স্লিপ অ্যাপনিয়া সম্পর্কে আরও গবেষণা দরকার: ডা. এনাম
মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্লিপ অ্যাপনিয়া সম্পর্কে আরও গবেষণা ও প্রকাশনা দরকার বলে মনে করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।
রোববার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর হোটেল প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে স্লিপ অ্যাপনিয়া বিষয়ক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া সম্পর্কে আরও গবেষণা ও প্রকাশনা দরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গবেষণার উপর জোর দিয়েছেন। তিনি গবেষণার জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে থাকেন। প্রত্যেকটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজে গবেষণার জন্য আলাদা বরাদ্দ দিয়ে দিয়েছেন তিনি।’
চিকিৎসকদের উদ্দেশে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা ব্যস্ততার মাঝেও গবেষণা চালিয়ে যাবেন। আপনারা গবেষণালব্ধ জ্ঞানের প্রকাশনার মধ্যে দিয়ে স্লিপ অ্যাপনিয়া নিয়ে সুন্দর ব্যবস্থাপনা তৈরি করবেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বিএসএমএমইউতে স্লিপ অ্যাপনিয়া সেন্টার করা হয়েছে, যেখানে রোগীদের স্ক্রিনিং ও ডায়াগনোস্টিক করা হয়। এখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা বর্তমানে সময়োপযোগী ও সঠিক সিদ্ধান্ত। যখন কোনো ডিসিপ্লিন ও সাব ডিসিপ্লিনে কোনো আলাদা ইউনিট করা হয়, তখন এর চিকিৎসা ও গবেষণার মান বেড়ে যায়। স্পষ্টভাবে সেখান থেকে একটি পরিসংখ্যান চলে আসে।
তিনি আরও বলেন, স্লিপ অ্যাপনিয়া শব্দটি অনেকদিন ধরে বাংলাদেশে এসেছে। আগে এ সম্পর্কে মানুষের কোনো ধারণা ছিল না। এটি ঘুমের সময় নিঃশ্বাস গ্রহণ করতে ব্যাঘাত ঘটায়। এর প্রধান লক্ষণ হচ্ছে নাক ডাকা। প্রত্যেকটি স্লিপ অ্যাপনিয়া রোগীই নাক ডাকে। এ রোগে আক্রান্তদের রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে ও বেড়ে যায়। ফলে ঘুমের ব্যাঘাতের সাথে সাথে হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিওর, স্ট্রোক, হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস ও সাইকোসিসসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।
রোগের কারণ অনুসন্ধানে সম্পর্কে ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, যদি কারও নাকে পলিপস, কারও সাইনোসাইটিস থাকে, স্থূলতা বা ওজন বৃদ্ধির ফলে, ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বড় টনসিল ও এডিনয়েডসহ বিভিন্ন সমস্যা থাকলে স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
তিনি বলেন, আগে এই সমস্যাগুলো খুব অবহেলিত ছিল। কিন্তু অ্যাসোসিয়েশন সার্জন অব স্লিপ অ্যাপনিয়া অব বাংলাদেশের উদ্যোগে ও প্রচারণায় দীর্ঘ কয়েক বছরে চিকিৎসকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। এখন কোনো নাক ডাকা রোগী আসলেই নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে রেফার করে। ফলে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় হয়। বিশ্বে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতেই তাদের সমস্যার সমাধান হয়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের চাহিদা ছিল চিকিৎসকদের জন্য পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন পদটি আরও সহজ ও উন্মুক্ত করে দেওয়া। চিকিৎসকদের অধিক হারে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনে সুযোগ করে দেওয়া। আমাদের দেশে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করা চিকিৎসকের খুব সঙ্কট ছিল। ফলে অনেকে বিদেশ থেকে ডাক্তার এনে হাসপাতাল চালাতেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ বর্তমানে প্রত্যেকটি ডিসিপ্লিনে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন এবং অনেক নতুন নতুন ডিসিপ্লিন চালু করেছে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন কোর্স চালু করার ব্যবস্থা করেছেন। এর সুফল ইতিমধ্যে আমরা পাচ্ছি। আমি ওনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’