মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে চিকিৎসায় বারডেমের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের চুক্তি নবায়ন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে চিকিৎসার বিষয়ে বারডেম জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে করা চুক্তি পাঁচ বছরের জন্য নবায়ন করেছে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এবিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ গণমাধ্যমকে বলেন, ২০১৮ সালে তিন বছরের জন্য এ দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছিল। নতুন সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ পাঁচ বছর।
চুক্তির আওতায় এই হাসপাতাল থেকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পাবেন। এর মধ্যে ওষুধ, শয্যা, পথ্য এবং নার্সিং সেবা রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষে অতিরিক্ত সচিব রঞ্জিত কুমার দাস ও বারডেম হাসপাতালের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক অধ্যাপক এম কে আই কাইয়ুম চৌধুরী সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকসহ মন্ত্রণালয় এবং বারডেম হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২১ সালে এক নীতিমালা জারির মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও মেডিকেল কলেজ ও ২২টি বিশেষায়িত হাসপাতালে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা বিনামূল্যে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকার চিকিৎসাসেবা দিতে পারবে। এগুলোর মধ্যে বারডেম জেনারেল হাসপাতাল অন্যতম।
এতে আরও বলা হয়, এছাড়া কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা জটিল কোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে ওই সব হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে দেশ-বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন পড়লে সরকার অতিরিক্ত এক লাখ টাকা অনুদান দেবে। তবে চিকিৎসা অনুদান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবনে একবারের বেশি পাবেন না। আর অনুদান একটি বাছাই কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় মঞ্জুর করে থাকে।
মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় নিবেদিত হাসপাতাল
ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর), জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল, গোপালগঞ্জের শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-সিলেট, শের-ই- বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-বরিশাল, জাতীয় হৃদরোগ ফাউন্ডেশন-ঢাকা এবং বারডেম জেনারেল হাসপাতাল-ঢাকা।