মুজাহিদ শুভ 

মুজাহিদ শুভ 

সাংবাদিক, সময় টিভি


১৩ মে, ২০২১ ১০:৪৬ এএম

চিকিৎসকের ঘরে ঈদ

চিকিৎসকের ঘরে ঈদ
ফাইল ছবি

ডেঙ্গু থেকে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ। আড়াই বছরে ৫টি ঈদ কড়া নেড়েছে চিকিৎসকের দরজায়।  পৃথিবীর প্রান্তে উঁকি দেয়া খুশীর চাঁদ বাংলাদেশেও আলো ফেলেছে কতবার। কিন্তু সেই আলো চিকিৎসকের ঘর কতটা আলোকিত করেছে সেই প্রশ্নই এখন বেশি উজ্জ্বল।

২০১৯ থেকে আজ অব্দি কোন ঈদেই ছুটি মেলেনি চিকিৎসকদের। স্বাস্থ্য বিভাগের আদেশে হাসিমুখে হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গেই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে হয়েছে তাদের। তবে গত বছরের ঈদ উল আযহা ও এবারের ঈদ অনেক বেশী কঠিন হয়ে তাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে। 

ডেঙ্গুতে রোগীদের মৃত্যু মিছিলের সাক্ষী চিকিৎসকগণ এবার নিজেরাই মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। ইতিমধ্যে প্রাণও দিয়েছেন দেড় শতাধিক চিকিৎসক। 

তাদের ঘরেও ঈদ এসেছে, তবে আকাশ সমান বেদনা নিয়ে। মারা যাওয়া ১৫২ চিকিৎসকের মাত্র ১৩টি পরিবার পেয়েছে ক্ষতিপূরণ। অন্যদিকে পুলিশ বিভাগে ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন ৬৮ জন যেখানে মারা যাওয়া কর্মকর্তা কর্মচারীর সংখ্যা ৯০। শুধু তাই নয়, কোভিড যুদ্ধের মাঝপথে হোটেল ও আবাসিক সুবিধা বন্ধ হওয়ায় ব্যাপকভাবে সংক্রমণের শিকার হয়েছেন ডাক্তারদের পরিবার। 

চলতি বছরের মার্চের এক সপ্তাহে শুধু সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের আইসিইউতেই মৃত্যু হয়েছে বাবা, শ্বশুরসহ ৩ কোভিড চিকিৎসকের স্বজনের। স্বজনহারা অগণিত চিকিৎসকের ঘরেও ঈদ এসেছে ভিন্ন স্বাদের বার্তা নিয়ে।

৯০ শতাংশ কোভিড চিকিৎসকের আবাসিক ও সম্মানী ভাতা পরিশোধ করা হয়নি আজও। দফায় দফায় ভাতার ফরম পূরণ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ধন্না দিতে দিতেই হাজির হয়েছে ঈদ। 

এবারও ভিডিও কলে হাসপাতাল থেকে স্ত্রী সন্তান বাবা মায়ের কাছে খুশীর তরঙ্গ ছড়িয়ে দিবেন অধিকাংশ চিকিৎসক। সন্তানকে বুকে চেপে আদর করতে না পারার যন্ত্রণা ঢাকতে ভিডিও কলে কত ছলকলায় না করবেন হাজারো চিকিৎসক বাবা মা। 

মৃত্যুর দরজায় দাঁড়িয়ে ঈদকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত চিকিৎসক। হাসপাতালের ওয়ার্ডে রোগীর হাসিমাখা মুখের মাঝেই মিটিয়ে নেবেন তৃষ্ণা। তাদের শ্বাশ্বত শপথের কাছে মেঘ হয়ে ভেসে যাবে পাওয়া না পাওয়ার সীমাহীন বেদনা।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত