রোগীর মৃত্যু: মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে সংঘবদ্ধ হামলা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে এই ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মৃত্যুর ঘটনাটি মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় যুবদল নেতা শাহরিয়ার সবুজ ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। তবে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হাসপাতালে ভাঙচুর চালানো হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রচণ্ড পেটব্যথা নিয়ে ওই রোগীকে মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের পরামর্শে আলট্রাসনোগ্রাফি করা হলে তার অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়া হলে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগেই শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনরা বিষয়টি বুঝতে পেরে লাশ নিয়ে গাজীপুরে চলে যান এবং রাতে দাফন সম্পন্ন করেন।
তাদের অভিযোগ, ওই দিন রাত ১০টার দিকে শাহজাহানপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের পরিচয় দিয়ে শাহরিয়ার সবুজ নামে এক ব্যক্তি হাসপাতালে এসে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলেন এবং ঘটনাটি মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে একপর্যায়ে হাসপাতালের লেবার রুমে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা তাদের জানিয়েছি, ভুল চিকিৎসা হয়ে থাকলে তারা আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারেন। এভাবে কাউকে টাকা দেওয়া হবে না।’
তার অভিযোগ, ‘একই দিন দুপুর বেলায় এ বিষয়ে আলোচনায় বসার কথা থাকলেও তারা আসেননি। বিকেলে প্রায় ১০০ লোক নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তারা চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন।’
গেট থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান করতে বলায় তারা তাকে মারধর শুরু করেন জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনায় হাসপাতালের ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আহত হয়েছেন।
রোগীর বাবা প্রতিষ্ঠানের কাছে তেমন কিছু দাবি করেননি জানিয়ে হাসপাতালের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘রোগী মারা গেছে শনিবার। রোববারে তারা রাতে ঝামেলা করছে। ওই দিন মাগরিবের আগেও রোগীর বাবা হাসপাতালে ছিলেন। তিনি কষ্টে আছেন। তবে তিনি আমাদের কাছে কিছু দাবি করেননি। বহিরাগতরা আমাদের রুম থেকে মেয়ের বাবাকে বের করে দেয়। এর পর বলে যে, আমরা যেটা বলব—সেটাই মেয়ের বাবার কথা। এইভাবে তারা ১০ লাখ টাকা দাবি করে।’
‘এটাতে রাজি না হওয়ায় আমাদেরকে হুমকি দিয়ে অফিস রুম থেকে বের হয়ে গেছেন এবং বলেছেন, হাসপাতালের বাইরে বের হলে আমাদেরকে তুলে নিয়ে যাবে, আশপাশে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাবে, ধরে রাখবে। তারপরে লোক জড়ো করে ভাঙচুর করেছে। আমাদের স্টাফদের আহত করেছে, আহতের সংখ্যা ৩০ জনের উপরে’—বলেন তিনি।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘রোগীর সাথে সারা রাত রোগীর মা ছিলেন এবং আমরা আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চিকিৎসা করেছি। এখন যখন দুর্ঘটনা ঘটে গেল, তখনও তারা প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন যে চলে যাবেন। এর মধ্যে আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা পরে বহিরাগতরা তাদের কাছে আসে, তারপর থেকে মূলত সমস্যার উৎপত্তি। রোগীর স্বজনদের দিক থেকে প্রথমে কোনো দাবি ছিল না। এখনো নেই।’
‘বহিরাগতরা হাসপাতাল থেকে রোগীর বাবা-মাকে বের করে দেওয়ার পর তাদের সঙ্গে কথা সম্ভব হচ্ছে না। তারা রেলওয়ে কলোনিতে থাকে, মেয়ের বাবা রেলওয়ের ক্লিনার হিসেবে কাজ করেন।’
এমইউ/