১২ জুলাই, ২০২০ ১১:৩৯ পিএম

পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ও বিএমডিসির নথিতে ডা. সাবরিনার নামে বিস্তর ফারাক

পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ও বিএমডিসির নথিতে ডা. সাবরিনার নামে বিস্তর ফারাক
ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী

মো. মনির উদ্দিন: গত ৮ জুলাই দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর নামের সঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) তালিকায় থাকা নামে বিস্তর ফারাক রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. লিয়াকত হোসেন। তিনি বলেন, বিএমডিসিতে তিনি সাবরিনা শারমিন হোসেইন নামে আছেন, যেটা তার আসল নাম। নামের এ ভিন্নতা বড় ধরনের অসঙ্গতি। এটা প্রতারকদের কাজ।

ডা. লিয়াকত হোসেন আজ রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আজকে সকালে অফিসে গিয়েই অনুসন্ধান করে দেখেছি, ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী আসলে আমাদের রেজিস্ট্রার্ড কিনা বা মেডিকেল অবস্থান কি? ফাইল যাচাই করে যেটা পেলাম, ভদ্র মহিলা আমাদের এখানে অন্য একটা নামে আছেন, যেটা আসল নাম। কারণ এখানে মেট্রিক ইন্টারমেডিয়েটের সকল কাগজ-পত্র আছে। তার নাম সাবরিনা শারমিন হোসেইন। তিনি নিজে সকালে আমাকে টেলিফোনে এ ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন। আমি উনাকে বললাম, আপনি তো গণমাধ্যমসহ সর্বত্র সাবরিনা আরিফ চৌধুরী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।’ 

তিনি যোগ্যতাসম্পন্ন এবং একজন রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসক জানিয়ে বিএমডিসির ডেপুটি রেজিস্ট্রার বলেন, ‘ডা. সাবরিনা মিটফোর্ড থেকে পাস করেছেন, এ সবই ঠিক আছে। কিন্তু নামে অসঙ্গতি আছে। পত্রিকায় যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন, সেখানে সাবরিনা চৌধুরী লিখেছেন। নামের এ ভিন্নতা আমাদের কাছে বড় ধরনের অসঙ্গতি মনে হয়েছে। এটা তো প্রতারকদের কাজ।’

দুই জায়গায় দুই নাম ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চেয়ে কোনো উত্তর পাননি জানিয়ে ডা. লিয়াকত হোসেন আরও বলেন, ‘সকালে যখন উনার সঙ্গে আমার কথা হয়, তখন হয় তো এই ধরনের (গ্রেপ্তার) প্রক্রিয়া চলছিল। এ সময় ঝামেলায় আছেন উল্লেখ করে পরে কথা বলবেন বলে জানিয়েছিলেন ডা. সাবরিনা।’

বিএমডিসির ডেপুটি রেজিস্ট্রার বলেন, ‘বিএমডিসি থেকে এসব তথ্য অনুসন্ধানের কারণ জানতে চেয়েছিলেন ডা. সাবরিনা। জবাবে আমি বলেছিলাম, যেহেতু আপনি একটা বিতর্কের মধ্যে আছেন। বিভিন্ন এজেন্সি আপনার ব্যাপারে আমাদের কাছ থেকে তথ্য জানতে চাচ্ছে। এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েই তাদের কাছে তথ্য সরবরাহ করতে হবে।’

ডা. সাবরিনার রেজিস্ট্রেশন স্থগিতের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিনি যদি বিএমডিসির নীতিবিরোধী কোনো কাজ করে থাকেন এবং এ ব্যাপারে ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে কোনো অভিযোগ আসে, তাহলে কমিটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য শুনবে। বিভিন্ন রকমের তদন্তের পর কমিটিতে বিষয়টি পাস হলে একটি সিদ্ধান্ত আসবে। আর তখনই রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করা হয়। এটা অনেক সময়সাপেক্ষ। এ ক্ষেত্রে আমাদেরকে আইনি দিকগুলো ভালো করে অনুসরণ করতে হয়, যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আপিল করলে যেন আমাদের বিরুদ্ধে জয়ী না হন। 

ডা. লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘ডা. সাবরিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন এবং বিবৃতিও দিয়েছেন। তাঁর দাবি ভিন্নভাবে তাকে জড়ানো হয়েছে। এটা একটি তদন্তের ব্যাপার। যতক্ষণ পর্যন্ত বিষয়টি সুরাহা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
জুলাই উদযাপনে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা 

হামলা-হুমকি উপেক্ষা করেই আহতদের সেবা দেন চিকিৎসকরা: এনডিএফ

জুলাই উদযাপনে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা 

হামলা-হুমকি উপেক্ষা করেই আহতদের সেবা দেন চিকিৎসকরা: এনডিএফ

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক