রামেবি উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হককে অবরুদ্ধ করে আগে থেকে প্রস্তুত করা পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’ ব্যানারে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকে ‘ভিসি ঘেরাও’ কর্মসূচি পালন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের দাবি, এ সময় জোরজবরদস্তি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে উপাচার্যের কাছ থেকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় উপাচার্যের কার্যালয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রারসহ কয়েকজন কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। একপর্যায়ে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা উপাচার্যের কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন। উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসাইন তাদের অনুমতি নেওয়ার কথা বললে তাঁকে বাধা দেওয়া হয় এবং তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে জোর করে উপাচার্যের কক্ষে প্রবেশ করে তাঁকে অবরুদ্ধ করা হয় বলে দাবি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা। তাদের অভিযোগ, আগে থেকেই প্রিন্ট করে রাখা একটি পদত্যাগপত্র উপাচার্যের সামনে দিয়ে তাতে স্বাক্ষর করতে বলা হয়।
এ বিষয়ে উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসাইন জানান, স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে উপাচার্যের সঙ্গে জোরজবরদস্তি ও ধস্তাধস্তি করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। একইভাবে তাঁকেও চাকরি থেকে অব্যাহতির একটি পত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘তাঁরা ভিসি স্যারের রুমে প্রবেশ করে আগে থেকে লিখে নিয়ে আসা পদত্যাগপত্রটি দিয়ে বলেন, আপনি এখনই স্বাক্ষর করেন। এরপর তারা আমাকেও স্বাক্ষর করতে বলেন। আমি স্বাক্ষর করতে না চাইলে আমাকে মারধর করা হয়। পরে ভিসি স্যার ও আমার পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে তাঁরা চলে যান।’
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গেও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। উপাচার্যের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা জানান, পরে উপাচার্যকে তাঁর কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া দেয় মবকারীরা। একই সময়ে কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং সিসিটিভি ক্যামেরার কম্পিউটার ও হার্ডডিস্কসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যায় তারা।
উপাচার্যের থেকে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া পদত্যাগপত্রে ‘পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র মতে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এমআর/