মো. রেজওয়ানুল ইসলাম

মো. রেজওয়ানুল ইসলাম

রেজিস্টার্ড এ গ্রেড ফার্মাসিস্ট,
অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (পিএমডি),
শরিফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিঃ


১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ০৪:০৯ পিএম

সমন্বিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ফার্মাসিস্ট ও ওষুধ কোম্পানির অবস্থান কোথায়?

সমন্বিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ফার্মাসিস্ট ও ওষুধ কোম্পানির অবস্থান কোথায়?
ছবি: সংগৃহীত

শুরুতেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এই কারণে যে, তিনি এত দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশে কোভিড ভ্যাকসিন আমদানি ও টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে শুরু করতে পেরেছেন। নিঃসন্দেহে এটি সরকারের একটি বিরাট সাফল্য এবং এর প্রশংসা দলমত নির্বিশেষে সবার প্রাপ্য। আমরা সত্যিই ভাগ্যবান।

আমি কোভিড টিকার হাল হাকিকত ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া জানার জন্য সুরক্ষা ওয়েব সাইটে ঢুকেছিলাম। আর একটা বিষয়ও মাথার মধ্যে ছিলো, সেটি হলো কয়েক দিন ধরেই বেশ প্রচলিত একটি শব্দ ‘অগ্রাধিকার তালিকা’। এটার ব্যাপারে জানা দরকার এই কুলীন তালিকায় আমার পেশার কোন স্থান হয়েছে কিনা। 

তালিকাটি যথেষ্ট চিন্তা ভাবনা ও যুক্তিসঙ্গতভাবে করা হয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তালিকায় যারা স্থান পেয়েছেন তাদের নিয়েও কোনও প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই। আফসোস বা ক্ষোভের জায়গা হলো, ফার্মাসিস্ট বলে যে একটা আপাত নখদন্তহীন!, অকালকুষ্মাণ্ড!, কলুর বলদ! পেশাজীবী দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আছে তা তারা বেমালুম ভুলেই গেছেন। সেটা তারা যেতেই পারেন। কারণ এদের কাজ চোখের সামনে দেখেও অনেক সময় দেখা হয় না। অনেকটা বায়ু সমুদ্রে বাস করে বায়ুর উপস্থিতি অনুধাবন না করতে পারার মতো।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ও ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতে ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির অবদান অপরিসীম। এটি প্রায় তিন বিলিয়ন (২৫ হাজার কোটি টাকা) মার্কিন ডলারের বাজার, যা প্রতিনিয়ত ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৫ সালের মধ্যে তা ছয় বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে বলে জানিয়েছে ডাবলিন ভিত্তিক মার্কেট ইনসাইট ও এনালিস্ট ফার্ম ‘রিসার্স অ্যান্ড মার্কেট’। (তথ্য সুত্রঃ ডেইলি স্টার, ১৬ নভেম্বর ২০২০)।
 
এখানে ফার্মাসিস্ট, বায়োকেমিস্ট, মাইক্রো বায়োলজিস্ট, বিক্রয় ও বিপণন প্রতিনিধিসহ লক্ষ লক্ষ মানুষ কাজ করেন। এই করোনা মহামারির মধ্যেও যাদের নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রমের জন্য করোনার চিকিৎসার আনুষঙ্গিক সব ওষুধ ও অন্যান্য ক্রনিক অসুখের (ডায়াবেটিস, হৃদরোগ) ওষুধের কোনও ঘাটতিতে পড়তে হয়নি। 

সারাদেশে নজিরবিহীন লকডাউনের মধ্যেও ফার্মাসিস্টরা ঘরে বসে থাকেনি। ফার্মা ইন্ডাস্ট্রি সচল ছিলো, বিক্রয় ও বিপণন কর্মীরা জীবনবাজি রেখে নিরবচ্ছিন্ন ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। যার জন্য অনেকেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, অনেকে মৃত্যুবরণও করেছেন। 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা সরকার থেকে সেই কাজের তেমন কোন স্বীকৃতিও আমরা পাইনি। মহামারীর শুরুতে দেশব্যাপী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী সংকটের সময় সেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার জন্যও বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে দাপ্তরিকভাবে স্বতঃস্ফূর্ত আবেদন করা হয়েছিল।

অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়, ফার্মাসিস্ট বাদে রাজ্যের বাকি সবাই ফ্রন্টলাইনার হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য। মাত্র একদিন; ওষুধ উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ বন্ধ থাকলে কি ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো বা হতে পারে তার কোনও আন্দাজ কারো আছে কিনা আমার ধারণা নেই। 

যেই টিকা সংরক্ষণ ও পরিবহন পর্যন্ত একজন ফার্মাসিস্ট ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে হচ্ছে, সেই টিকা ফ্রন্টলাইনার হিসেবে বা অন্য কোনও ক্যাটাগরিতেই তারা পেতে পারে না এটা কিভাবে ভাবা সম্ভব? এজন্য তাদের ৪০ বছর বয়স হতে হবে?

ব্যপারটা স্বীকৃতির, ব্যাপারটা সম্মানের, ব্যাপারটা দেশের জন্য আরও নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করার জন্য উৎসাহের। এটা মোটেও ইগোইজম নয়।

পরিশেষে কবীর সুমনের একটি গানের চারটা লাইন দিয়ে শেষ করি:
কতটা পথ পেরোলে তবে পথিক বলা যায়, 
কতটা পথ পেরোলে পাখি জিড়োবে তার দায়;
কত হাজার মরলে তবে মানবে তুমি শেষে,
বড্ড বেশি মানুষ গেছে বানের জলে ভেসে। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না