১৯ জুন, ২০২০ ০৭:১৯ পিএম

করোনার আয়ুষ্কালের ব্যাখ্যায় বিভ্রান্তি, স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের দুঃখ প্রকাশ

করোনার আয়ুষ্কালের ব্যাখ্যায় বিভ্রান্তি, স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের দুঃখ প্রকাশ

মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে ভাইরাসটির আয়ুষ্কাল বিষয়ে নিজের বক্তব্য ঘিরে সৃষ্ট বিভ্রান্তির প্রেক্ষাপটে দুঃখ প্রকাশ করেছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। 

আজ শুক্রবার (১৯ জুন)  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বয় বিষয়ক সহকারী পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গির কবির স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে। 

এতে আরও বলা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করেনা বিষয়ক নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের একটি বক্তব্যকে ঘিরে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে মহাপরিচালক গভীরভাবে দুঃখিত। মহাপরিচালকের বক্তব্যের স্ক্রিপ্টটি দ্রুততার সাথে তৈরি করতে করতে স্বাস্থ্য বুলেটিনের সময় হয়ে যাওয়ায় তিনি সেটি ভালো করে পরীক্ষা করার সুযোগ পাননি এবং স্ক্রিপ্ট পাঠ করে অনলাইনে বক্তব্য রাখেন। পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পারেন, ওই বক্তব্যটিতে অস্পষ্টতা সৃষ্টি হতে পারে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘তার যে বক্তব্যটি নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে, সে বিষয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি আকারে গতকাল (১৮ জুন ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫৫ মিনিটে) ইস্যুকৃত স্বাস্থ্য বুলেটিনে বলা হয়েছিল, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতায় এবং বিশ্বের স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী ও জনস্বাস্থ বিশেষজ্ঞগণের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতি সারাবিশ্বে এক দুই বা তিন মাসে শেষ হচ্ছে না। একটি সফল টিকা আবিষ্কার এবং পর্যাপ্ত জনগাগোষ্ঠীর মধ্যে সফল প্রয়োগ না হওয়া পর্যন্ত দেশগুলোতে করোনার অস্তিত্ব থাকবে। ফলে এটি এক বছরের বেশি এমনকি দুই বা তিন বছর বা এরও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। যদিও আমরা মনে করি, সংক্রমণের মাত্রা অনেক হ্রাস পাবে। যাতে গণমাধ্যম বিষয়টি বুঝতে পারে সেজন্য ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই অংশটি হলুদ রংয়ে হাইলাইট করে দেওয়া হয়।’

এতে আরও বলা হয়েছে, এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে গণমাধ্যমসহ সকলকে বিষয়টি অনুধাবন করার জন্য মহাপরিচালক একান্তভাবে আবেদন জানাচ্ছেন। অনলাইন পঠনে স্ক্রিপ্ট ত্রুটির জন্য যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে সেজন্য তিনি বিনীতভাবে দুঃখ প্রকাশ করছেন। 

স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের বক্তব্য ঘিরে সমালোচনা

এদিকে করোনার আয়ুষ্কাল ঘিরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বক্তব্যে দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এ বক্তব্যকে অদূরদর্শিতা আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকার যখন দিনরাত পরিশ্রম করে মানুষের মনোবল চাঙা রাখার নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখন স্বাস্থ্যবিভাগের কোনো কোনো কর্মকর্তার করোনার আয়ুষ্কাল নিয়ে অদূরদর্শী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য জনমনে হতাশা তৈরি করেছে।’

এ ধরনের সমন্বয়হীন, অযাচিত বক্তব্য থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান সরকারের এই মুখপাত্র।

জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বেনজির আহমেদ বলেন, 'কিসের ওপর ভিত্তি করে এমন মন্তব্য বুঝতে পারছি না। আপনি যদি সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেন তা হলে করোনা আজীবন থাকবে। এরকম কথার অর্থ হচ্ছে হাল ছেড়ে দেওয়া।'

যা বলেছিলেন স্বাস্থ্য মহাপরিচালক 

গতকাল ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ২/৩ বছর থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতায় এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতি ২/৩ মাসে শেষ হচ্ছে না। এটি দুই থেকে তিন বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় স্থায়ী হবে। যদিও সংক্রমণের মাত্রা উচ্চহারে নাও থাকতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, করোনা সংক্রমণের কিছুকাল পরেই বাংলাদেশে সংক্রমণের উঁচু হার কমে আসতে পারে। কিন্তু করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি করলে অনেক লুকায়িত ও মৃদু কেসও শনাক্ত হবে। সে ক্ষেত্রে সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা দৃষ্টিগোচর নাও হতে পারে।’

অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এটি শুধুমাত্র স্বাস্থ্যগত বিষয় নয়; এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক, যোগাযোগ, ধর্ম, বাণিজ্য, অর্থাৎ জীবনের সকল উপজীব্যকে ঘিরে। কিন্তু তিনি স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে অধিকতর জোরালো নজর দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ২ হাজার চিকিৎসক ও ৫ হাজার নার্স নিয়োগ এ তৎপরতারই অংশ।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : করোনাভাইরাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত