নিরাপদ হলের দাবিতে শেবাচিম শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: নিরাপদ হলের দাবিতে অধ্যক্ষের কার্যালয় ও প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
আজ বুধবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে তারা বিক্ষোভ শুরু করে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস, পরীক্ষাসহ একাডেমিক সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
তাদের দাবিগুলো হলো-
১. বসবাসের অনুপোযোগী হলকে পরিত্যাক্ত ঘোষণা।
২.হলে বসবাসকারী প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মধ্যবর্তীকালীন বাসস্থানের ব্যবস্থা করা।
৩. নতুন হলের ভিত্তির প্রস্তর স্থাপন করা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রতিটি হলের অবস্থাই জরাজীর্ণ। প্রায় প্রতিনিয়তই হলগুলোর ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ে। এতে অনেক সময় অনেক শিক্ষার্থী আহত হচ্ছেন।
তারা বলেন, ‘গত পাঁচ বছর ধরে অফিসিয়ালি বলে আসছি, কিন্তু কোনো সমাধান পাচ্ছি না। এজন্য এবার কঠোর অবস্থানে আসতে বাধ্য হয়েছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে।’
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, হলে অনিরাপদ অবস্থায় থাকতে হচ্ছে তাদের। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলছে। তাদের জীবন যদি সংকটাপন্ন হয়, তাহলে রোগীর জীবন বাঁচাতে কাজ করবে কিভাবে।। এজন্য নিরপাদ আবাসন নিশ্চিত করার আন্দোলন করছেন তারা।
আবাসন সংকট নিরসনের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, ‘আমাদের অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু হল নির্মাণ করা হয়নি। আবাসন সংকট নিরসনে নতুন হল নির্মাণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
‘প্রশাসনকে বারবার বলার পরও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে জানান শিক্ষার্থীরা। পলেস্তরা খসে পড়ে বিভিন্ন সময় অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আমরা চাই না, আর কোনো শিক্ষার্থী কোনো দুর্ঘটনার শিকার হোক। যতক্ষণ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম দেখবো না, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।’
জুনিয়র ব্যাচের ছেলে শিক্ষার্থীদের মর্গে থাকতে হয় জানিয়ে একাধিক শিক্ষার্থীক সাংবাদিকদের বলেন, কিছু ছাত্রের জন্য মর্গে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু মেয়েদের কমন রুমেরও ছাদের পলেস্তরা খসে খসে পড়ছে। মেয়েদের শিক্ষার্থীদের কোথায় রাখা হবে। তাদের নিরাপত্তা কে দিবে।
শিক্ষার্থীলা বলছেন, ‘একটি রুমে চার জনের স্থলে থাকতে হচ্ছে আট জন করে। এর পর নেই নিরপত্তা । পরিস্থতি কত খারাপ হলে আমাদের মর্গে গিয়ে উঠতে হয়। মর্গে আমরা জীবন্ত লাশ হয়ে বসে থাকতে হচ্ছে।’
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান শাহীন সাংবাদিকেদের বলেন, ‘সচিব মহোদয় কিছুক্ষণ আগে ফোন করে হোস্টেল সংস্কারের কথা বলেছেন। আমরা অতি দ্রুত কাজ শুরু করব। এ ছাড়া কলেজে দুইটি হোস্টেল নির্মাণ কাজ শিগগির শুরু হবে।’