ভালো চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর আস্থাও অর্জন করতে হবে: স্বাস্থ্য ডিজি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: রোগীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসকদের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি মানবিক ও সহানুভূতিশীল আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি বলেছেন, রোগীর সঙ্গে চিকিৎসকের আচরণ, মনোযোগ ও আন্তরিকতা চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হারানো আস্থা পুনরুদ্ধারে এ জায়গায় পরিবর্তন আনা জরুরি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্টস সোসাইটির আয়োজনে জাতীয় সাধারণ সভা এনজিএ ২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ওয়ান প্লেজ, ওয়ান বন্ড: ডক্টরস রাইটস অ্যাবাভ অল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৯৫০ জন মেডিকেল শিক্ষার্থী, তরুণ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য পেশাজীবী অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে রোগীদের অন্যতম অভিযোগের বিষয় তুলে ধরে অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা রোগীকে প্রয়োজনীয় সময় দেন না। আবার রোগীর সঙ্গে প্রত্যাশিত আচরণও করা হয় না। এই অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন। ধৈর্য ধরে রোগীর কথা শোনা, আন্তরিকতা দেখানো এবং চিকিৎসার সময় যথাযথ মনোযোগ দেওয়ার মাধ্যমে রোগীর অসন্তোষ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
তিনি বলেন, চিকিৎসকের কাছে একজন রোগী শুধু চিকিৎসা নিতে আসেন না, বরং আশা ও বিশ্বাস নিয়েও আসেন। ভালো চিকিৎসা ও সঠিক ব্যবস্থাপত্রের পাশাপাশি রোগী চিকিৎসকের কাছ থেকে নিরাপত্তা ও ভরসার অনুভূতি প্রত্যাশা করেন। তাই চিকিৎসকদের জন্য মানুষের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার করা এখন একটি বড় দায়িত্ব।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরও বলেন, দেশের গ্রামাঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম শক্তিশালী করতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কমিউনিটি পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবার পরিকল্পনা কর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীর প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জটিল রোগীদের ধাপে ধাপে ইউনিয়ন থেকে উপজেলা, জেলা এবং উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে একটি কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা বর্তমানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর মাধ্যমে এই ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান চিকিৎসকদের গবেষণায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে একজন চিকিৎসক নতুন জ্ঞান ও উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন রোগ নিয়ে কাজ হলেও অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে বিদেশি ও আঞ্চলিক তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। দেশের রোগের প্রকোপ, বিস্তার ও চিকিৎসা বিষয়ে নিজস্ব তথ্যভাণ্ডার তৈরিতে চিকিৎসকদের গবেষণায় এগিয়ে আসতে হবে।
বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও হেড অব অফিস ডা. সুসান ভাইজে বলেন, তরুণ চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পেশাগত বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি ক্লিনিক্যাল দক্ষতা, জনস্বাস্থ্য, গবেষণা ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনার বিষয়েও এ ধরনের আয়োজন ভূমিকা রাখে। এতে তরুণ স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের মধ্যে নেতৃত্ব ও পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ডা. আব্দুল হান্নান চৌধুরী, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম, শান্তি ক্যান্সার ফাউন্ডেশনের প্রধান পরামর্শক ডা. পারভীন শহীদা আক্তার এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রো ভাইস চ্যান্সেলর ডা. নাসার উ. আহমেদসহ চিকিৎসা, শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এনএইচ/