ডা. সুলতানা এলগিন   

ডা. সুলতানা এলগিন  

সহযোগী অধ্যাপক, 
মনোরোগ বিদ্যা বিভাগ,
কনসালটেন্ট, ওসিডি ক্লিনিক ও জেরিয়াট্রিক ক্লিনিক,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়


২৩ নভেম্বর, ২০২০ ০৩:১৩ পিএম

মানসিক ও মাদকাসক্ত রোগীর সংকট বাড়িয়ে দেয় যেসব আচরণ

মানসিক ও মাদকাসক্ত রোগীর সংকট বাড়িয়ে দেয় যেসব আচরণ
ছবি: প্রতীকী

মানসিক ও মাদকাসক্ত রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের সঙ্গে সব সময় সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করতে হবে। এছাড়া এসব রোগীর সঙ্গে কিছু আচরণ কখনোই করা যাবে না। 

স্বাভাবিক জীবনের ফেরানোর স্বার্থে মানসিক রোগী ঘরে থাকুক বা ক্লিনিক-হাসপাতালে থাকুক যে কোনো অবস্থাতেই তাদের সঙ্গে অযাচিত এসব আচরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ সে অসুস্থ, তার রোগের চিকিৎসা দরকার। এটা তার অধিকারও বটে। তাই তার সঙ্গে চিকিৎসাবিজ্ঞান নির্দেশিত পথ্যবিধির বাইরে কিছুই করা যাবে না। মনে রাখতে হবে, কোনো আচরণে বিরক্ত হয়ে চিকিৎসকদের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে এসব রোগীদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করলে তা অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হবে।

মানসিক রোগীর সঙ্গে যে আচরণ করবেন না

১. ঘরে বা ক্লিনিক হাসপাতালে মানসিক রোগী বা মাদকাসক্তির রোগীকে মারধর করা যাবে না। সাধারণ যে কোনো অসুস্থ রোগীকে মারধর করা যে রকম অপরাধ, মানসিক রোগীর সাথেও সেই নির্মম আচরণ করলে তা অবশ্যই অপরাধ হিসেবেই বিবেচিত হবে।

২. মানসিক রোগী বা মাদকাসক্তির রোগীকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন কোনো অবস্থাতেই করা যাবে না। এছাড়া নির্যাতন মারধর মানসিক রোগ বা মাদকাসক্তি চিকিৎসার কোনো উপায় নয়, বরং এটা অপরাধ।

৩. মানসিক রোগীকে হাত-পা বেঁধে অবিরাম গোসল করানোর বিপজ্জনক চিকিৎসা এখনও গ্রামে-গঞ্জে করানো হয়। এটা করানো যাবে না। এটা কোনো চিকিৎসা নয়, বরং এক ধরনের নির্যাতন।

৪. মানসিক রোগী বা মাদকাসক্ত রোগীকে তার আত্মীয়-স্বজনরা কোন অস্বাস্থ্যকর কক্ষে, নোংরা জায়গায়, গ্যারেজে, মাঠে, ফুটপাতে দড়ি শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন বলে অনেক রোগীর স্টেটমেন্টে পাই। এটা করা যাবে না।

মানসিক রোগী বা মাদকাসক্তির রোগী একজন সাধারণ রোগীর মতো অসুস্থ ব্যক্তি। সে অপরাধী নয়। তাকে চিকিৎসা দিতে হবে। বেঁধে রাখা কোনো চিকিৎসা নয়, বরং এটা হলো রোগীকে দরকারি চিকিৎসা না দেওয়ার মতো অপরাধ।

৫. মানসিক রোগী বা মাদকাসক্তির রোগী যদি বাড়াবাড়ি করে, তবে প্রয়োজনে পুলিশি সহযোগিতা নিয়ে তাকে চিকিৎসা কেন্দ্রে আনুন। পুলিশ কর্মীরা উত্তেজিতদের ট্যাকল করার নানা বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি জানেন। এক্ষেত্রে নিজেরা কোনো রকম ডাক্তারি বা নির্যাতনের পথ বেছে নেবেন না।

৬. ঝাড়ফুক, ওঁঝা, গায়েবি হেকিম, এলমঅলা ফকির, কবিরাজের কাছে নিয়ে তার জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করবেন না। তাকে নানা ধরনের টোটকা, আজেবাজে জিনিস, সালসা খাইয়ে মরণাপন্ন করবেন না।

করো মধ্যে এ সমস্যা দেখা দিলে তাদেরকে যত দ্রুত সম্ভব মানসিক রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসুন। এখন বাংলাদেশের শতাধিক সরকারি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে মানসিক ওয়ার্ডসহ আলাদা বিভাগ আছে। সেখানে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।

মানসিক রোগী বা মাদকাসক্ত রোগীকে বাঁচতে দিন। তার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। তাকে অবহেলা, ঘৃণা ও অবজ্ঞা করবেন না। তাকে ভালবাসা দিন। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে