১৩ মে, ২০২২ ০৯:২৯ এএম
চিকিৎসক নিগ্রহ

ভুয়া রিপোর্টের প্রতিবাদ করায় চাকরিচ্যুত, পাওনা টাকা চেয়ে রক্তাক্ত

ভুয়া রিপোর্টের প্রতিবাদ করায় চাকরিচ্যুত, পাওনা টাকা চেয়ে রক্তাক্ত
গুরুতর আহত ডা. রবিন হাসান হাবিব।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ভুয়া রিপোর্টের প্রতিবাদ করায় সাময়িখ বরখাস্ত হয়েছেন রাজশাহীর শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রবিন হাসান হাবিব। পরে পাওনা টাকা চাওয়ায় তাঁকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে মালিকপক্ষের লোকজন।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) দুপুর দেড়টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে তাঁকে রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়।

এ সময় তাঁর মুঠোফোন, মানিব্যাগ আর মোটর সাইকেল কেড়ে নেয় মালিক পক্ষের লোকজন, যা এখন শাহমখদুম মেডিকেলেই রয়েছে।

গত দুই বছর ধরে ওই মেডিকেলে চাকরি করেন জানিয়ে ডা. রবিন হাসান হাবিব আজ শুক্রবার (১৩ মে) মেডিভয়েসকে বলেন, এক সময় এখানে কর্মরত ছিলেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের বায়োকেমেস্ট্রির স্বনামধন্য অধ্যাপক ডা. ইরফান রেজা। বেশ কিছু দিন আগে তিনি হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। এর পর তাঁর সিল ও সাইন নকল করে পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলোর রিপোর্ট দেওয়া হতো, যার সবই ভুয়া। একইভাবে আল্ট্রাসাউন্ডেরও ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া হতো হাসপাতালে।

ডা. রবিন হাসান হাবিবের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর এ নিয়ে হাসপাতালের এক পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেন তিনি এবং অনৈতিক এ কাজের প্রতিবাদ জানান। এর পর থেকেই তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয় কর্তৃপক্ষ।

এক পর্যায়ে ঠুনকো অযুহাত দেখিয়ে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে শোকজ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে যথাসময়ে শোকজের জবাবও দেন তিনি। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরও বলেন, ‘তারপরও আমাকে চাকরিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। স্থায়ী অব্যাহতিও দেওয়া হচ্ছে না। এর পর আমি চাকরি ফিরে পেতে এবং পাওনা টাকা চেয়ে আবার আবেদন করি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো জবাব দেয়নি। বাধ্য হয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে কোর্টের মাধ্যমে টাকা চেয়ে তাঁদের কাছে আইনি নোটিস দিই। আড়াই মাস হয়ে গেলো, এরও কোনো জবাব আসেনি। এরই মধ্যে অনলাইনে একটা ব্রেসলেস অর্ডার দিই আমি, গতকাল বৃহস্পতিবার সেই ব্রেসলেস আনতে গিয়ে হাসপাতাল চত্বরে তাদের আক্রমণের শিকার হই৷’

হামলার বর্ণনা দিয়ে ডা. হাবিব বলেন, ‘হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মনিরুজ্জামান স্বাধীন ও তার দুই ভাই মিঠু ও টিটু আমার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা রড দিয়ে আমাকে আঘাত করে। তাদের সঙ্গে আনুমানিক আরও ১৫ জন যোগ দেয়। ডা. মোজাম্মেল হক বেলাল (হাসপাতাল মালিকের বোনের স্বামী) আমাকে মারার ইঙ্গিত দিয়েছিল; কিন্তু তিনি সরাসরি গায়ে হাত তোলেননি। পরবর্তীতে আমাকে রক্ষার বাহানাও করেন ডা. বেলাল।’

এই হাসপাতালে মাঝে মাঝেই স্বাস্থ্যকর্মী নিগ্রহের ঘটনা ঘটে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু দিন আগে একই কারণে হাসপাতালের মালিকের ভাইয়ের স্ত্রীর হাতে মারধরের শিকার হন কর্মরত এক নার্স।

এ ঘটনায় ওই নার্স চন্দ্রিমা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু তদন্ত শুরুর আগেই চাপ প্রয়োগ করে মামলা মীমাংসা করতে বাধ্য করা হয় তাঁকে। পরবর্তীতে তিনি চাকরি ছেড়ে চলে যান।

ডা. রবিন হাসান হাবিব বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) থেকে ২০২০ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করেছেন। তিনি শেবাচিম ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নগরীর খরখরি এলাকায় অবস্থিত শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজের পাশে পান্থাপাড়া গ্রামে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাহ মাখদুম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘গতকাল এ রকম একটি ঘটেছে। সরেজমিনে এসে খোঁজ নিলে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।’

এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন চিকিৎসক শুধু কেন, সাধারণ কোনো মানুষও এভাবে নাজেহাল হোক তা আমি প্রত্যাশা করি না।’

শাহ মাখদুমে একজন অধ্যাপকের সিল ও সাইন নকল করে পরীক্ষার-নিরীক্ষার রিপোর্ট প্রদানের সত্যতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কোনো তথ্য দিতে পারছি না, দুঃখিত।’

হামলার ঘটনায় নিজেদের বক্তব্য জানতে হাসপাতাল মালিকের ভগ্নিপতি ও সহকারী পরিচালক ডা. মোজাম্মেল হক বেলালকে একাধিকবার চেষ্টা করেও ফোনে পাওয়া যায়নি। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : চিকিৎসক নিগ্রহ
রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস

রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস

রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক