ইতিহাস সংরক্ষণের পদক্ষেপ সলিমুল্লাহ মেডিকেলের
মেডিভয়েস রিপোর্ট: নিজেদের সঠিক ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে দেশের প্রাচীনতম স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল। ‘ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার’ শিরোনামে হাসপাতালের দ্বিতীয়তলার দেয়ালে দৃষ্টিনন্দন আয়োজনে প্রতিষ্ঠানটির গৌরবময় অজানা ও অপ্রকাশিত নানা ছবি ও তথ্য তুলে ধরা হয়।
এতে স্থান পেয়েছে লর্ড ডালহৌসির মিটফোর্ড হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্তসহ এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, হাসপাতাল নির্মাণ ও বিভিন্ন ভবন সংস্কার এবং পরিচালনায় ঢাকার নবাব পরিবারের উল্লেখযোগ্য ভূমিকাসহ দাতাগণের নামের তালিকা।
এ বিষয়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও অধ্যাপক ডা. আহমেদ হোসেন মেডিভয়েসকে জানান, প্রতিষ্ঠানটির প্রথমে মিটফোর্ড ডালহৌসির উদ্যোগ নিয়েছিল, যা পরবর্তীতে আমাদের দেশের স্যার সলিমুল্লাহ্ ও খাজা আহসান উল্লাহ ছাড়াও অনেক দানবীর এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য অর্থ ও অন্যান্য সকল সহযোগিতার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন।
এদিকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ সাত্তার সরকার জানান, লর্ড ডালহৌসি ও ঢাকার সাবেক সিভিল সার্জন ডা. আলেক্সান্ডার সিম্পসন ও লর্ড মিটফোর্ডসহ সকলে মিলে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেন। এর পেছনে দেশের অনেকের অবদান রয়েছে। আজকে ‘ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার’ বা শিকড়ের সন্ধানে উদ্যোগটির গুরুত্ব অপরিসীম। এর মাধ্যমে হাসপাতালের পরিচালক বিভিন্ন অজানা ও অপ্রকাশিত ছবি ও তথ্য তুলে ধরেছেন, যা সঠিক ইতিহাসকে জানার ভালো একটি মাধ্যম।
এ উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করে মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা বলেছেন, ইতিহাস সংরক্ষণের এই উদ্যোগ ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে প্রেরণা হয়ে থাকবে।
ইতিহাস সংরক্ষণের এই উদ্যোগের বিষয়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অবস্টেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনিকোলজি বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপক ডা. আফরোজা কুতুবী জানান, ‘মিটফোর্ড হাসপাতালের ঐতিহাসিক স্থাপনার পেছনে অনেক গুণী মানুষের অবদান রয়েছে। যারা এই প্রতিষ্ঠান তৈরির মাধ্যমে ঢাকাবাসীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছিল, তাদের অবদান আমাদের জানা খুব প্রয়োজন ছিল। আমি সম্পন্ন বিষয় জানতে পেরে উৎসাহিত ও আনন্দিত হয়েছি।’
এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অনেক অজানা বিষয় জানতে পেরে অভিভূত প্রতিষ্ঠানটির ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা।
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের (ইচিপ) সাধারণ সম্পাদক ডা. আসাদুজ্জামান শান্ত বলেন, ‘এটি সর্ব প্রাচীন একটি হাসপাতাল। এই প্রতিষ্ঠানটির সবটুকু ইতিহাস সবার জানা ছিল না। কালেরক্রমে হয়তো এগুলো অজানা থেকে যেত। কিন্তু এই সঠিক ইতিহাস আমাদেরকে জানানো ও সংরক্ষণের জন্য আমাদের হাসপাতালের পরিচালক স্যারকে ধন্যবাদ জানাই।’
অনুভূতি জানতে চাইলে কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ ইতিহাস ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দেলনের সময় আমাদের স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, যেটা আমরা ‘ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার’ শিরোনামে বিভিন্ন অজানা তথ্য জানতে পারছি। এজন্য পরিচালক স্যারের নিকট আমার কৃতজ্ঞ।’
কলেজের বিদেশি শিক্ষার্থী জানান, এই মেডিকেল কলেজের ইতিহাসকে জানার জন্য এটি একটি ভালো উদ্যোগ। কলেজের ইতিহাসকে জানার জন্য এটি একটি দুর্দান্ত সুযোগ।
কলেজের আরেক শিক্ষার্থী নাফিসা বলেন, ‘এই কলেজের অনেক কিছু আমাদের জানা ছিল না। পরিচালক স্যারের এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার ফলে অজানা ইতিহাস জানতে পেরেছি। ভবিষ্যতে যারা এখানে ভর্তি হবেন, তারা সঠিক ইতিহাসটা জানতে পারবে। এই সঠিক তথ্য সংগ্রহের ফলে আমাদের জন্য ফলপ্রসু হয়েছে, যা আমাদেরকে অনুপ্রেরণা দিবে।’
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. কাজী মো. রশিদ-উন-নবী বলেন, ‘আমি এই হাসপাতালে আসার পর এর গৌরবময় ইতিহাস জানার চেষ্টা শুরু করি। উইকিপিডিয়াতে কিছু তথ্য আছে। অন্য জায়গায় আরেক তথ্য আছে, যা পুরোপুরি সঠিক নয়।অনেক সাধারণ মানুষ পুরাতন ঢাকা ও মিটফোর্ড হাসপাতালের ইতিহাস জানার চেষ্টা করেছে। তাই আমি বিভিন্ন জায়গা থেকে হাসপাতালের ইতিহাসের সঠিক তথ্য খুঁজে পেয়েছি।’
তথ্য সংগ্রহের কাজে সহযোগিতায় জড়িত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মিটফোর্ড হাসপাতালের সঠিক তথ্য সংরক্ষণের জন্য মেডিকেলের কিছু পুরাতন শিক্ষার্থী অনেক বেশি নিবেদিত ছিল। তাদের এই কাজ আমাকে আশ্চর্যান্বিত করেছে। তখন থেকেই আমি সবসময় ভাবতাম কীভাবে প্রতিষ্ঠানটির গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণ করবো। যা ইতোমধ্যে সম্ভব হয়েছে।’
এআইডি