২২ অক্টোবর, ২০২০ ০৫:৪০ পিএম

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে অত্যাধুনিক ক্যাথল্যাব চালু

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে অত্যাধুনিক ক্যাথল্যাব চালু

মেডিভয়েস রিপোর্ট: জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে অত্যাধুনিক দুটি ক্যাথল্যাব উদ্বোধন করা হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে মোট ক্যাথল্যাবের সংখ্যা দাঁড়ালো ৭টিতে।

আজ ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নবনির্মিত কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব জোন-২ এর শুভ উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি।

ক্যাথল্যাব স্থাপন প্রসঙ্গে হাসপাতালটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালের জন্য আজকে একটি বিরল দিন। আজকে আমাদের হাসপাতালে দুইটি অত্যাধুনিক নতুন ক্যাথল্যাব যুক্ত হয়েছে। আগের ৫টিসহ এখন আমাদের মোট ক্যাথল্যাব ৭টি। একই প্রতিষ্ঠানে এতোগুলো ক্যাথল্যাব বাংলাদেশে আর কোন প্রতিষ্ঠানে নেই। বিভিন্ন ধরণের জটিল রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসায় এই অত্যাধুনিক ক্যাথল্যাবগুলো সহায়ক হবে।’

চিকিৎসা খরচ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এর খরচ অত্যন্ত স্বল্প। সরকারি হাসপাতালে মাত্র দুই হাজার টাকা চার্জ। এর বাইরে কখনো কখনো প্রয়োজন হয়, যদি আমাদের জিনিসপত্র সাপ্লাই না থাকে। আর যখন সাপ্লাই থাকে, তখন এই দুই হাজার টাকাতেই হয়ে যায়। এমনকি গরীব রোগীদের জন্য আমরা সম্পূর্ণ বিনাখরচেও করে থাকি।’

অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের হাসপাতাল ৭শ’ বেডের হলেও করোনার আগে ১১/১২শ’ এর মতো রোগী ভর্তি থাকতো। করোনাতেও প্রায় ৮/৯ শ’ করে সবসময় ভর্তি থাকে। প্রতিদিন বহির্বিভাগেও ৭ থেকে ৮শ’ রোগী আসে দেখানোর জন্য। রোগী যাই আসুক, আমাদের চিকিৎসকরা সবসময় প্রতিটি রোগীকে দেখেন এবং সম্পূর্ণ চিকিৎসা করেন। আমরা সবসময় চেষ্টা করি রোগী যেন কখনোই বলতে না পারে যে, আমার চিকিৎসাটা এই হাসপাতালে হলো না।’

অসংখ্য রোগী মাটিতে চিকিৎসা নিচ্ছে -এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এতোদিন আমাদের পর্যাপ্ত বেড না থাকায় কিছু রোগীকে সবসময় ফ্লোরে সিটের ব্যবস্থা করে দিতে হয়। আমরা তো আর হাসপাতালের গেটে এমন সাইনবোর্ড টানিয়ে রাখতে পারবো না যে, ‘দুঃখিত বেড খালি নেই’। এই হাসপাতাল দেশের ১৫ কোটি মানুষের জন্য একমাত্র টার্শিয়ারি লেভেলের ইনস্টিটিউট। আমাদের এখান থেকে যদি রোগীদের ফিরিয়ে দেই, তাহলে আর কোথায় যাবে? এর চেয়ে ভালো ট্রিটমেন্ট আর কোথায় পাবে?’

উদ্বোধন শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘মানুষের চিকিৎসা সেবায় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটকে ৭০০ শয্যা থেকে খুব শীঘ্রই ১২০০ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই করোনা সংকটকালে দেশের স্বাস্থ্যখাত করোনা মোকাবেলা করার পাশাপাশি অন্যান্য চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রেখেছে। একদিকে কোভিড নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে অন্যদিকে নন-কোভিড চিকিৎসা সেবা বৃদ্ধি করা নিয়েও কাজ চলছে। ইতোমধ্যেই ৮ বিভাগে ৮টি উন্নত মানের ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণ কাজের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। দেশের সকল হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনা মোকাবেলায় সরকারের সফলতা তুলে ধরেন ও চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্সদের ধন্যবাদ জানান। এবং করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

করোনা ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে  স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ‘এখন পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোনো দেশকে ভ্যাকসিনের স্বীকৃতি দেয়নি। যখনই কোনো দেশ স্বীকৃতি পাবে আমরা সবার আগে সেটি দেশে নিয়ে আসবো। ভ্যাকসিন আনতে সরকার অন্যান্য দেশের সাথেও আলোচনা অব্যাহত রেখে চলেছে। ভ্যাকসিন অনুমোদিত হলে আমাদের দেশে আনতে কোনো বিলম্ব হবে না।’

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিন এর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম, স্বাচিপ এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজসহ অন্যান্য বক্তারা।

এ সপ্তাহে ৪২তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি 

আরও ২০০০ চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি