১৫ অক্টোবর, ২০২০ ১০:৪৮ এএম

প্রথম বাঙালি মুসলিম নারী চিকিৎ‍সকের জন্মদিনে গুগলের ডুডল

প্রথম বাঙালি মুসলিম নারী চিকিৎ‍সকের জন্মদিনে গুগলের ডুডল

মেডিভয়েস রিপোর্ট: অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলিম নারী চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. জোহরা বেগম কাজীর ১০৮তম জন্মদিনে বিশেষ ডুডল প্রকাশ করেছে বিশ্বখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন গুগল। আজ ১৫ অক্টোবর গুগলে প্রবেশ করলেই দেখা যাচ্ছে বিশেষ এ ডুডলটি। এতে গুগলের অক্ষরগুলোকে সাজানো হয়েছে বিশেষভাবে। 

ডুডলে দেখা যাচ্ছে জোহরা বেগম কাজীর গলায় স্টেথসস্কোপ এবং মাথার উপর গাছের ছায়া। গায়ে জড়ানো হলুদ রংয়ের একটি পোশাক। বাংলাদেশ থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে গুগলে (www.google.com) গেলে কিংবা সরাসরি (www.google.com.bd) ঠিকানায় ঢুকলে চোখে পড়বে জোহরা কাজীকে নিয়ে করা ডুডলটি। 

উল্লেখ্য, বিশেষ দিন এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে অনেক দিন থেকেই গুগল সার্চের মূল পাতায় ডুডল প্রকাশ করে আসছে গুগল। আগেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, প্রখ্যাত স্থপতি ও পুরোকৌশলী এফ আর খান, জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মদিনসহ বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য দিনে ডুডল প্রকাশ করেছিল গুগল। এছাড়া নারী দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ ডুডলে বাংলা ভাষায় ‌'নারী' শব্দটি যোগ করেছিল গুগল। 

বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ ও ঐতিহাসিক দিনকে স্মরণ করার জন্য গুগল তাদের হোমপেজে সেই বিশেষ দিনের যে মানানসই লোগো তৈরি থাকে তাকে ডুডল বলা হয়।

জন্ম ও পরিচয়:
অধ্যাপক ডা. জোহরা বেগম কাজী ১৯১২ সালের ১৫ই অক্টোবর অবিভক্ত ভারতের মধ্য প্রদেশের রাজনান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ডাক্তার কাজী আব্দুস সাত্তার ও মায়ের নাম মোসাম্মদ আঞ্জুমান নেসা। তার আদি পৈত্রিক নিবাস বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানার গোপালপুর গ্রামে।

শিক্ষা ও কর্ম:
১৯৩৫ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করার পর জোহরা বেগম কাজী কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর ঢাকা এসে ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে যোগ দেন।  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় অবসর সময়ে তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে অনারারি কর্ণেল হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন।

মিডফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি গাইনোকোলজি বিভাগের প্রধান ও অনারারি প্রফেসর ছিলেন।

১৯৭৩ সালে চাকরি থেকে অবসর নেবার পর বেশকিছু বছর হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালে কনসালটেন্ট হিসাবে চিকিৎ‍সা সেবা প্রদান করেন। পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেলে অনারারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন।

অর্জন:
কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন সংগঠন তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে অসংখ্য পদকে ভূষিত করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রোকেয়া পদক, বিএমএ স্বর্ণপদক। ২০০৮ সালে সরকার জোহরা কাজীর আজীবন সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক একুশে পদক (মরণোত্তর, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০০৮) প্রদানে সম্মানিত করে।

মৃত্যু:
২০০৭ সালের ৭ নভেম্বর মৃত্যু্বরণ করেন ডাক্তার জোহরা বেগম কাজী।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি