‘সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছাড়া অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োগ নয়’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সুনির্দিষ্ট লক্ষণ ও নির্দেশনা ছাড়া অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ব্যবহার না করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর (সিডিসি) ও মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম।
আজ রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দেশের করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত ভার্চ্যুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র বলেন, ‘করোনাকালে টিকার পাশাপাশি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের আবিষ্কার হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় উৎপাদিত এসব বাংলাদেশেও ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু আমাদের চিকিৎসকসহ বন্ধুদের কাছে আবেদন রাখতে চাই, সুনির্দিষ্ট লক্ষণ ও নির্দেশনা ছাড়া কোনো অবস্থাতেই এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার করবেন না, কোনো অবস্থাতেই যেন এসবের অপব্যবহার না হয়।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র জানান, গত দুদিনে সংক্রমণের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, তবে এটি নিম্নমুখী কি না, এ বিষয়ে এখনও বলার সময় হয়নি। তাই আত্মতুষ্টিতে ভুগা যাবে না। এ সময়ে আরও বেশি দায়িত্বের পরিচয় দিতে হবে। মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে নাজমুল ইসলাম বলেন, দেশে কোথাও কোথাও স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে, সেখানেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। এ ছাড়া বিভিন্ন কর্মসূচির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
তিনি বলেন, বইমেলা শুরু হবে, বিপুল লোক সমাগম হবে। সেখানে মেলা সংশ্লিষ্টরা যারা দায়িত্ব পালন করবেন তাদের নিকট অনুরোধ যাদের প্রথম রোগের টিকা নেওয়ার পর দ্বিতীয় রোগের টিকা নেওয়ার এসএমএস এসেছে, তারা যেন দ্বিতীয় ডোজের টিকাটি নেন।
এ ছাড়া যাদের বুস্টার ডোজের এসএমএস এসেছে, তারা দ্রুত ডোজটি নিয়ে নেন। বইমেলায় টিকা গ্রহণের সনদটি প্রদর্শন করতে হবে। যা সবার জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, যাদের দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগ রয়েছে, তাদের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করবেন এবং হাসপাতালে ভর্তি হতে হবেন।
এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৮ হাজার ৫৮৯ জন। এ সময় আট হাজার ৩৪৫ জনের দেহে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৮ লাখ ৬১ হাজার ৫৩২ জন।
এ সময় সারাদেশে বিভিন্ন হাসপাতাল ও বাড়িতে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা আট হাজার ১৫৯ জন। এ নিয়ে দেশে সুস্থ হয়েছেন মোট ১৬ লাখ দুই হাজার ৫৫০ জন রোগী।
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ সারাদেশে ৮৬৮টি পরীক্ষাগারে ৩৮ হাজার ২৪৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয় ৩৮ হাজার ৮২১টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়াল এক কোটি ২৭ লাখ ২৬ হাজার ৪০৯টি।
গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৬৩ ভাগ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক শূন্য নয় ভাগ। আর শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৫৪ ভাগ।