ডা. আফরোজা আকবর সুইটি

ডা. আফরোজা আকবর সুইটি

সহকারী অধ্যাপক,
ভাইরোলজি বিভাগ,
ঢাকা মেডিকেল কলেজ।


২৯ জানুয়ারী, ২০২১ ০১:৫৮ পিএম

কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন: কেন নিবেন?

কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন: কেন নিবেন?
ছবি: সংগৃহীত

ইদানিং অনেকেই ভ্যাকসিন নিয়ে ভাবছেন। এটি ভালো না মন্দ ইত্যাদি নিয়ে চরম দোটানায়ও ভুগছেন। দিবেন কী দিবেন না, দিলে কী লাভ বা না দিলে কী ক্ষতি? চারপাশের এ রকম উদ্বেগ উৎকন্ঠায় চলুন না- একটু জেনে নিই বাংলাদেশে আসা ভ্যাকসিন কোভিশিল্ড সম্পর্কে।

কী দিয়ে তৈরি?

নিম্নলিখিত উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে কোভিশিল্ড: 

এল-হিস্টিডিন, ‌এল- হিস্টিডিন হাইড্রোক্লোরাইড মনোহাইড্রেড, ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড হেক্সাহাইড্রেড, পলিসরবেড ৮০, ইথানল, সুক্রোজ, সোডিয়াম ক্লোরাইড, ইডিটিএ এবং পানি।

কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের অন্যান্য নাম:

অ্যাডেনো ভাইরাস ভ্যাকসিনও বলা হয়। এই ভ্যাকসিনের আরেক নাম এজেডডি-১২২২ (অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকার ভ্যাকসিন)  বা কোভিশিল্ড (AZD1222 or Covishield)। 

কতটা নিরাপত্তা দিতে সক্ষম?

পর্যবেক্ষণে এটা শতকরা ৬২ থেকে ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে কার্যকরী বলা হয়েছে। ব্রিটেন, ভারত, মেক্সিকো এবং আরো কয়েকটি দেশে জরুরি ভিত্তিতে এই ভ্যাকসিন ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

কোভিশিল্ড কারা গ্রহন করতে পারবেন:

জরুরি মহামারি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই ভ্যাকসিন এর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের সুস্থ নারী-পুরুষ তা গ্রহণ করতে পারবেন। 

কোভিশিল্ড কারা গ্রহণ করতে পারবেন না:

১. যাদের কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের কোন উপাদানে এলার্জি আছে।

২. ইতিমধ্যে প্রথম ডোজ দেওয়ার পর এলার্জিক রিএকশন হয়েছে।

কোভিশিল্ড দেওয়ার পূর্বে আপনার ডাক্তারকে কি কি বিষয় অবহিত করবেন?

১. আপনার মারাত্মক কোন এলার্জির সমস্যা (এনাফাইল্যাকসিস) আছে কি না

২. খাবার, ওষুধ, অন্য কোন ভ্যাকসিন বা কোভিশিল্ড এর উপাদানে এলার্জি আছে কি না

৩. জ্বর আছে কি না

৪. কোন ধরনের রক্ত ক্ষরণের (bleeding disorder) সমস্যা আছে কি না

৫. ইউম্যুনোকমপ্রমাইজড বা এমন কোন ওষুধ গ্রহণ করছেন কি না যা ইউম্যুনিটি কমিয়ে দেয়

৬. গর্ভবতী বা গর্ভধারণে ইচ্ছুক কি না

৭. দুগ্ধদানকারী মা কি না

৮. ইতিমধ্যে অন্য কোন কোভিড ভ্যাকসিন নিয়েছেন কি না।

মাত্রা ও প্রয়োগ বিধি:

সেরাম ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়া এর কোভিশিল্ড এর ডোজ হচ্ছে ২ বার নিতে হবে। ০.৫ মিলি ভায়াল থেকে পুরোটাই দিতে হবে। প্রথম ডোজ এর ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ পর ২য় ডোজ দিতে হবে।

সতর্কতা:

এই ভ্যাকসিন সবাইকে শতভাগ প্রটেকশন দিতে সক্ষম নয়।

ভূমিকাতেই বলেছি নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো। কারণ এ লেখাটি যখন লিখছি তখন বিশ্বে করোনায় মৃত্যু প্রায় ২২.৫ লাখ আর বাংলাদেশের মৃতের সংখ্যা ৮ হাজারের অধিক। মনোযোগ দিয়ে পড়ুন আর সিদ্ধান্ত নিন, আপনি কি করবেন।

যেহেতু এই ভ্যাকসিন শতভাগ প্রটেকশনের গ্যারান্টি দিচ্ছে  না, কাজেই ভ্যাকসিন নিন সাথে আগের মতই পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ভ্যাকসিন+স্বাস্থ্যবিধি= নিরাপদ।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত