ডা. মো. জয়নাল আবেদীন টিটো
২১তম বিসিএসের একজন সদস্য
সাবেক লাইন ডিরেক্টর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৩৯ এএম
রোগী দেখার সময় চিকিৎসকের বই খোলা কি অপরাধ?
রোগী দেখার সময় কিংবা চিকিৎসা দেওয়ার পর মেডিসিনবিষয়ক বই খুলে সর্বশেষ গাইডলাইন দেখে নেওয়ার রীতি সারা বিশ্বেই প্রচলিত। একজন চিকিৎসক যত অভিজ্ঞই হোন না কেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের জ্ঞানভান্ডারের সামনে নিয়মিত পড়াশোনা ও তথ্য যাচাই করা তাঁর পেশাগত দায়িত্বেরই অংশ।
ধরুন, একটি জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে একজন ব্যক্তি শ্বাসকষ্ট নিয়ে উপস্থিত হলেন। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে দেখে অক্সিজেন দিলেন, এক্স-রে, ইসিজি ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার পরামর্শ দিলেন। অসুস্থ ব্যক্তি পরীক্ষা করার জন্য চলে গেলেন ল্যাবে। কিন্তু ডাক্তার সাহেবের মনের খচখচ কমছে না—‘একজন মানুষের শ্বাসকষ্ট আর কী কারণে হতে পারে?’
এটা কি অ্যাকিউট বা ক্রনিক রেনাল ডিজিজ? ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস? তিনি বই খুলছেন। সমাধানের জন্য তাঁর শিক্ষককে ফোন করলেন। এটা কি চিকিৎসাসংক্রান্ত আইনে নিষিদ্ধ?
বেশ কয়েক বছর আগের কথা। অনেক দিনের পুরোনো জ্বরের উপসর্গ নিয়ে আমার কাছে একজন ব্যক্তি এলেন। তিনি বেশ কয়েকজন ডাক্তার দেখিয়েছেন, ওষুধ খেয়েছেন, কিন্তু জ্বর আর ভালো হয় না। আমি লেটেস্ট এডিশনের ‘ডেভিডসন’স প্রিন্সিপলস অ্যান্ড প্র্যাকটিস অব মেডিসিন’ বই খুললাম। অজানা কারণে জ্বরের (পাইরেক্সিয়া অব আননোন অরিজিন) কারণগুলো অনুসন্ধান করলাম। এক কোণে লেখা হাইপারট্রাইগ্লিসারাইডেমিয়া। তাঁর রক্ত পরীক্ষা করে ঠিক এই রোগটিই পাওয়া গেল। একটি মাত্র ওষুধ লিখে দিলাম। দীর্ঘদিন ধরে জ্বরে ভোগা মানুষটা অল্প দিনেই ভালো হয়ে গেল।
চিকিৎসকের বই অধ্যয়ন রোগীকে উপকৃত করে
আদালতে আর্গুমেন্ট করার সময় একজন আইনজীবী যদি বিচারকের সামনে সংবিধান বা দণ্ডবিধি খুলে পড়েন, তাহলে কি বিচারক রাগ করেন? মোটেও নয়। একজন সরকারি কর্মকর্তার টেবিলে সার্ভিস রুলস, চাকরির বিধানাবলির বই থাকবে এবং সময় সময় তিনি সেটা খুলে পড়বেন—এটাই স্বাভাবিক।
একজন চিকিৎসকের টেবিলে ডেভিডসন,হ্যারিসন, বেইলি অ্যান্ড লাভ,পারভীন কুমার–এর বই থাকবে। থাকতেই হবে। আমি আমার টেবিলে সর্বশেষ সংস্করণের বই রাখব, গাইডলাইন রাখব। কারণ, যিনি পড়েন, তিনি জ্ঞানী।
এমআর/