ধর্মঘটে কর্মস্থলে যেতে চিকিৎসকদের ভোগান্তি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে পরিবহন ধর্মঘটে কর্মস্থলে যেতে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসকরা। তারা জানিয়েছেন, কর্মস্থলে যেতে স্বাভাবিকের চেয়ে দশ গুণ বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে।
আর সিএনজি করে যেতে ৩০ টাকার পথ যেতে দিতে হয় ৩৫০ টাকা। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন নবীন চিকিৎসকরা।
আজ শনিবার (৬ নভেম্বর) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রাস্তায় কোনো গণপরিবহন নেই৷ বিআরটিসির কিছু বাস থাকলেও তা একেবারেই অপ্রতুল৷ রাস্তার মোড়ে মোড়ে গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীরা মাঝে মধ্যে এসব বিআরটিসির বাস দেখলেই পেছন পেছন দৌড়াচ্ছেন৷ পুরুষ যাত্রীরা কেউ কেউ উঠলে পারলেও নারীরা উঠতে পারছেন না৷ হুড়োহুড়ি করে উঠতে যেয়ে পড়ে গিয়ে অনেকে আহত হচ্ছেন৷
এছাড়া সিএনজি, রিকশা বা রাইড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে চালিত যানবাহনগুলোতে বাড়তি ভাড়া হাঁকতে দেখা গেছে৷ কয়েকস্থানে ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও চালকদের মাঝে বাক-বিতণ্ডা হতেও দেখা গেছে৷
রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ডা. মুহাম্মাদ আনিসুর রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমার কর্মস্থল বাসা থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দূরে৷ ব্যক্তিগত গাড়ি না থাকায় নিয়মিত বাসেই যাতায়াত করতাম৷ পরিবহন ধর্মঘটের কারণে বিপাকে পড়েছি৷ রিকশা-সিএনজি করে যাতায়াত করতে হচ্ছে৷ গুণতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া, যা আমাদের মত জুনিয়র চিকিৎসকদের জন্য অনেকটা বোঝা৷’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ব বাজারে যেখানে জ্বালানি তেলের দাম কমছে, সেখানে দেশীয় বাজার দামবৃদ্ধি অযৌক্তিক৷ আমি মনে করি, জ্বালানি তেলের দাম কমানো উচিত৷ জনজীবনে স্বস্থি ফিরাতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিবে বলে আশা করি৷’
চিকিৎসকদের গাড়ির ব্যবস্থার আশ্বাস
জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ক্লিনিক ও হাসপাতালসমূহ) ডা. ফরিদ হোসেন মিঞা মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আসলে ধর্মঘট হঠাৎ করে দেওয়া হয়েছে। আশা করি, অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে। আর যদি সমাধান না হয় চিকিৎসকরা যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, সে প্রতিষ্ঠান গাড়ির ব্যবস্থা করবেন। আমাদের বিআরটিসির গাড়ি আছে, তাও ব্যবস্থা করা যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংকটের সময় অনেক কিছুই করতে হয়, ধর্মঘট দীর্ঘায়িত হলে চিকিৎসকদের যাতায়াতের জন্য বিআরটিসির গাড়ির ব্যবস্থা করা হবে।’