কারাগারে বন্দি মায়েদের সন্তানদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চিকিৎসক-নার্স বৃদ্ধি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশের কারাগারে আটক নারী বন্দীদের সাথে থাকা শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। তাদের চিকিৎসা, খাবার ও সার্বিক জীবনমান উন্নত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কারাগারে থাকা শিশুদের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে শিগগিরই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স এবং ফার্মাসিস্ট বৃদ্ধি করা হচ্ছে। হঠাৎ অসুস্থতা বা বিশেষ পরিচর্যার জন্য এসব পদে লোকবল বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছিল।
ডে-কেয়ার সেন্টার ও ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা
পর্যায়ক্রমে দেশের ৭৫টি কারাগারে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক নিয়োজিত থাকবেন। বর্তমানে কাশিমপুর, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনাসহ মোট ৮টি বিভাগীয় কারাগারে এই সুবিধা চালু রয়েছে।
বর্তমান কারাবন্দী শিশুদের অবস্থা
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে প্রায় ৩, হাজার ৮০০ জন নারী বন্দী রয়েছেন, যাদের সাথে রয়েছে ৩৫০ জন শিশু (১৭৮ জন ছেলে ও ১৭২ জন মেয়ে)। কারা বিধান অনুযায়ী ছয় বছরের কম বয়সী শিশুরা মায়ের সঙ্গে থাকার সুযোগ পায়।
তিন বছরের বেশি বয়সী শিশুদের ডে-কেয়ার সেন্টারে প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি নাচ, গান ও চিত্রাঙ্কণ শেখানো হয়। শিশুদের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে ছোট খেলার মাঠ, শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি ও নানা সরঞ্জাম রাখা হয়েছে।
পুষ্টিকর খাবার ও পোশাক সরবরাহ
দুগ্ধপোষ্য শিশুদের জন্য দুধের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়তি পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। পাশাপাশি মায়েদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে শিশুদের পোশাক এবং ঈদ, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের মতো বিশেষ দিনে নতুন কাপড় দেওয়া হয়।
১৭৮৮ সালে পুরানো ঢাকার চকবাজারে ক্ষুদ্র পরিসরে যাত্রা শুরু করা কারা ব্যবস্থা আজ অনেকটাই বদলে গেছে। বন্দীদের কেবল আটকে রাখা নয়, বরং খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক আয়োজন, ধর্মীয় শিক্ষা ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তাঁদের সমাজে ফিরিয়ে আনার নানা উদ্যোগ কার্যকর করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মেছবাহুল আলম সেলিম জানান, দেশের কারাগারগুলোতে নারী বন্দীদের সাথে থাকা শিশু সন্তানদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে বর্তমান সরকার খুবই আন্তরিক। শিগগিরই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স বৃদ্ধি ও ফার্মাসিস্ট নিয়োগের আশা করছেন তারা। এ ছাড়া ৭৫টি কারাগারে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন ও ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক নিয়োজিত রাখার কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকারের উদ্যোগে বন্দীদের সংশোধন, উন্নয়ন ও পুনর্বাসনমূলক নানা কাজ চলমান রয়েছে।
জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মো. মাসুদ হাসান জুয়েল জানান, ডে-কেয়ারে থাকা শিশুদের জীবনযাপনের জন্য স্থানীয় কারা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী দৈনন্দিন খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পাশাপাশি নারী বন্দীদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে শিশুদের পোশাক এবং মহান বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার মতো বিশেষ দিনগুলোতে নতুন কাপড়ের ব্যবস্থা করা হয়।
কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, এই বিশেষায়িত নারী কারাগারে বর্তমানে ৮১৩ জন বন্দীর সঙ্গে ৬০ জন শিশু সন্তান রয়েছে। সেখানে শিশু সন্তানদের চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ডে-কেয়ার সেন্টার ও নার্স বৃদ্ধির কাজ চলছে। বন্দীদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিং ও মানসিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালু রয়েছে।
জেএইচ/