রাশিয়ায় গ্যাস পাইপ বিস্ফোরণ: আহত ৩৫ বাংলাদেশী, নিখোঁজ এক
মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের অধীন আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্স (এজিসিসি) প্রকল্পে গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণের ঘটনায় ৩৫ বাংলাদেশী কর্মী আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশী কর্মীর একজনকে পাওয়া গেছে। অপর একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাস।
বুধবার (২৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে এজিসিসি প্রকল্পের সিনোপেক প্লান্ট-৪ ও প্লান্ট-১০ এলাকায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলাকালে এ বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, পরীক্ষার সময় একটি পাইপ ফেটে আগুন ধরে যাওয়ার পর ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটে।
মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে রুশ, চীনা, বাংলাদেশী, নেপালি, আজারবাইজানি, উজবেক ও তাজিকিস্তানের কর্মীসহ প্রায় ৫০-৬০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া কয়েকজন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্লান্ট-১০ এ কর্মরত ২৩ বাংলাদেশী কর্মীর মধ্যে ৯ জন আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। এ ছাড়া ১২ জন বাংলাদেশি কর্মীকে ডরমেটরিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। নিখোঁজ দুই বাংলাদেশী কর্মীর একজনকে পাওয়া গেছে; অপর একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
মস্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের সচিব (শ্রম) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, আহতদের মধ্য থেকে শারীরিকভাবে সংকটাপন্ন দুই বাংলাদেশী কর্মীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূর থেকে মস্কোর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে। তাদের চিকিৎসা ও স্থানান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস সজাগ দৃষ্টি রাখছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছে।
ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রকল্পের কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
দূতাবাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ওই কোম্পানির প্রকল্পে প্রায় দুই হাজার ৫০০ বাংলাদেশী কর্মী যান। বর্তমানে প্রকল্পটি শেষ পর্যায়ে থাকায় প্লান্ট ৪ ও ১০ মিলিয়ে প্রায় এক হাজার ৬০০ কর্মী সেখানে কর্মরত রয়েছেন।
জেএইচ/