১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৫:৪৩ পিএম

রোগ নির্ণয়ে ভোগান্তি কমাতে উপজেলায় প্যাথলজি ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

রোগ নির্ণয়ে ভোগান্তি কমাতে উপজেলায় প্যাথলজি ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: রোগ নির্ণয়ে ভোগান্তি কমাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।

আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজশাহী নগরীর একটি অভিজাত হোটেলের সম্মেলন কক্ষে সম্প্রসারিত টিকাদান ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনাবিষয়ক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৪০ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। জনসংখ্যা ও হাসপাতালের সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টের সংখ্যা বাড়েনি। ফলে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসাসংশ্লিষ্টদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ সংকট মোকাবিলায় পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, আগের তুলনায় হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত থাকছেন।

উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের বিষয়ে ডা. এম এ মুহিত বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্যাথলজি ল্যাব স্থাপনের পাশাপাশি বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে উপজেলা পর্যায়েই রোগ নির্ণয়ের সুযোগ বাড়বে। ফলে রোগীদের ছোটখাটো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য দূরের হাসপাতালে যেতে হবে না এবং চিকিৎসাসেবা পেতে ভোগান্তিও কমবে।

হাম প্রতিরোধে সরকারের চলমান কার্যক্রম তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, টিকাদান ও ক্যাচ-আপ কর্মসূচির আওতায় দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, একবার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে বলে আগেই ধারণা করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো মশা নিধন এবং মশার লার্ভা ধ্বংসে কাজ করছে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় দুই হাজার চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজশাহীর তুলনায় খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি।

তিনি আরও বলেন, রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করা বেশি কার্যকর। এ কারণে টিকাদান, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মতো উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হক এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।

এ সময় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ-উল-ইসলাম এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফয়সাল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  আরও পড়ুন
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক