০৩ নভেম্বর, ২০২০ ০৮:৪০ পিএম
স্মরণসভায় ঢামেক অধ্যক্ষ

‘অধ্যাপক ডা. তাহির নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান’

‘অধ্যাপক ডা. তাহির নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান’

মেডিভয়েস রিপোর্ট: কিংবদন্তি চিকিৎসক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. তাহির শুধু একটি নাম নয়, তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান বলে মন্তব্য করেছেন তাঁর সরাসরি ছাত্র ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ।

তিনি বলেন, ‘অধ্যাপক ডা. মো. তাহির শুধু একটি নাম নয়, তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। অধ্যাপক তাহির তাঁর জীবনে ব্যাপ্তিতে অসংখ্য অসাধারণ কাজের মাধ্যমে অধ্যাপক তাহির হয়েছেন। তাঁর ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি যে বর্ণাঢ্য স্পর্শ রেখে গেছেন তা একজন মানুষের জীবনে দেখা যায় না।’

রোববার (১ নভেম্বর) রাতে অধ্যাপক ডা. মো. তাহিরের স্মরণে মেডিভয়েসের বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ডা. তাহির শুধু নামেই অধ্যাপক ছিলেন তা নয়, তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে মানুষের ভেতর পর্যন্ত পৌঁছে ছিলেন। তিনি চিকিৎসা শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবার মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে গেছেন। তিনি একধারে আন্ডার গ্রেজুয়েশন ও পোস্ট গ্রেজুয়েশনের শিক্ষক ছিলেন। তিনি বিএসএমএমইউর পরিচালক থেকে উপাচার্য, প্রফেসর অব মেডিসিন, চেয়ারম্যান অব মেডিসিন, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) সভাপতি, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার এই বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার তাঁকে উচ্চতার অন্যতম শিখরে নিয়ে গেছে। শুধু বয়সে নয় তিনি কর্মেও এক লম্বা জীবনযাপন করে গেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিংবদন্তি  বলতে যা বুঝায় তা তাহির স্যারের মতো মানুষের জন্য একটি অত্যন্ত ছোট উপমা। তিনি নিজেকে দেশ থেকে বিদেশে সব জায়গায় বিশাল একটা পরিসরে নিয়ে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশের মেডিকেল স্নাতকোত্তর শিক্ষা যখন বিলাতকেন্দ্রীক..., আমাদের ভাল ছাত্ররা সবাই বিলাতে পড়তে যেতো এফসিপিএসে করার জন্য। কিন্তু স্যার বিলাতের আঙ্গিকে পাকিস্তান আমলেই বাংলাদেশেই সে শিক্ষার ব্যবস্থা করলেন।’

‘তিনি এফসিপিএস  করলেন এবং সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে এফসিপিএস এবং অন্যান্যরা যারা ডিগ্রি নিচ্ছেন তাঁরা তাকে অনুসরণ করল। তাঁরা দেশের ক্লিনিক্যাল পার্টগুলোতে বড় ভূমিকা রেখেছেন। পরবর্তীতে মৌলিক বিষয়গুলোতেও এফসিপিএসরা ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। এই জন্য আমি বলবো, স্যার শুধু একজন কিংবদন্তী নন তিনি একজন পদপ্রর্দশকও বটে।’

‘পথপ্রর্দশক কিন্তু সোজা ব্যাপার নয়। তিনি নিজে আগে কষ্ট করেন, কষ্ট করে আগে দেখেন। ধরেন, আপনি অন্ধকার একটি টানেলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আপনি দলনেতা হিসেবে রাস্তাটা পরিষ্কার করে আলোর মশাল দেখিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন আর বাকিরা আপনার পথ অনুসরণ করছে। একজন প্রফেসর এইভাবে তাঁর কাজ করেন। অধ্যাপক তাহির এভাবেই আমাদের পথ দেখিয়েছেন।’

‘প্রফেসরের প্রফেসি থাকতে হয়, এই প্রফেসি শব্দটা অত্যন্ত কঠিন। প্রফেসি ছাড়া প্রফেসর হওয়া যায় না। আমার দেখা প্রফেসর তাহির স্যার সত্যিই তাঁর জীবনে প্রফেসি অর্জন করতে পেরেছেন এবং প্রফেসির স্বার্থক প্রয়োগও করেছেন। তাকে আমরা চিরকাল শ্রদ্ধা করে যাবো, তাঁর কথা আমরা মনে রাখবো। তাহির স্যার সবার কাছে ছিলেন একজন সত্যিকার মানুষ। তিনি সব সময় অন্যের উপকার করার জন্য প্রস্তুত থাকতেন।’

প্রসঙ্গত, সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৮টায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অধ্যাপক ডা. মো. তাহির। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৯০ বছর।

তিনি পেশাগত জীবনে সর্বশেষ দায়িত্ব পালন করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে। অলঙ্কৃত করেছেন ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এর কান্ট্রি এডভাইজারের পদ। এছাড়াও বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিসিয়ান্স অ্যন্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন দেশের কিংবদন্তি এ চিকিৎসক। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি