করোনা নিয়ন্ত্রণ
দ. এশিয়ায় বাংলাদেশ প্রথম হওয়ার পেছনে অবদান স্বাস্থ্যে বড় নিয়োগ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনা নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম হওয়ার পেছনে চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্য খাতে বড় নিয়োগের ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
আজ মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) সকাল ১১টায় শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে ‘৬ষ্ঠ প্লাস্টিকন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ মত দেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা নিয়ন্ত্রণে দেশে দশ হাজার চিকিৎসক ও ১৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে করোনা নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে বাংলাদেশ।’
দেশে এ মহামারী সফল নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাপী প্রসংশিত হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ রোল মডেল হয়েছে। মাত্র একটি ল্যাবের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে সারাদেশের সাড়ে আটশ’ ল্যাব স্থাপন করা হয়েছিল। এখনও যা চলমান আছে। ২০ হাজার শয্যা তৈরি করা হয়েছে। ১৩০টি হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন স্থাপন করা হয়েছে, যা মাত্র ৪/৫টি হাসপাতালে ছিল। এক হাজার শয্যার দুটি ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছিল। একটি উত্তর সিটি করপোরেশনে, অন্যটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ), যেখানে চারশ’ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) শয্যা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভ্যাকসিনের আপনি উদার ছিলেন। আমরা যখনই ভ্যাকসিনের কথা বলেছি, আপনি বলেছেন, যত টাকা লাগুক ভ্যাকসিন নিয়ে আসো এবং সারাদেশে মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা করো। আমরা সেই কাজটি করেছি এবং দুইশ’ দেশের মধ্যে ভ্যাকসিন কার্যক্রম অষ্টম স্থানে রয়েছে।
দেশে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীসহ ৯৮ শতাংশ সম্মুখযোদ্ধাকে করোনাভাইরাসের টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দেশে ৭৫ শতাংশেরও বেশি মানুষ টিকার আওতায় এসেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন উৎস থেকে বাংলাদেশ সাড়ে ২৯ কোটি ভ্যাকসিন পেয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ২৩ কোটি ডোজ টিকা প্রয়োগ করা সম্ভব হয়েছে।
করোনা নিয়ন্ত্রণে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, করোনায় মৃত্যু প্রায় শূন্যের কোটায়। আক্রান্তের সংখ্যাও একের নিচে নেমে এসেছে। এটা ধরে রাখতে আরও সচেতনতা জরুরি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করা হয়। পাঁচশ’ শয্যাবিশিষ্ট এই ইনস্টিটিউটে চিকিৎসার অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে সর্বাধিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নতমানের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এখানে রোগীর চাপ অনেক বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের আট বিভাগে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপনের নির্দেশনা ও অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এগুলো চালু হলে এই ইনস্টিটিউটের ওপর চাপ অনেকাংশে কমে যাবে। এর মাধ্যমে পোড়া ও আহত রোগীরা সহজে সেপা পাবেন।
এ সময় পোড়া রোগী ও নানা দুর্ঘটনায় আহত রোগী বেড়ে যাওয়ায় সতর্কতামূলক অনুষ্ঠান বাড়ানোর পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
জাহিদ মালেক বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য খাতের ব্যাপক উন্নয়ন করেন। সারাদেশে ১৪ হাজার কমিটিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের মাধ্যমে মানুষের দোড়গোঁড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেন, যেখানে বিনামূল্যে ৩২ রকমের ওষুধ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার হাত ধরে স্থাপিত ইনস্টিটিউটগুলোর কল্যাণে সারাদেশের স্বাস্থ্য সেবার মান ব্যাপকভাবে উন্নত হয়েছে। এর ফলে দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে ৭৩ বছরে উন্নীত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হোন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন, সোসাইটি অব প্লাস্টিক সার্জন বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. হেদায়াত আলী খানসহ আরও অনেকে।