ডা. নুসরাত জাহান
সহযোগী অধ্যাপক (অবস-গাইনী),
খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ,
সিরাজগঞ্জ।
২২ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৩:২৫ পিএম
ফাইব্রয়েড টিউমার ও প্রেগনেন্সি জটিলতা
ফাইব্রয়েড টিউমার জরায়ুর একটি অতি পরিচিত টিউমার। ৩৫ বছরের বেশি বয়সী নারীদের প্রতি ১০০ জনে ৩৫ জন মহিলার এই টিউমার থাকতে পারে। এই টিউমারের লক্ষনগুলো হল মাসিকের সময় অধিক রক্তপাত ও ব্যথা হওয়া। যদিও ৭৫% ক্ষেত্রে এই টিউমার কোন ধরনের লক্ষণ প্রকাশ ছাড়াও থাকতে পারে।
প্রেগনেন্সির সময় কিংবা অন্যান্য কারনে পেটের আল্ট্রাসাউন্ড করার সময় ধরা পরে। অবস্থান ভেদে এই টিউমার তিন ধরনের হয়ে থাকে যেমন- সাব সেরাস, ইন্ট্রা মুরাল এবং সাব মিউকাস। এর মধ্যে সাধারণত সাব মিউকাস টিউমারই অধিক জটিলতার কারন হয়ে থাকে।
গর্ভধারনের আগেই যদি এই টিউমার ধরা পরে তবে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। টিউমারটি যদি আকারে ছোট হয়ে থাকে এবং বাচ্চা হওয়ার পথে এটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করলে গর্ভধারনের চেষ্টা করে যেতে হবে। এক্ষেত্রে টিউমার অপসারন করার দরকার হবে যদি:-
• দীর্ঘ দিন চেষ্টার পরও গর্ভধারনে ব্যর্থ হলে এবং বন্ধ্যাত্বের আর কোন কারণ না পাওয়া গেলে।
• তিন বা এর অধিকবার গর্ভপাত হলে।
বন্ধ্যাত্ব সমস্যার জন্য টিউমার অপারেশন করার আগে কিছু শর্ত পূরন করা জরুরী। বন্ধ্যাত্বের জন্য অন্য কোনও কারণ আছে কিনা তা দেখে নিতে হবে:-
• হিস্টারো স্যালফিংগোগ্রাম বা ল্যাপারোস্কপি করে ফেলোপিয়ান টিউব (ডিম্বনালী) খোলা কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে।
• স্বামীর শুক্রানু বা বীর্য নরমাল থাকতে হবে।
জরায়ুতে টিউমার থাকা অবস্থায় গর্ভধারণ হয়ে থাকলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা কোনও অসুবিধা করে না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে টিউমারের কারনে মা এবং সন্তানের বিভিন্ন জটিলতা হতে পারে, যেমন-
• গর্ভপাতের সম্ভাবনা বেশি থাকে বিশেষ করে টিউমারটি যদি সাব মিউকাস হয়। কারণ সাব মিউকাস টিউমার জরায়ুর ভিতরে অবস্থিত হওয়ায় ভ্রুণ এবং প্লাসেন্টার স্থাপনকে বাধাগ্রস্থ করে।
• প্রেগনেন্সির কারনে এই টিউমারেরও কিছু পরিবর্তন হয় যা জটিলতা তৈরী করে। যেমন, জরায়ু বড় হবার সাথে সাথে টিউমারের আকার ও সাইজ পরিবর্তন হতে পারে। অনেক সময় টিউমারের মধ্যে রক্তক্ষরণ হয়ে অথবা পানি জমা হয়ে পেটে প্রচন্ড ব্যথার সৃষ্টি করতে পারে।