২২ অগাস্ট, ২০২৬ ০৭:০৮ পিএম

হাসপাতাল-স্বাস্থ্য পেশাজীবীরা চাঁদাবাজির লক্ষ্যে পরিণত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হাসপাতাল-স্বাস্থ্য পেশাজীবীরা চাঁদাবাজির লক্ষ্যে পরিণত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে একটি চক্র হাসপাতাল ও চিকিৎসকসহ অন্যান্য পেশাজীবীদের লক্ষ্য বানিয়েছে বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। আজ শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা মেডিকেলের চক্ষু বিভাগে চিকিৎসাধীন ডা. আসাদুর রহমানকে দেখার পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। 

চাঁদার জন্য সন্ত্রাসী হামলায় আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) নাক কান গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আসাদুর রহমানকে দেখতে গিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ সময় সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসায়ীদের অতি দ্রুত নির্মূলের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এতে ব্যর্থ হলে বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘অতিশীঘ্র ব্যবস্থা নিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনতে না পারলে, যারা ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এর পেছনে সরকারকে অস্থিতিশীল করার কোনো উদ্দশ্য নেই। তারা রাতারাতি কোটিপতি হতে চায়—এটাই তাদের উদ্দেশ্য। বিভিন্ন সিন্ডিকেটের সম্পৃক্ততার কথা বলে তারা বিষয়টি উপস্থাপন করছে। এ ছাড়া যেসব গডফাদার এর সঙ্গে জড়িত, তাদের নামও আমরা পাচ্ছি।’

‘একটি সংঘবদ্ধ চক্র বড় বড় হাসপাতাল, ডাক্তার বা অন্যান্য পেশাজীবীদের টার্গেট করে ভয়ভীতি, হুমকি, সর্বশেষ আঘাত করে তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্য ছিল। চক্রটির ৭ জনের মধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করতে সম্ভব হয়েছে পুলিশ ও ডিবি। লক্ষ্মীপুর, যাত্রাবাড়ী ও সাঁতারকুল থেকে ৩ জনকে ও ওইদিন ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়েছিল একজনকে’—বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি পুলিশের একটি বিষয়ের প্রশংসা করব—তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে। সে বিদেশে ছিল। জানা গেছে, সে হুন্ডির ব্যবসা করত এবং সেখানে লোকসান হওয়ায় তা পুষিয়ে নিতে এই কাজে জড়িয়েছে। সে কিছু সন্ত্রাসীকে একত্রিত করে এই সংগঠন গড়ে তুলেছিল। ধনাঢ্য ব্যক্তি, ভালো পেশাজীবী, বড় বড় চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের টার্গেট করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। আমি মনে করি, এগুলো নির্মূল হয়ে যাবে।’

পুলিশের আরও কাজ করা বাকি আছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘এসব সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রগুলোকে নির্মূল করতে চাই। আজকেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, বিশেষ করে মেট্রোপলিটন এলাকায় যারা চাঁদাবাজ, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, তাদেরকে অতি শীঘ্রই যদি হেফাজতে না নিতে পারে, তাহলে যারা যারা ব্যর্থ হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু চাঁদাবাজদের তালিকা করছি না। চাঁদাবাজদের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্যের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের তালিকাও করা হচ্ছে।’

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।