০৩ অক্টোবর, ২০২১ ০৬:০০ পিএম
বিএসএমএমইউর গবেষণা

৪০ শতাংশ রোগী করোনা পরবর্তী জটিলতায় ভোগেন: গবেষণা

৪০ শতাংশ রোগী করোনা পরবর্তী জটিলতায় ভোগেন: গবেষণা
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: করোনাভাইরাসে সংক্রমিতদের ৪০ ভাগ পরবর্তী নানা জটিলতায় ভোগেন। এসব জটিলতার মধ্যে রয়েছে কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, নাকে গন্ধ কম পাওয়া, নাক দিয়ে পানি পরা ইত্যাদি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

আজ রোববার (৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্ষব্যাধি বিভাগে ‘পোস্ট কোভিড-১৯ পালমোনারি ফাইব্রোসিস এন্ড ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারে গবেষণার এই ফলাফল জানানো হয়।

বিএসএমএমইউ বক্ষব্যাধি বিভাগের উদ্যোগে ৫০০ রোগীর উপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তিন মাস পরেও শতকরা ৪০ ভাগ রোগী নানা ধরনের জটিলতায় ভুগছেন। জটিলতার মধ্যে রয়েছে কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, নাকে গন্ধ কম পাওয়া, নাক দিয়ে পানি পরা ইত্যাদি। বয়স্কদের মধ্যে এ ধরনের সমস্যা সবচেয়ে বেশি। এসব রোগীর ৬৮ ভাগ পুরুষ এবং ৩২ ভাগ মহিলা। গবেষণায় করোনা পরবর্তী রোগীদের নিয়মিত ফলোআপে থাকার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আলোচকরা বলেন, করোনা পরবর্তী অনেক রোগীর ফুসফুসের কার্যকারিতা ব্যবহত হওয়ায় রোগীর শরীরের রক্তে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন পৌঁছায় না। রোগী এসময় অক্সিজেন স্বল্পতায় ভোগে। কাশি, শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিলতা দেখা যায়। একে পালমোনারি ফাইব্রোসিস বলে। এই রোগে ফুসফুসের নরম অংশগুলো নষ্ট হয়ে যায় এবং ক্ষতের সৃষ্টি হয়। এতে ফুসফুসের টিস্যু মোটা ও শক্ত হয়ে যায়, ফলে ফুসফুসে বাতাসের থলিগুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এজন্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী নেগেটিভ হওয়ার পরেও নিয়মিত ফলোআপে থাকা প্রয়োজন। যথাসময়ে যথাযথ চিকিৎসা না হলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। 

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সুস্থ হওয়ার পরেও তাদের কারো কারো বিভন্ন ধরণের জটিলতা দেখা যাচ্ছে। মানসিক অবসাদ, ভুলে যাওয়া, মাথা ব্যাথা, নাকে কম গন্ধ পাওয়াসহ নানা ধরণের সমস্যা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এসব থেকে উত্তরণ ও মুক্তির উপায় খুঁজে পেতে চিকিৎসার পাশাপাশি গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।’

এ ধরনের গবেষণায় আর্থিক সহায়তা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় ফান্ডের ব্যবস্থা করতে কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট নির্ধারণে জিনোম সিকোয়েন্সিং, টিকার কার্যকারিতা জানতে টিকা গ্রহীতাদের শরীরে অ্যান্টিবডির অবস্থা নির্ণয়সহ নানাবিধ গবেষণা কর্ম চালু রয়েছে। 

এছাড়াও দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো যেন রোগীদের উপকারে লাগে এমন গবেষণায় অবদান রাখতে পারে সেজন্য ওষুধের ট্রায়ালের সুযোগ প্রদানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ।

সভাপতির বক্তব্যে বিএসএমএমইউর উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন অত্যন্ত কর্মতৎপর ও গতিশীল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও গবেষণায় সত্যিকার অর্থেই বিশ্বের বুকে সেন্টার অব অ্যাক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএসএমএমইউ উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, মেডিসিন অনুষদে ডিন অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম, হেমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দিন শাহ, মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, রেসপিরেটরি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজাশিস চক্রবর্তী, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের সিনিয়র সহ-সভাপতি এসএম মাহমুদুল হক পল্লব প্রমুখ।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক