মেডিভয়েসকে অধ্যাপক ইউসুফ ফকির
রাষ্ট্রের কাজে প্রাণ বিসর্জনে ক্ষতিপূরণ হওয়া উচিত ২ কোটি টাকা
মো. মনির উদ্দিন: রাষ্ট্রীয় কাজ করতে গিয়ে জীবন বিসর্জনকারী যে কোনো পেশার মানুষের জন্য আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকা উচিত বলে মনে করেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির। প্রাণোৎসর্গকারী ব্যক্তির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ এককালীন দুই কোটি টাকা দেওয়া যেতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, এটা তার অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা বা সভানুভূতি হিসেবে গণ্য হবে।
আজ বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) স্বাধীনতার ৪৯তম বার্ষিকীতে বিজয় দিবসের ভাবনায় মেডিভয়েসকে এসব কথা বলেন তিনি।
অধ্যাপক ইউসুফ ফকির বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৯ বছরে নানা ক্ষেত্রে এর ফল দৃশ্যমান। অর্থনৈতিক মুক্তি, ডিজিটালাইজেশন, ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ নিশ্চিত হয়েছে। তবে করোনায় অনেক চিকিৎসক মারা গেছেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। পেশাগত কারণেই আমাদের ঝুঁকি অনেক বেশি।’
করোনায় প্রাণ হারানো চিকিৎসকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানে বিলম্ব হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারি চিকিৎসকরা দেরিতে হলেও ক্ষতিপূরণ পাবেন। বেসরকারি পর্যায়ে সরকার ক্ষতিপূরণ দিয়ে পারবে না। ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি যারা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে তাদের আসলে প্রণোদনা দেওয়া উচিত। রাষ্ট্রের কত টাকাই তো কতভাবে ব্যয় হয়ে যায়।’
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (শিক্ষা) বলেন, ‘চিকিৎসকদের পাশাপাশি যে কোনো বয়সের যে কোনো পেশার মানুষ রাষ্ট্রীয় কাজ কিংবা দেশ রক্ষায় জীবন দিলে তার পরিবারের সদস্যদের এককালীন দুই কোটি টাকা দেওয়া যেতে পারে। ধরেন, একজন সাংবাদিক সংবাদ কাভার করতে গিয়ে মারা গেল, ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মারা গেল। তাদের সবাইকে এই ক্ষতিপূরণের আওতায় আনা যেতে পারে। এটা তার অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা বা সমানুভূতি হিসেবে গণ্য হবে। আর সরকারি চাকরিজীবী হলে এই টাকার পাশাপাশি পুরো পেনশন ও যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা তা তার পরিবারের হাতে সোপর্দ করতে হবে। দুই কোটি টাকা স্ত্রী-সন্তানদের নামে এফডিআর করে দিতে হবে। ১৮ বছর পর এটা ভাঙানোর সুযোগ আসবে। এর লভ্যাংশও পাবেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়ে যাচ্ছে, সেখানে এ খাতে বছরে একশ বা দুইশ কোটি টাকা রাষ্ট্রের জন্য কোনো বিষয়ই না।’