‘দেশের হাসপাতালগুলোতে বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাচ্ছে’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশের মানুষ দেশেই সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।
আজ শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব কনভেনশন হলে বাতব্যথা রোগীদের সচেতনতামূলক এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
'বাত রোগে পরাজয় নয়, জীবন যুদ্ধে করবো জয়' এই স্লোগানে ৭ম বাতব্যথা রোগীদের সচেতনতামূলক এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে প্রফেসর নজরুল রিউমাটোলোজি ফাউন্ডেশন এন্ড রিসার্চ (পিএনআর এফআর) ট্রাস্ট।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন বলেন, দেশে ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংখ্যা ৩১ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সব ধরনের চিকিৎসা গ্রামের গরিব অসহায় মানুষ পাচ্ছেন। জেলা হাসপাতালগুলোকে ৫০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যা, ২৫০ শয্যারগুলোকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশে নতুন প্রায় ৩৩টি সরকারি এবং ৭৩টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকা শহরে ১০টি স্পেশালাইজড হাসপাতাল করা হয়েছে। এসব স্থানে অত্যন্ত উন্নতমানের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। আজকে বাংলাদেশের মানুষ দেশেই সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। এ সব কিছুর পেছনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান রয়েছে।
ডা. এনামুর রহমান বলেন, আমি প্রায় ৪৫ বছর যাবত চিকিৎসা পেশায় যুক্ত। আমি দেখেছি রিউমাটোলজি রোগগুলোতে শুধুমাত্র ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে দিন কাটিয়েছে এবং নানা ধরনের জটিলতায় ভুগেছে। কারো পেপটিক আলসার, কারো রেনাল ফেইলিওরসহ বিভিন্ন রোগ হয়েছে। কিন্তু রোগ থেকে মুক্তি পায়নি। রিউমাটোনোলজি বিভাগ উন্নতির কারণে এবং ডাক্তার নজরুল ইসলামের মতো নেতৃত্ব এগিয়ে আসায় আজকে মানুষ সচেতন হয়েছে, মানুষ সিমটোমেটিক চিকিৎসার চেয়ে স্থায়ীভাবে সেরে ওঠার চিকিৎসা নিচ্ছে। যেটাকে আমরা ডিজিজ মডিফাইড ট্রিটমেন্ট বলি। ফলে স্থায়ীভাবে এই অসুখগুলো সেরে যাচ্ছে, পাশাপাশি রোগীর কার্যক্ষমতাও ঠিক থাকছে। আমাদের রিউমাটোলজি চিকিৎসকের দ্বারা সমাজে এই চিকিৎসার প্রসার ঘটছে।
তথ্য অনুযায়ী, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের বয়সজনিত বাতের প্রকোপ বাড়ে। আমাদের দেশে শতকরা প্রায় ২৬ ভাগ মানুষ জীবনের কোন না কোন সময় বাতের রোগে ভোগেন। হাটুব্যথা বাত বা অস্টিওআথ্রাইটিস-এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশী (৭.৭%)। এই হার বিবেচনায় দেশে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। এমন বাস্তবতায় বাতব্যথার রোগীদের সচেতন করা ও সহযোগিতার লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয়েছে প্রফেসর নজরুল রিউমাটোলোজি ফাউন্ডেশন এন্ড রিসার্চ (পিএনআর এফআর) ট্রাস্ট। অন্যান্য বছরের মতো এবারও রোগীদের সচেতনতামূলক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে বাত ব্যথার রোগীদের ওপর সায়েন্টেফিক প্রেজেন্টেশনও থাকবে।
অনুষ্ঠানে পিএনআরএফআর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পথিকৃৎ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সাইন্সের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক লিয়াকত আলী, সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম কামাল হোসেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ফাউন্ডেশনের সাবেক সভাপতি ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল প্রমুখ।