স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৪, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্পেনে দ্রুতগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, একটি ট্রেনের সঙ্গে আরেকটি ট্রেনের বগি আটকে রয়েছে। কয়েকটি বগি রেললাইনের পাশের ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে গেছে। সেখানে ধাতব ধ্বংসাবশেষের মধ্যে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন জরুরি সেবাকর্মীরা।
কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের প্রধান এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পেজ ঘটনাস্থলে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, দুর্ঘটনায় ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে নিহতের সংখ্যা আরও কম ছিল। তবে ধ্বংসাবশেষের মধ্যে আরও মরদেহ পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছিলেন।
আঞ্চলিক সরকারের এক মুখপাত্র গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। তাদের মধ্যে ৫৮ জনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে এবং ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী সংস্থা রেনফে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের একটি ট্রেনের সঙ্গে বেসরকারি স্প্যানিশ প্রতিষ্ঠান আইরিওর একটি ট্রেনের সংঘর্ষের পর মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণ স্পেনগামী প্রধান দ্রুতগতির রেলপথে চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ৪২ বছর বয়সী পাবলো মেহিয়া গণমাধ্যমে জানান, যাত্রাপথে আসন পরিবর্তন করায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। সেভিল যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করার সময় তিনি বলেন, প্রচণ্ড ধাক্কা লাগার পর দীর্ঘ সময় ধরে ট্রেনটি থামছিল। চারদিকে মানুষ মেঝেতে পড়ে ছিলেন, কেউ কেউ একে অন্যের ওপর পড়ে যান। আসন ছিঁড়ে গিয়েছিল, লাগেজ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল—সব মিলিয়ে সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল।
দুর্ঘটনাস্থলের কাছের উর্দা গ্রামের বাসিন্দা ৪৯ বছর বয়সী ম্যানুয়েল অর্টিজ জানান, সকালজুড়ে তিনি নিজের গাড়িতে করে আহত ও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের পরিবহনে সহায়তা করেছেন। তার ভাষায়, ঘটনাস্থলের দৃশ্য ছিল ভয়াবহ। চারদিকে ধাতব ধ্বংসাবশেষ ও দুর্ঘটনার চিহ্ন ছড়িয়ে ছিল।
এদিকে, স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে দুর্ঘটনার পেছনে ‘ভুল’ এবং ‘ব্যাখ্যাতীত পরিস্থিতির’ কথা বলেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটির কারণে ৬৯ কিলোমিটার রেলপথে সব ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। ওই ত্রুটি থাকা অবস্থায় ভুলবশত একটি ট্রেনকে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়।
পুয়েন্তে বলেন, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পুরোপুরি সচল হওয়ার আগেই রেল চলাচল পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা তাঁদের কাছে ব্যাখ্যাতীত। তাঁর দাবি, রেনফের ট্রেনটি পুনরায় চলাচল শুরু করে প্রায় ২৫ কিলোমিটার যাওয়ার পর স্থির অবস্থায় থাকা আইরিওর ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের সময় ট্রেনটির গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকতে পারে।
পরিবহনমন্ত্রীর অভিযোগ, নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের হাতে ত্রুটিটি শনাক্ত ও সংশোধনের যথেষ্ট সময় ছিল, কিন্তু তা করা হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে এ পরিস্থিতি নিয়ে আরও তদন্তের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা
এই মর্মান্তিক ঘটনায় তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, আজ পুরো স্পেন শোকাহত। সামনে সাধারণ নির্বাচন থাকায় এই দুর্ঘটনা রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। এ বছরের প্রথম দিকে জানুয়ারি মাসেও আদামুজ শহরের কাছে অনুরূপ এক সংঘর্ষে ৪৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।
সে প্রসঙ্গে পেদ্রো সানচেজ বলেন, ‘স্পেনের মতো একটি দেশে একই বছরে দুটি দ্রুতগতির ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার হওয়া মেনে নেওয়া যায় না, যেমনটি আমাদের হয়েছে।’ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি বা অবহেলা প্রমাণিত হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
জেএইচ/
মিরপুরে আন্দোলনে আহত পুলিশ কর্মকর্তা ডা. জাকারিয়ার আবেগঘন স্ট্যাটাস
‘পুলিশের পোশাকের আড়ালেও একজন মানুষ থাকেন’
মিরপুরে আন্দোলনে আহত পুলিশ কর্মকর্তা ডা. জাকারিয়ার আবেগঘন স্ট্যাটাস
‘পুলিশের পোশাকের আড়ালেও একজন মানুষ থাকেন’
ওএসডির আদেশ বাতিল
সলিমুল্লাহ মেডিকেলের উপপরিচালক পদে পুনর্বহাল ডা. শাহরিয়া শায়লা
ডেঙ্গুর ঝুঁকি হ্রাস ও বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণের আশা
কাশিমপুর কারাগারে জাপানি প্রযুক্তিতে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসের উদ্যোগ
মিরপুরে আন্দোলনে আহত পুলিশ কর্মকর্তা ডা. জাকারিয়ার আবেগঘন স্ট্যাটাস
‘পুলিশের পোশাকের আড়ালেও একজন মানুষ থাকেন’
ওএসডির আদেশ বাতিল
সলিমুল্লাহ মেডিকেলের উপপরিচালক পদে পুনর্বহাল ডা. শাহরিয়া শায়লা
ডেঙ্গুর ঝুঁকি হ্রাস ও বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণের আশা
কাশিমপুর কারাগারে জাপানি প্রযুক্তিতে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসের উদ্যোগ