজি হেলথের ডা. শামীম রেজওয়ান খুব ভালো একজন ফটোগ্রাফার। এক্ষেত্রে তিনি পথপ্রদর্শক। এ ছাড়া আমি ছোট থেকেই যাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি, তিনি ডা. রোনাল্ড হালদার। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই ডেন্টিস্টের রেকর্ড করা পাখির বেশ কিছু কল প্রকাশ করেছে রেকর্ড বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান হিজ মাস্টার্স ভয়েস (এইচএমভি)। স্কুলে পড়ার সময় এ তথ্য জেনে আমি অনুপ্রাণিত হই। স্বপ্ন দেখি, সুযোগ পেলে আমি এই কাজগুলোতে সম্পৃক্ত হবো।

ফটোগ্রাফিতে প্রশান্তি

সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যকে সামনে রেখে ফটোগ্রাফি করেন না জানিয়ে ডা. শাওন বলেন, নতুন নতুন প্রজাতির পাখির ছবি তোলার প্রবল ইচ্ছা লালন করেন তিনি। এর মধ্যেই প্রশান্তি খোঁজে ফেরেন।

এক নজরে ডা. শাওন

ডা. শাওন কুমার দেবের জন্ম পাবনা শহরে। বাবা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, মা ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স করেছিলেন। শাওন মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০০২ সালে এসএসসি ও নটরডেম কলেজ থেকে ২০০৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে ২০০৫-০৬ সেশনে ভর্তি হন তিনি। বুয়েটে পড়ার সুযোগ পেলেও পরিবার ও নিজের চূড়ান্ত ইচ্ছায় শেষ পর্যন্ত মেডিকেলে ভর্তি হন। ডা. শাওন ২০১১ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। ২০১২ সালে ইন্টার্নশিপ করেন। ২০১৪ সালে কার্ডিওজিতে ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হন। ৩৩তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডার হিসেবে সুজানগর উপজেলার তাঁতীবন্দ সাব সেন্টারে যোগ দেন তিনি। ২০১৯ সালে কোর্স সম্পন্ন হয়। এর পর থেকে মিডফোর্ড হাসপাতালে কার্ডিওলজি বিভাগে কর্মরত আছেন।

এমইউ/এসএস

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
এনডিএফের কর্মশালায় বিশেষজ্ঞদের মত

দুর্নীতির লাগাম না টানলে বড় বরাদ্দেও সুফল মিলবে না

এনডিএফের কর্মশালায় বিশেষজ্ঞদের মত

দুর্নীতির লাগাম না টানলে বড় বরাদ্দেও সুফল মিলবে না

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত