১৩ জুন, ২০২২ ০৮:৫৭ পিএম

‘নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের ইউনিয়নে পাঠানোর পরামর্শ’

‘নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের ইউনিয়নে পাঠানোর পরামর্শ’
অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ। ছবি: সাঈদ

মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন চিকিৎসকদের দেশের চার হাজার ৫৭১টি  ইউনিয়নে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

আজ সোমবার (১৩ জুন) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য বাজেট ২০২২-২৩ আলোচনা সভায় এ পরামর্শ দেন তাঁরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন শিক্ষা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাশিদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ ও অধ্যাপক ড. রুমানা হক।

ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, ‘যখন পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়, তখন আমি একটা প্রস্তাব করেছিলাম। আমার প্রস্তাবে সবাই হেসেছিল। তাদের সবাইকে প্রতিটি ইউনিয়নে নিয়োগ দেই। তাদেরকে একটা বাড়ি ভাড়া করে দেই। তিন বা চার হাজার টাকা একটা বাড়ি ভাড়া লাগবে। এখানে অফিস ও রেসিডেন্সি থাকবে। সেই সাথে একটা মোটরসাইকেল ও একটা ল্যাপটপ কিনে দেই। চিকিৎসক আইটিতে কিছু কাজ করতে চাইলে করতে পারবে। সঙ্গে একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট দেই। একটা সেন্টার বানিয়ে দেই এবং এই ঘোষণা দেই যে, প্রতিবছর ইউনিয়নে দুই বা একটা মা মারা যায়। তারা যেন আর মারা না যান। এই প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে ভালো করবেন যিনি, তাঁকে ইউনিয়ন ডক্টর কনফারেন্সে গোল্ড মেডেল দেওয়া হবে। এটা তার পোস্ট গ্রাজুয়েশনে এডমিশন টেস্টে একটা মার্ক হিসেবে গণ্য হবে, যিনি যত ভালো করবেন, তিনি ২০ বা ৩০ শতাংশ মার্কস অটো পাবেন। তাহলে চিকিৎসকরা কাজের প্রতি আরো বেশি মনোযোগী হবেন। দুই বা তিন বছর পর অটো বেস্ট পোস্টিংয়ে ব্যবস্থা থাকতে হবে, বেস্ট পারফর্মেন্স পোস্টিং ইন ঢাকা। এগুলো করা গেলে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চিকিৎসকদের প্রতি মাসে বেতন দেই ৩০-৪০ হাজার টাকা। বিশাল পরিমাণে বিনিয়োগ তাঁদের পেছনে। এখন ইউএইচএফপিওগণ নানা বুদ্ধি করেন। তাদেরকে বিভিন্ন কাজ দেওয়া হয়। করোনার সময় নানা কাজ দেওয়া গেছে চিকিৎসকদের। বাস্তবিক উদ্দেশ্য ছিল, চিকিৎসকরা ইউনিয়নে ইউনিয়নে সেবা দিবেন। আমরা জিপি সিস্টেম চালু করতে চাই।’

অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে দুই ধরনের চিকিৎসা হয়, কোয়াক অ্যান্ড কনসালটেন্ট। মাঝখানে এক লাখ বা ৮০ হাজার মেডিকেল অফিসার ঘুরে ঘুরে বেড়ান, কাজ পান না। চিকিৎসক হওয়ার পরও তারা বাবার কাছে টাকা চান। আর বাবা বলেন, তোরে চিকিৎসক বানালাম কেন রে, আবার টাকা চাস? এর চেয়ে বড় সমস্যা এমবিবিএস চিকিৎসকদের জন্য আর নেই। এর সহজ সমাধান নেই। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।’ 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক