২৬ অক্টোবর, ২০২২ ১১:০৭ এএম

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, চার্জার লাইট ও মোবাইল টর্চের আলোয় সফলভাবে ৭ ডেলিভারি সম্পন্ন 

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, চার্জার লাইট ও মোবাইল টর্চের আলোয় সফলভাবে ৭ ডেলিভারি সম্পন্ন 
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হাসপাতালে চার্জার লাইট, মোবাইলের টর্চ ও মোমবাতির আলোয় ঝুঁকি নিয়ে সাত ডেলিভারি সফলভাবে সম্পন্ন

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হাসপাতালে চার্জার লাইট, মোবাইলের টর্চ ও মোমবাতির আলোয় ঝুঁকি নিয়ে সাত ডেলিভারি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক দল চিকিৎসক।

মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভেরিফাইড পেইজে এ তথ্য জানানো হয়। সোমবার (২৪ অক্টোবর) রাত থেকে পরেরদিন মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এই ডেলিভারি সম্পন্ন করা হয়। 

এত বলা হয়েছে, ‘বঙ্গোপসাগরের কাছে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা সুন্দরবনের নিকটবর্তী মোংলা উপজেলাতে সোমবার (২৪ অক্টোবর) সিত্রাংয়ের তাণ্ডব চলাকালীন প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে একে একে আট জন গর্ভবতী মা হাসপাতালে এসে ভর্তি হন। এর মধ্যে ভোর থেকে ইলেকট্রিসিটি নাই। চার্জার লাইট, মোবাইল টর্চ আর মোমবাতির আলো দিয়ে কাজ করেছে মেডিকেল অফিসার, সিনিয়র ষ্টাফ নার্স, মিডওয়াইভস, আয়া, ওয়ার্ড বয়, পরিচ্ছন্নতা কর্মী।’

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘লেবার ওয়ার্ডে রোগী রাখার জায়গা নাই। এক্সট্রা বেড দিয়ে রোগী ভর্তি রাখতে হয়েছে। আমাদের টিম মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সফলভাবে সাত জন মা'র ডেলিভারি সম্পন্ন হয়। গতকাল সারারাত অনেক চেষ্টা করেও একজন মা’র ডেলিভারি করানো সম্ভব হয়নি। অবশেষে মঙ্গলবার ভোরবেলা তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। বাকি সাত জন মা এবং শিশু সুস্থ আছে, ভালো আছে। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং আমাদের যতই রক্ত চক্ষু দেখাক, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা তাতে মোটেও ভীত নয়! মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিম সারা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও উপস্থিত থেকে দারুণভাবে সেবা কার্যক্রম চালু রেখেছে, তাদেরকে ধন্যবাদ জানালেও সেটা খুব কম হয়ে যায়!’

মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহীন হোসেন মেডিভয়েসকে বলেন, ঘূর্ণিঝর শুরু হওয়ার পর থেকে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিলো না। হাসপাতালের জেনারেটরের তেল ফুরিয়ে গেছে। চার্জার লাইট, মোবাইলের টর্চ ও মোমবাতির আলো দিয়ে আামদের সাতজনের ডেলিভারি সম্পন্ন করতে হয়েছে।  

তিনি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় কাজ ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো। মোংলা উপকূলীয় এলাকায় বন্যার মধ্যে রোগীরা আসছে অনেক কষ্ট করে। যার কারণে ওইদিন রাতে অভিজ্ঞ নার্স, চিকিৎসক সবাই উপস্থিত থেকে নরমাল ডেলিভারিগুলো সম্পন্ন করেছে। তবে একটা ডেলিভারি করা যায়নি। কারণ তার ব্যাথা না থাকায় ডেলিভারি প্রসেস খুবই ধীর ছিলো। যার কারণে তার সিজারের প্রয়োজন হয়েছে। আর এই উপজেলাতে সিজারের সুযোগ-সুবিধা না থাকায় তাকে খুলনা পাঠাতে হয়েছে। 

অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ডাক্তাররা সব সময় ঝুঁকি নিয়েই কাজ করে। এই উপজেলা ঢাল নেই তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দার। কোনো বড় ধরনের সহযোগীতা ছাড়াই প্রাইমারি স্তরের হাসপাতালে অল্প সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে এই হসাপাতাল চলছে। আর উপকূলীয় হাসপাতালগুলো আরও অবহেলিত। এই রকম পরিস্থিতিতে রোগীদের অন্য কোথাও যাওয়ার সুযোগ না থাকায় ওই রাতে আমরা রোগীদের সেবা দিতে পেরে গর্বিত। ডেলিভারি সম্পন্ন করার পরে সকালে যখন রোগীর আত্মীয়-স্বজন আমাদের জন্য কৃতজ্ঞতাস্বরূপ মিষ্টি নিয়ে আসে, এটাই ভালো লাগা। দুর্যোগকালীন সময়ে সেবা দিতে পেরে আমরাও খুশি। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।