২৯ অগাস্ট, ২০২০ ০৩:৪১ পিএম
চাকরির অঙ্গীকারনামায় শ্রম আইনের লঙ্ঘন

ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে তিন বছর চাকরি করার বাধ্য-বাধকতা

ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে তিন বছর চাকরি করার বাধ্য-বাধকতা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের। কোনোরকম নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ করে কর্মীদের ৪০ ভাগ বেতন কর্তন নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় থামতে না থামতেই এবার নতুন করে ‘চাকরির অঙ্গীকারনামা’ নিয়ে সমালোচিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। 

সূত্রে জানা গেছে, যে কোন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে তিন বছর চাকরির বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই সময়ের মধ্যে কেউ চাকরি ছেড়ে দিতে চাইলে তার বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আনুসাঙ্গিক সুযোগ সুবিধা বাবদ গৃহিত সমুদয় টাকার ৫০ ভাগ ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চিকিৎসকদের নানা গ্রুপে ছড়িয়ে পড়েছে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চাকরিতে প্রবেশের অঙ্গীকারনামার এ অনিয়মের কথা। 

চিকিৎসকদের অভিযোগ, যেকোন চাকরিতে এ রকম বাধ্যবাধকতা সুস্পষ্টভাবে শ্রম আইনের লঙ্ঘন। মেডিকেল অফিসারসহ যেকোন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এরকম বাধ্যবাধকতা আরোপ করে ইসলামি ব্যাংক হাসপাতাল শ্রম আইনের লঙ্ঘন করছে।

এ প্রসঙ্গে ফাউন্ডেশন ফর ডক্টর’স সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটির (এফডিএসআর) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবুল হাসনাত মিল্টন বলেন, এটা শ্রম আইনের লঙ্ঘন। কোন প্রতিষ্ঠান নিয়মিত বেতন ভাতার বিনিময়ে এ ধরনের মুচলেকা নিতে পারে না। কেবল যদি কোন প্রতিষ্ঠান তার কর্মচারী-কর্মকর্তার উন্নয়নের জন‍্য বিনিয়োগ করে, তাহলে অনুরূপ শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। যেমন কোন প্রতিষ্ঠান যদি তার অধীনে চাকুরিরত কারো প্রশিক্ষণ বা উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করে এবং এই প্রশিক্ষণ বা শিক্ষাকালীন পূর্ণ বেতন দেয়, তবে এ এরকম মুচলেকা নিতে পারে। তবে সে মুচলেকাও হতে হবে আনুপাতিক। অর্থাৎ, যতদিন বেতন দিল ততদিনের সমান বা তারচেয়ে কিছু বেশি।

ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল কাকরাইলের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার ডা. আব্দুল ওয়াহাব মেডিভয়েসকে বলেন, ‘হাসপাতালের যে কোন নিয়োগের ব্যাপারে সব শর্তগুলো আমাদের ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন থেকে দেওয়া হয়। সকল সিদ্ধান্তগুলোও সেখান থেকে আসে। তাই এগুলো নিয়ে আমাদের কিছুই বলার বা করার থাকে না।’

‘আমি এই অঙ্গীকারনামা নিয়ে অবগত নই। আমি অফিসের ঊর্ধ্বতনদের সাথে বিষয়টা নিয়ে কথা বলবো। শ্রম আইনের লঙ্ঘন হয় এমন কিছু যদি থাকে, তাহলে অবশ্যই কর্তৃপক্ষ এটা পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নিবে’, যোগ করেন তিনি।

ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল কাকরাইল শাখা সুপার ডা. আবু ইউসুফ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এ রকম কোন অঙ্গীকারনামার ব্যাপারে আমার জানা নেই। আমরা আসলে নীতি নির্ধারণ করি না। আমাদের মূল কর্তৃপক্ষ হলো ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন। আমরা বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাবো। যদি এ রকমটা হয়ে থাকে, তাহলে তারা অবশ্যই সংশোধন করবেন।’

এ ধরনের অঙ্গীকারনামা শ্রম আইনের লঙ্ঘন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অঙ্গীকারনামায় যদি এরকম শর্ত থাকে, তাহলে এটা অবশ্যই শ্রম আইনের লঙ্ঘন। এমনটা কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। কাউকে কাছে যদি এমন অঙ্গীকারনামা দেওয়া হয়, তাহলে আমার কাছে আসবেন, আমি বিষয়টি দেখবো। আর ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের সাথেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো।’

প্রসঙ্গত, গত ১৩ আগস্ট কোনো নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ করে বেতনের ৪০ ভাগ কর্তন করে নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কর্মবিরতিতে যায় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মিরপুর শাখার চিকিৎসক-নার্স কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

হাসপাতালের একজন চিকিৎসক এতেশাম বিল্লাহ জানান, করোনা পরিস্থিতিতে তাদেরকে হাসপাতালে ডিউটি করতে হয়েছে। একদিনের জন্যও হাসপাতাল বন্ধ ছিল না। অথচ এখন বেতন ৪০ ভাগ কর্তন করে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশও দেওয়া হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেতন কর্তনের প্রতিবাদে কর্মবিরতিতে হাসপাতালের চিকিৎসক নার্সসহ সব শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী যোগ দেন। এরমধ্যে অর্ধশতাধিক চিকিৎসকও ছিলেন।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক