টিকায় বিনিয়োগ ও রপ্তানি বাড়াতে ডব্লিউএইচওর শর্ত পূরণের লক্ষ্য সরকারের
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে প্রায় এক দশক ধরে চেষ্টা চালিয়েও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ম্যাচিউরিটি লেভেল-৩ (এমএল-৩) অর্জন করতে না পারায় বৈশ্বিক ভ্যাকসিন বাজারে এখনও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে আগামী ২০২৭ সালের মে মাসে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশের (ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলি) আগেই এমএল-৩ অর্জন করতে চায় সরকার।
গত সোমবার (২৪ আগস্ট) ডব্লিউএইচওর বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী ওষুধ ও ভ্যাকসিন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় এমএল-৩ অর্জনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় দেশের ভ্যাকসিন ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বর্তমান সক্ষমতা পর্যালোচনার পাশাপাশি বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে দ্রুত অগ্রগতির জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এ লক্ষ্য অর্জনে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন, জনবল সক্ষমতা বাড়ানোসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী ওষুধ ও ভ্যাকসিন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় এমএল-৩ অর্জনের লক্ষ্যে গত ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় দেশের ভ্যাকসিন ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বর্তমান সক্ষমতা পর্যালোচনার পাশাপাশি বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে দ্রুত অগ্রগতির জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী গণমাধ্যমকে বলেন, এমএল-৩ মূলত একটি দেশের ওষুধ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, বিশেষ করে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) সক্ষমতা উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়, দেশে উৎপাদিত ভ্যাকসিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সব মানদণ্ড মেনে উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে ম্যাচিউরিটি লেভেল-২-এ আছি। ডব্লিউএইচও ২০২১ সালে বাংলাদেশের সক্ষমতা মূল্যায়নে একটি আনুষ্ঠানিক মিশন পরিচালনা করেছিল। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে আমাদের ২১১টি সূচক পূরণের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে।’
এসব সূচক পূরণে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দারকে চেয়ারম্যান করে উচ্চপর্যায়ের একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে সরকার। এতে ডব্লিউএইচও, ডিজিডিএ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মন্ত্রণালয় এবং দেশের তিন ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান—ইনসেপ্টা, হেলথকেয়ার ও পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস যুক্ত রয়েছে।
ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং দ্রুততার সঙ্গে সব কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন। টাস্কফোর্স ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আমরা আশা করছি, ২০২৭ সালের মে মাসে পরবর্তী বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশের আগেই এমএল-৩ অর্জন করতে পারব।’
উল্লেখ্য, গত ১ আগস্ট বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে এমএল-৩ অর্জনের সিদ্ধান্ত হয়।
এমআই/