১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৩:৫২ পিএম

সমালোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সমালোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ফাইল ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সকল সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে নেন জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আমি সমালোচনা পছন্দ করি। কারণ এটা আমাকে শক্তিশালী করে। তবে এই সমালোচনা অবশ্যই সঠিক হতে হবে। 

আজ বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট বিলের ওপর বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবাবে তিনি এসব কথা বলেন। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনেক কাজ আপনারা বুঝতে পারেন না। দেশে যদি ভালো ব্যবস্থা না থাকতো তাহলে মানুষের গড় আয়ু ৭৩ বছর হতো না, এটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটা অবদান। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এমডিজি (সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) পুরস্কার পেয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ভ্যাকসিন হিরো হয়েছেন, সাউথ সাউথ পুরস্কার পেয়েছেন। কাজ না করলে এই পুরস্কারগুলো পাওয়া যায় না। কাজেই এটা বাংলাদেশ পেয়েছে।’

‘আজ সংসদ ভালো জমেছে। আপনারাও বলবেন আমি জবাব দেবো। প্রস্তুত হয়ে এসেছি’ যোগ করেন জাহিদ মালেক।

এর আগে সংসদে চিকিৎসক, চিকিৎসা সেবা ও বেসরকারি হাসপাতালসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেন বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় সাংসদরা চিকিৎসকদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ, হাসপাতালের বিল দিতে না পারায় বেসরকারি হাসপাতালগুলো রোগীদের আটকে রাখাসহ এ খাতের দুর্নীতির নানা তথ্য তুলে ধরে কঠোর সমালোচনা করেন।

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, ‘দেশের পঞ্চাশ বছর অতিক্রম করেছি আমরা। তারপরও বর্তমানে স্বাস্থ্যব্যবস্থার বেহাল দশা। আমরা এখনও পর্যন্ত সরকারি হাসপাতাল এবং বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে কোনও পার্থক্য করতে পারিনি। যারা আজকে সরকারি হাসপাতালে কর্মরত তারাই আজকে বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবসা করছে।’

দুর্নীতির প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। বিএনপির সময় কি কোনো হাসপাতালে ৩৮ লাখ টাকা দিয়ে পর্দা কেনা হয়েছিল? গত ১০ বছরে যে হাজার হাজার কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো ব্যবস্থা আছে?’

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির হারুন সাহেব বলেছেন, ৩৮ লাখ টাকা দিয়ে পর্দা কেনা হয়েছে। কিন্তু এটা কোথায় হয়েছে আমার জানা নাই। এটা কেনা হয় নাই। ভুল তথ্য দিলে জনগণ ভুল বোঝে। এটা সঠিক না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০ হাজার ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে যন্ত্রপাতি রয়েছে। এটা ব্যবহার হলে একটা সময় পরে তা নষ্ট হয়ে যায়। একটা সময় এটা ঠিক করতে হয়। যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। তা আমরা করে যাচ্ছি।’

এ সময় শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট বিলের বিষয়ে জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘বিএনপি করে গিয়েছিল ড্যাব, আওয়ামী লীগ এসে করেছে স্বাচিপ। সেক্ষেত্রে আমরা কী কারণে বসে থাকছি? এই আইনের মধ্যে যদি উনি আনতো যে ডাক্তাররা এবং বৈজ্ঞানিকরা রাজনীতি করতে পারবে না তাহলে খুব খুশি হতাম। কিন্তু সেটা আনা হয়নি। ডাক্তাররা যদি এই দেশে রাজনীতি করে তাহলে আমরা কী করবো? আমাদের কাজটা কী? ওনারা চলে আসুক রাজনীতি করতে। যারা ভালো ছাত্র তারা ডাক্তারি পড়ে, কিন্তু তারা যদি রাজনীতি করে তাহলে আমরা সেবা বঞ্চিত হচ্ছি।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি