‘যক্ষ্মার চিকিৎসা ও ওষুধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ যক্ষ্মা নিরোধ সমিতির (নাটাব) আঞ্চলিক কো-অডিনেটর হেলাল খন্দকার বলেছেন, যক্ষ্মা একটি প্রাচীন ঘাতক ব্যাধি, প্রতি বছর বহু লোক এ রোগে মারা যান। আগে এই রোগের চিকিৎসা ছিল না, কিন্তু বর্তমানে যক্ষ্মার চিকিৎসা ও ওষুধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
আজ শনিবার (১৯ নভেম্বর) সকালে বাংলাদেশ যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি (নাটাব) বান্দরবানের কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের হলরুমে বান্দরবান জেলা শাখা কর্তৃক আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশ যক্ষ্মা নিরোধ সমিতির (নাটাব) আঞ্চলিক কো-অডিনেটর হেলাল খন্দকার এ সভাটি পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, যক্ষ্মা একটি প্রাচীন ঘাতকব্যাধি, প্রতি বছর বহু লোক এ রোগে মৃত্যুবরণ করে। আগে এই রোগের চিকিৎসা ছিল না, কিন্তু বর্তমানে যক্ষ্মার চিকিৎসা ও ওষুধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে নাটাব ১৯৪৮ সাল থেকে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। নাটাব যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের সুস্থ করে তোলার ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।
হেলাল খন্দকার বলেন, নাটাব যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের সুস্থ করে তোলার ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। নাটাব সরকারের যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অংশীদার হিসেবে ২০০৪ সাল থেকে যক্ষ্মা রোগীদের চিকিৎসা সর্ম্পকে সচেতন করে তোলা এবং তাদের চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসার জন্য সুশীল সমাজকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে আসছে, এসব কর্মসূচির মধ্যে অ্যাডভোকেসি সভা, বার্ষিক যক্ষ্মা সম্মেলন, র্যালি ও আলোচনার মাধ্যমে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস উদযাপন,ওয়ার্কশপ, রোগীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ অন্যতম।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ যক্ষ্মা নিরোধ সমিতির (নাটাব) বান্দরবান জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোমেন চৌধুরী। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, যক্ষ্মা একটি মরণব্যাধি। তবে এখন সময়ের পরিবর্তনে এই রোগের চিকিৎসা এবং ওষুধ রয়েছে আর সঠিক চিকিসা ও নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে এই রোগ সহজেই সেরে যায়।
তিনি আরো বলেন, কারো এক নাগাড়ে দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে কাশি, খাবারে অরুচি, পিঠের হাড় বাঁকা, গলায় বা শরীরে যেকোনো জায়গায় গুটি, বুকে অথবা পিঠের ওপরের অংশে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতাবোধের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে যক্ষ্মা পরীক্ষা করাতে হবে আর পরীক্ষার ফলাফল পজেটিভ হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিনামূল্যে ওষুধ সংগ্রহ করে খেতে হবে।
বান্দরবানের কোথাও কারে যক্ষ্মা রোগেরে লক্ষণ দেখা দিলে তাঁর সাথে যোগাযোগ করা এবং বিনামূল্যে পরীক্ষা ও ওষুধ গ্রহণের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান মোমেন চৌধুরী।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বান্দরবান সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আলমগীর বলেন, এক টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কারো কাশি আর জ্বর দেখা দিলে আতংকিত না হয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে যোগাযোগ করলে বিনামূল্যে সরকারি হাসপাতালে যক্ষ্মা রোগের পরীক্ষা করা যায়। পরীক্ষা শেষে যক্ষা রোগ সনাক্ত হলে বিনামুল্যে সরকারী হাসপাতাল থেকে ওষুধ গ্রহণ করে নিয়মিত সেবন করলে এই রোগ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। এ ছাড়া সবাইকে সচেতন থাকা এবং রোগব্যাধি দেখা দিলে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।
সভায় বান্দরবান কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হক, ডা. আবদুল হক সজীব উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা উপস্থিত থেকে এই সভায় অংশ নেন।