মুগদা মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ইনডাকশন অনুষ্ঠিত
মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ইনডাকশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ৯টায় মেডিকেল কলেজের হাসপাতাল কনফারেন্স রুমে এই প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।
মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মেজবাহুর রহমানের সভপিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, এম.পি। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মোশাররফ হোসেন, উপাধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ মাহমুদ আলম ও ইন্টার্ন কো-অডিনেটর ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন সুমন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাবিবুর রশীদ বলেন, ‘মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে আমার পড়াশোনা। ছোটবেলা থেকেই চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু তা হয়ে ওঠেনি। তবে আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আজ আপনাদের পাশে থাকার সুযোগ পেয়েছি। এজন্য আমি কৃতজ্ঞ।’
নবীন চিকিৎসকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটি আপনাদের জন্য একটি নতুন শুরুর দিন। দীর্ঘ একাডেমিক জীবন শেষ করে আপনারা এখন বাস্তব চিকিৎসাসেবার জগতে প্রবেশ করছেন। এটি আনন্দের পাশাপাশি বড় ধরনের পেশাগত দায়িত্বেরও সময়। একজন চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞান নয়; এর সঙ্গে মানবিকতা, সততা, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠাও প্রয়োজন।’
মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ইতোমধ্যে মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা ৫০০ থেকে এক হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু শয্যাসংখ্যাই বাড়েনি, হাসপাতালের অবকাঠামো, চিকিৎসা সুবিধা ও সেবার মান আরও উন্নত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
চিকিৎসকদের সুযোগ-সুবিধা ও হাসপাতালের উন্নয়ন প্রসঙ্গে হাবিবুর রশীদ বলেন, ‘আপনাদের প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা হয়তো আমরা এখনো পরিপূর্ণভাবে দিতে পারছি না। তবে প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছি। আমাদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে, কিন্তু যতটুকু সক্ষমতা আছে, তা সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি।’
চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যেভাবে দেশের মানুষকে সেবা দিচ্ছেন, আমরাও চাই ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের পাশে থেকে আপনাদের মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে। মনে রাখতে হবে, এ এলাকার অনেক মানুষ আর্থিক ও সামাজিক নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে জীবনযাপন করেন। তাঁরা যখন হাসপাতালে আসেন, তখন আপনারাই তাঁদের শেষ ভরসা। তাই রোগীদের প্রতি সর্বোচ্চ মানবিকতা ও সহমর্মিতা দেখাতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেউ অন্যায় করলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি কথা দিচ্ছি, আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যাতে আপনারা নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে আমরা আপনাদের পাশে থাকব।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন রোগী হাসপাতালে এসে শুধু ওষুধ বা চিকিৎসা চান না; তিনি চিকিৎসকের পরিচর্যা ও আস্থা চান। তাই রোগীর সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ এবং মনোযোগ দিয়ে তাঁর কথা শোনা একজন চিকিৎসকের মৌলিক দায়িত্ব।’
বক্তব্যের শুরুতে জুলাই-আগস্টে জীবন দেওয়া ছাত্র-জনতার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের প্রতি গভীর জ্ঞাপন করেন প্রতিমন্ত্রী। বলেন, ‘জুলাইকে আমরা ধারণ ও লালন করি। জুলাইয়ের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, সেই সময়ে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে হোস্টেল সুপার হিসাবে নতুন ইন্টার্নদের জন্য হোস্টেল বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের দাবি তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় ড্যাবের কার্যকরী কমিটির সদস্য, বিসিএস স্পেশালিস্ট ডক্টরস ফোরামের সদস্য সচিব ও হোস্টেল সুপার ডা. মোহাম্মদ আল আমিন।
বক্তব্য রাখেন ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. আব্দুল্লাহ আল মারুফ ও সেক্রেটারি ডা. তানজিম মাহফুজ মজুমদার।
অনুষ্ঠানে মুগদা মেডিকেলের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
এমইউ/