০৬ নভেম্বর, ২০২১ ০৪:৪১ পিএম

চিকিৎসক যখন ইন্টেরিওর ডিজাইনার

চিকিৎসক যখন ইন্টেরিওর ডিজাইনার
ডা. নাঈমের বিশ্বাস, ইএনটির চিকিৎসায় ব্যতিক্রমী ও স্বস্তিদায়ক তাঁর এ টেবিলের ধারণা দেশের পাশাপাশি বহির্বিশ্বেও সমাদৃত হবে।

মো. মনির উদ্দিন: সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. নূরুল হুদা নাঈম। পেশায় দক্ষতা ও আন্তরিকতার পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি ইন্টেরিওর ডিজাইনিংয়ে রেখেছেন মেধার স্বাক্ষর। নাক-কান-গলা (ইএনটি) রোগীদের পরীক্ষার জন্য নিজ হাতে বিশেষ এক টেবিল ডিজাইন করেছেন এই সৌখিন চিকিৎসক। আর চমকপ্রদ টেবিলটির মাধ্যমে স্বস্তিদায়ক উপায়ে ইএনটি রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। 

সিওমেক হাসপাতালের কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সেন্টারে এই ইএনটি সার্জনের স্থাপিত টেবিলের অভিনবত্বে মুগ্ধ চার পাশের স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। রোগী ও চিকিৎসকবান্ধব এ টেবিলের আদল এরই মধ্যে নিজেদের চেম্বারে স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন দেশের অনেক জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক। ডা. নাঈমের বিশ্বাস, ইএনটির চিকিৎসায় ব্যতিক্রমী ও স্বস্তিদায়ক এ টেবিলের ধারণা দেশের পাশাপাশি বহির্বিশ্বেও সমাদৃত হবে।

ডা. নূরুল হুদা মেডিভয়েসকে জানান, শাস্ত্রমতে নাক-কান-গলার রোগী দেখার জন্য চিকিৎসকের সঙ্গে দূরত্ব থাকবে এক ফুট, যাতে এক হাত দিয়ে মাথাটিকে স্থির করে অন্য হাতে সহজে চিকিৎসা প্রদান করা যায়। তাছাড়া বিশেষ করে কানের ভেতরে মেশিন দিয়ে সাকশন দেওয়ার সময় প্রায়শ রোগীরা ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন; কখনও কখনও পড়ে যাবার উপক্রম হয়। এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ডিজাইন করা এই অভিনব ও নজরকাড়া টেবিলটি হয়েছে সর্বাধিক রোগীবান্ধব ও ডাক্তারের জন্য সহজ ব্যবহার উপযোগী। 

চিকিৎসক হয়েও শিল্পকর্ম রপ্ত করার নেপথ্যে 

ডা. নূরুল হুদা নাঈম বলেন, ‘আমি যখন আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে চাকরি শুরু করি, তখন খেয়াল করলাম—রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আমরা যে টেবিলগুলো নিয়ে বসি, তাতে চিকিৎসা প্রদানে বেশ অসুবিধা হয়। সাধারণত আমরা পাশে বসে রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করি। কিন্তু তাতে যথাযথভাবে তাদের সেবা প্রদান করা সম্ভব হয় না। সাধারণ টেবিলে বসিয়ে রোগীদের যখন চিকিৎসা দিই, তখন কানে সাকশন দেওয়ার সময় মাথা ঘুরিয়ে রোগীর পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই কারণে অনেক সময় রোগীর স্বজনদের তাকে ধরে বসে থাকতে হয়। কানের দুটি কাজ। একটি হলো, শোনা এবং দ্বিতীয়ত ভারসাম্য রক্ষা করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘নাক-কান-গলার চিকিৎসায় রোগী এবং চিকিৎসক কাছাকাছি না থাকলে চিকিৎসা প্রদানে অনেক সমস্যা হয়। এতে রোগী এবং চিকিৎসক কেউই স্বস্তি অনুভব করেন না। এ রকম অস্বস্তিকর উপায়ে চিকিৎসা দিলে চিকিৎসক খুব কম সময়ের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে যাবেন। এই অবস্থা চলতে থাকলে অল্প সময়ের ব্যবধানে স্বয়ং চিকিৎসককে কোমড় ব্যথার জন্য অর্থপেডিক্সের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এসব দিক বিবেচনা করে প্রথমে ইংরেজি বর্ণ ‘এল’ শেপের মতো একটি টেবিল বানিয়েছিলাম। কিন্তু এতে রোগীদের অতটা স্বস্তি মেলেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে থাকি, কিভাবে এটি রোগী এবং ডাক্তারের জন্য আরো স্বস্তিদায়ক করা যায়। এক পর্যায়ে এই বিশেষ ডিজাইনটি করতে সক্ষম হই।’

রোগী-চিকিৎসকের জন্য স্বস্তিদায়ক টেবিল 

‘নতুন ডিজাইনে টেবিলে রোগী ও চিকিৎসকের মাঝখানে ১০ ইঞ্চি দূরত্ব রাখা হয়েছে। রোগী যেন স্বস্তিদায়কভাবে হাতটা রাখতে পারে, সেই বিবেচনায় একটি জায়গা রাখা আছে টেবিলে। অর্থাৎ চিকিৎসা দিতে গিয়ে রোগীর পাশাপাশি চিকিৎসক নিজের হাতটা সুন্দর করে টেবিলে রাখতে পারেন এবং পূর্ণ স্বস্তি নিয়ে চিকিৎসায় মনোনিবেশ করতে পারেন। এ সময় রোগী চাইলে অবচেতন মনে টেবিলে ঘুমিয়েও পড়তে পারেন। এ ছাড়াও টেবিলে বিনের মতো একটি জায়গা রাখা হয়েছে, যেখানে চিকিৎসার সময় রোগীর মুখ থেকে ঝরা লালা কিংবা ময়লা রাখা যাবে। হাতের নাগালে থাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময়ও অনায়াসেই এখানে এসব ময়লা ফেলা যায়। একই সঙ্গে চিকিৎসকের পাশে একটি জায়গায় সাকশন মেশিনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি রাখার জায়গা আছে’, যোগ করেন ইএনটি সার্জন।

টেবিলটির বিশেষত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আরেকটি বিষয় হলো, কান দেখা বা পরিষ্কার করার সময় রোগী আরামে বসে থাকতে পারেন। কিন্তু চিকিৎসককে কোনও রকম সাপোর্ট ছাড়া দীর্ঘসময় কানের চিকিৎসা দিতে হয়, যা অনেক কষ্টসাধ্য। প্রথম দিকে সাধারণত আমাকে ৮০-৯০টা রোগী দেখতে হতো। এভাবে রোগী দেখতে গিয়ে হাত নাড়ানো যেতো না। দীর্ঘ সময় ধরে কোনো রকমের সাপোর্ট ছাড়া এভাবে রোগী দেখার কারণে হাতে তীব্র ব্যথা দেখা দিত। নতুন পদ্ধতিতে নির্মিত এ টেবিলের ওপর নিজের কনুইটা রেখে রোগী দেখার ব্যবস্থা আছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে একজন চিকিৎসক হিসেবে যথেষ্ট স্বস্তি পাই।’

ডা. নূরুল হুদা নাঈম বলেন, অনেক সময়ে কানের ভেতরে কিছু দিয়ে পরিষ্কার করার সময় যন্ত্রপাতি দেখে রোগী কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে নড়েচড়ে উঠেন। এতে তার কানের পর্দা ফুটো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এই টেবিলের কল্যাণে রোগী অযাচিতভাবে নড়াচড়ার সুযোগ পান না, এতে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটে যাওয়ার আশঙ্কাও দূর হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘স্বস্তিদায়ক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নিজের ব্যবহার উপযোগী করে প্রথমে আমার চেম্বারে এ রকম একটি টেবিল স্থাপন করেছিলাম। এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে আবাসিক সার্জন থাকাকালীন (২০০৮-২০১৩) আমার রুমে এ রকম একটি টেবিল নির্মাণ করেছিলাম, যা এখনো বহাল তবিয়তে আছে। টেবিলটি এক কথায় রোগীদের জন্য খুবই উপকারী এবং উপযোগী। ঢাকা থেকে আসা অনেক সিনিয়র চিকিৎসক এই আইডিয়াটি পরে নিজেদের চেম্বারেও প্রয়োগ করেছেন।’

টেবিল ছাড়াও চেম্বারে ডিজাইন করা ব্যাকগ্রাউন্ডও নিজ হাতেই অঙ্কন করেছেন ডা. নূরুল হুদা নাঈম, যার সমাহার অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে রুমের শোভা।

চিকিৎসক পরিচয়েই স্বস্তি 

দৃষ্টিনন্দন এবং রোগীবান্ধব এমন শৈল্পিক ডিজাইনে সিদ্ধহস্ত হলেও ইন্টেরিওর ডিজাইনার নয়, বরং চিকিৎসক পরিচয়কে মুখ্যজ্ঞান করেন ডা. নাঈম। তিনি বলেন, ‘আমি আসলে ইন্টেরিওর ডিজাইনার, বিষয়টা সে রকম না। বরং আমি একজন চিকিৎসক, এটাই আমার জন্য অধিকতর স্বস্তির এবং এ পরিচয়েই আমি গর্ববোধ করি। এ টেবিল অংকনে মূলত আমার লক্ষ্য ছিল, কর্মস্থলে আমার জায়গাটি কিভাবে চমৎকারভাবে কাজে লাগাতে পারি। আর সেই চিন্তা থেকেই ইএনটির এ রকম একটি টেবিল আমি ডিজাইন করেছি।’ 

ইতিবাচক ব্যতিক্রমে মোহাচ্ছন্ন 

সৃষ্টিশীল এ চিন্তার উৎস জানতে চাইলে সিওমেক হাসপাতালের এই ইএনটি সার্জন বলেন, ‘আমি আসলে সব সময় ব্যতিক্রমের বিষয়ে আগ্রহী। গতানুগতিক ধারায় মানুষ যা করে—আমি তা করে অভ্যস্ত নই, তৃপ্তিও পাই না। প্রতিটি বিষয় নিয়ে একটু আলাদা চিন্তায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। ভাবি, কিভাবে ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা যায়? এটি সবসময় আমার মাথায় কাজ করে। শুধু টেবিলের ডিজাইন বিষয়ে নয়, বরং চিকিৎসা থেকে শুরু করে প্রতিটি কাজেই থাকে আমার আলাদা চিন্তা। কিভাবে গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে ইতিবাচক উপায়ে একটি কাজ রূপায়ণ করা যায়? কিভাবে আরেকটু ভালো করা যায়, একটু সহজতর করা যায়? দেখুন, ইএনটির চিকিৎসায় চারকোনা একটি টেবিল দিলেই হতো। এর চিকিৎসায় এমনটিই হয়ে আসছে। কিন্তু এখানে আমি রোগীর জন্য স্বস্তিদায়ক এবং সবার কাজে দিতে পারে এমন একটি নতুন রূপ দাঁড় করিয়েছি। এটি মূলত আমার ব্যতিক্রমের স্বার্থকতা।’

সব প্রতিষ্ঠানেই এ ধাঁচের টেবিল জরুরি  

ইএনটির চিকিৎসায় সব প্রতিষ্ঠানেই এ ধাঁচের টেবিল থাকা জরুরি উল্লেখ করে ডা. নূরুল হুদা বলেন, সব প্রতিষ্ঠানে এ রকম টেবিল নেই। তবে এই আদলে টেবিল থাকলে ইএনটির চিকিৎসায় কর্মরত সকল স্বাস্থ্যকর্মীই চিকিৎসা দিতে গিয়ে স্বস্তি বোধ করবেন। রোগীরাও উন্নত সেবা পাবেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই। 

দেশের বাইরে ইএনটির চিকিৎসা 

বিদেশে এ আদলে টেবিলের ব্যবহার আছে কিনা—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। তবে আমি সিঙ্গাপুরে ইএনটির চিকিৎসায় ‘এল’ শেপের মতো টেবিলের ব্যবহার দেখেছি। ওই রকমের টেবিলে চিকিৎসা অতটা স্বস্তিদায়ক না। কারণ এ রকম টেবিলে রোগী এবং চিকিৎসকের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন খানিকটা জটিল। এটি আমাদের দেশে প্রচলিত চারকোনা টেবিলের মতোই। এখানে রোগী এবং চিকিৎসকের সুবিধার পরিমাণ খুব বেশি না। সে তুলনায় আমাদের করা টেবিলে রোগী এবং সার্জন দুজনেই বাড়তি সুবিধা পাবেন। সুতরাং এসব দিক বিবেচনায় আমি দাবি করতে পারি, আমার এই চিন্তা বিশ্বে ব্যতিক্রম। অনুকরণীয় এ কাজটি গোটা বিশ্বে সমাদৃত হওয়া দাবি রাখে। বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও নাক-কান-গলার চিকিৎসায় এ চিন্তা প্রয়োগ হতে পারে।’

এক নজরে ডা. নুরুল হুদা নাঈম 

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার সন্তান ডা. নুরুল হুদা নাঈম, উপজেলার মীরগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে এসএসসি এবং ১৯৯০ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে স্বাস্থ্য সেবার প্রত্যয় নিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে ১৯৯০-৯১ সেশনে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৯৮ সালে এমবিবিএস পাস করেন ২৯তম ব্যাচের এ শিক্ষার্থী। 

বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এন্ড সার্জন্স (বিসিপিএস) থেকে ২০০৫ সালে এমসিপিএস ২০০৭ সালে ইএনটির ওপর এফসিপিএস ডিগ্রি নেন। এ ছাড়াও যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর ও ভারতে ইএনটি সার্জারির বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। 

বর্ণাঢ্য কর্মজীবন

২৪তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে কিছুটা বিলম্বে ডা. নুরুল হুদা নাঈমের কর্মজীবনের শুরু। তিনি বলেন, ‘লক্ষ্য ছিল, বিসিএসের আগে এফসিপিএস সম্পন্ন করার। ফলশ্রুতিতে বিসিএসের আগেই সকল প্রশিক্ষণ সম্পন্ন কররি। এ কারণে কিছুটা বিলম্বে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করি।’  

প্রথম পদায়ন নিজ উপজেলায় গোলাপগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তারপর ওসমানী মেডিকেল কলেজে রেজিস্ট্রার হিসেবে পদায়ন পান। সেখান থেকে আবাসিক সার্জন। তার পর বদলি হয়ে চলে যান দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখান থেকে জুনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে সুনামগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পদায়ন পান। সেখানে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে পদায়ন হয় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বর্তমানে এখানেই কর্মরত আছেন।

নিজ পেশার পাশাপাশি নানা রকম সৃষ্টিশীলতায় আলো ছড়িয়েছেন শিল্পমনা এ চিকিৎসক। সাহিত্যে রয়েছে তাঁর সরব পদচারণা। সমকাল ও কালের কণ্ঠসহ একাধিক জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়ে তার একাধিক সাহিত্য কর্ম। মেডিকেল পড়াশোনার পাশাপাশি যুক্ত ছিলেন সাংবাদিকতায়। সেই সুবাদে ছিলেন ওসমানী মেডিকেলের রিপোর্টার্স ক্লাবের সেক্রেটারি।

ডা. নুরুল হুদা নাইম রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কবিতার চরণ:

১.
এই খানে এসে যাও।
রাজগৃহ না থাকুক,
শিল্পময় ফুল্লতার বাগান আছে।  
এখানে পদ্ম না ফুটুক, উৎসবের ফুল পেয়েই যাবে;
আর তুমি এলেই লেগে যাবে মহোৎসব।  
২.
শিল্পিত হও, কর্মে কথনে; 
শিল্পিত হও, মেধায় মননে। 
ধন্য হও, সত্য চয়নে; 
বিশুদ্ধ হও, বিবেক চারণে।
৩.
তোমার স্বর্গ-কুলে রেখেছিল আগলে মা গো,
কত না যতন করে!
তুমি আছো বলে আজও সুরক্ষিত আমি,
তোমার দোয়ার পিঞ্জরে। 
৪.
তোমার স্নেহ-শাসন শিখিয়েছে বাবা 
শুদ্ধ পথে দীপ্ত-চল,
তোমার আদর্শে আজও উজ্জীবিত বাবা 
সত্যে আছি অবিচল।

প্রকৃতিপ্রেমী

একান্ত অবসরে নানা রকম ফুল ফলের চাষে হারিয়ে যান তিনি। ফলশ্রুতিতে নিজের ছাদবাগানে গড়ে তুলেছেন চোখজুড়ানো সবুজ আঙ্গিনা। শখের এ বাগানে শোভা পাচ্ছে হরেক রকম গাছ-গাছালি।

আরও কিছু ব্যতিক্রমী উদ্যোগ 

মা-বাবা দিবসে ‘গর্বিত মা-বাবা সম্মাননা’ প্রতি বছর অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এনজেএল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত ১০ জনকে বাছাই করে পুরস্কৃত করা হয়। 

এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের কথা জানিয়ে এ চিকিৎসক বলেন, ‘সন্তানদের পড়াশোনা করিয়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে মা-বাবাকে উৎসাহিত করা। দ্বিতীয়ত বর্তমান সমাজে অধিকাংশ শিক্ষিত মানুষ তাদের পিতা-মাতার ব্যাপারে উদাসীন। এ আয়োজনের মা-বাবাকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের অপরিহার্যতা ছড়িয়ে দিতে চাই।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত