১৭ এপ্রিল, ২০২১ ০৭:০০ পিএম

বিনামূল্যে সাহরী-ইফতার সামগ্রী সরবরাহ পুলিশের

বিনামূল্যে সাহরী-ইফতার সামগ্রী সরবরাহ পুলিশের
ডবলমুরিং থানার উদ্যোগে বিনামূল্যে সাহরী ও ইফতার সামগ্রী বিতরণের দোকান। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজনদের বিনামূল্যে সাহরী ও ইফতার সামগ্রী সরবরাহ করছে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা পুলিশ। এ ছাড়াও হতদরিদ্র ও খেটেখাওয়া মানুষদেরকে এসব সামগ্রী বিতরণ করছেন তারা। ‘ফ্রি ইফতার ও সেহেরি শপ’ নামে পরিচালিত এ কার্যক্রম পুরো রমজানে অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

পুলিশের পরিদর্শক ডবলমুরিং থানার ইনচার্জ মোহাম্মদ মোহসিন পিপিএম (বার) আজ শনিবার (১৭ এপ্রিল) মেডিভয়েসকে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, ৮/১০টা দোকানের মতো দেখলেও এর বৈশিষ্ট্য খানিকটা ভিন্ন। এই দোকান থেকে সেহরি ও ইফতার সামগ্রী বিক্রয় করা হয়। কিন্তু এজন্য কোনো বিনিময় মূল্য নেওয়া হয় না। এখান থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সাহরি ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন কমপক্ষে তিনশ’ জনকে ইফতার সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। সেহরিতে দেড়শ’ জনকে দেওয়া হচ্ছে। তবে গতকাল (১৬ এপ্রিল) সেহরিতে দেওয়া হয়েছে ১৭০ জনকে। 

মোহাম্মদ মোহসিন পিপিএম (বার) বলেন, ‘এই লকডাউনে, মহামারীতে যদি সবাই যদি যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী পাশের মানুষের জন্য এগিয়ে যাই, তাহলে আমাদের বিশ্বাস সমাজের কেউ ক্ষুধার্থ থাকবে না। কেউ সমস্যায় পড়বে না। তাই আসুন, আমরা আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াই।’

এ উদ্যোগের সূচনার কথা উল্লেখ করে ডবলমুরিং থানার ইনচার্জ বলেন, ‘শুরু করেছিলাম স্টাফদের দিয়েই। তবে এখন অনেক নাগরিক গোপনে আমাদের সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। কেউ চাল, কেউ বাজার দিয়ে যাচ্ছেন। পানির বোতল সরবরাহ করছেন। এ ছাড়া কিছু সংস্থা ইফতারির প্যাকেট পাঠিয়ে দিচ্ছে। গতকাল (১৬ এপ্রিল) আমরা বড় পরিসরে বারোশ’ লোককে ইফতারি সামগ্রী বিতরণ করেছি। এর মধ্যে একজন দানবীর ৮০০ ইফতারির প্যাকেট দিয়েছিলেন। নগরবাসীর এ রকম সহযোগিতায় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’ 

এ উদ্যোগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘মহামারীর শুরু থেকেই মানুষের প্রয়োজনকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।’

ডবলমুরিং থানার উদ্যোগে ২২-২৪ ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজ হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে টেলিমেডিসিন সেবা চালু আছে, থানার গাড়িগুলো দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের মতো সার্ভিস প্রদান করা হচ্ছে। এভাবে যখন যেটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এখন আমাদের কাছে মনে হয়েছে, যেহেতু একদিকে লকডাউন আরেক দিকে মানুষ রয়েছে নানা সম্যায়। বিশেষ করে মেডিকেলে যারা রোগীর সেবায় নিয়োজিত—সেসব স্বজনরা ধনাঢ্য হলেও খাবার ঠিক মতো পাচ্ছেন না। কারণ সবাই রোগী নিয়ে উদ্বিগ্ন। আশপাশে যানবাহন চলছে না। এ অবস্থায় রোজার সেহরি ও ইফতার নিয়ে বাড়তি আরেকটা উৎকণ্ঠায় পড়তে হচ্ছে তাদের। এ উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই চেষ্টা।

‘অনেক খেটে খাওয়া মানুষ আছেন, শ্রমজীবী মানুষ আছেন, আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় সেহরি-ইফতার নিয়ে তারাও সংকটে আছে। এসব চিন্তা থেকেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—বলেন এ পুলিশ পরিদর্শক।

মেডিকেলকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দুর্যোগে সবাই যেহেতু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আসছেন। তাই এ রকম দুঃসময়ে তাদের পাশে থাকা খুবই প্রয়োজন।

খেটে খাওয়া ও অসহায় মানুষ, হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের কথা চিন্তা করে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরো রমজানজুড়ে এ সামগ্রী বিতরণ করা হবে। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি