০২ নভেম্বর, ২০২১ ০৫:৫৮ পিএম

দেশের হাসপাতালগুলোর ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে: জাহিদ মালেক

দেশের হাসপাতালগুলোর ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে: জাহিদ মালেক
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। ছবি: মুজিবুর রহমান

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশের হাসপাতালগুলোর ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, ‘এখন সকল জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন আছে। আইসিইউ সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এসব কারণেই করোনা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবুও সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। একইসঙ্গে ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমরা স্কুলের শিশুদেরও ভ্যাকসিন প্রদান করছি।’

মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এ ব্লকের অডিটোরিয়ামে জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত, স্বাস্থ্য শিক্ষা সচিব মো. আলী নূর, বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম প্রমুখ।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমরা কর্নিয়া ব্যাংক উদ্বোধন করে এসেছি৷ মাত্র চার হাজার ১০০ কর্নিয়া পাওয়া গেছে, যেখানে বছরে ৪০ হাজার মানুষ কর্নীয়া সমস্যায় অন্ধত্ববরণ করে। কর্নিয়ার স্বল্পতা দূরে সকলকে একত্রে কাজ করতে হবে। দেশের ৯০ ভাগ মানুষ শিক্ষার আওতায় এসেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে করোনা মোকাবিলায় বিশ্বে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। করোনা নিয়ন্ত্রণে আমরা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় প্রথম হয়েছি৷ আজ আমাদের দেশে মাত্র তিনজন মৃত্যুবরণ করেছেন। যেখানে উন্নত দেশগুলোতে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রক্তদানে দেশে অনেক সক্ষমতা এসেছে। দানে বাড়ে, কখনওই কমে না। রক্তদানের মাধমে আমরা মানুষের জীবন বাঁচাতে পারি৷ সরকার ব্লাড ব্যাংক অনুমোদন দিয়েছে৷ আরও ব্লাড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।’

ডা. দীপু মনি বলেন, ‘আমাদের সকলকে সচেতন থাকতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সন্ধানীর শুরু ১৯৭৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। এখন আর রক্তের জন্য হাহাকার করতে হয় না। তবে এখনও চক্ষুদানের ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে দেশ। আমারা এখন বেওয়ারিশ লাশ থেকে অধিক চক্ষু পেয়ে থাকি; এর কারণও আছে। যারা মরণোত্তর চক্ষুদানের অঙ্গিকার করেছেন, তারা অধিকাংশই তরুণ। আমরা তাদের দীর্ঘায়ু কামনা করি।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘রক্তদানে মানুষকে সচেতন করতে সন্ধানী কাজ করছে। তেমনই চক্ষুদানের বিষয়েও একজন মানুষকে সচেতন করতে হবে৷ বাইরের দেশে মৃত্যু পথযাত্রী রোগীদের স্বজনদের মোটিভেট করে অর্গান সংগ্রহ করা হয়। বাংলাদেশের সন্ধানীর সদস্যদের সে কাজ করতে হবে। আমরা আশা করি, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সর্বদা সন্ধানীর পাশে পাব।’ 

লোকমান হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। বিশ্ব মহামারীতে আমাদের অবস্থা উন্নত দেশগুলোর থেকেও ভালো৷ টিকা সংগ্রহ এবং প্রদানে সরকার সফলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। টিকা নিয়ে দেশে কোনো সমস্যা হবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘মৃতুর পর চোখ কোনো কাজে লাগে না। এটা সকলকে বুঝাতে হবে। মানুষ এবং তার স্বজনদের এটি বুঝাতে হবে। রক্তদানে দেশের মানুষ যেভাবে স্বতস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসছে, চক্ষু দানেও সেই রকম পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। সন্ধানী সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম ‘

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক