০৯ অগাস্ট, ২০২৬ ১১:০৬ পিএম

‘আহতদের সেবা নিশ্চিতে চিকিৎসকরা জুলাইয়ে চাকরি-জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন’

‘আহতদের সেবা নিশ্চিতে চিকিৎসকরা জুলাইয়ে চাকরি-জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন’
ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: মেডিভয়েস

মেডিভয়েস রিপোর্ট: জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে জীবন ও চাকরির ঝুঁকি নিয়ে আহতদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে চিকিৎসকরা মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন বলে জানিয়েছেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, অবিস্মরণীয় সেই অবদানের কথা ভুলে গিয়ে সৎ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক চিকিৎসকদের আজ বদলির মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে। মেধাবীদের উপযুক্ত জায়গায় কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে ব্যক্তি নয়, বরং পুরো রাষ্ট্র ও জাতিকে ক্ষতির মুখে ফেলা হচ্ছে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের ত্যাগ ও মানবিক ভূমিকার স্বীকৃতি, মেধার যথাযথ মূল্যায়ন এবং পেশাটির হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান জামায়াত আমীর।

আজ রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৫টায় রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ, আহত, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও নাগরিকদের অবদান স্মরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেধার মূল্যায়নের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশে আসার আগে ও পরে বহুবার বলেছেন, আমরা একটি মেধাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে চাই। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কোথায়? কোথাও তো তার প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি না। বরং সৎ, মেধাবী, প্রতিশ্রুতিশীল ও দেশপ্রেমিক মানুষ—যারা আন্তরিকভাবে জাতির সেবা করতে চান, তাদের স্বৈরাচারী আমলের মতোই বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তাদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বদলি করে অযথা নাজেহাল করা হচ্ছে।’

‘কেন এই প্রতিশোধ? এই প্রতিশোধ কার বিরুদ্ধে? এটা শুধু ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নয়। তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত জায়গায় কাজ করার সুযোগ না দিলে রাষ্ট্র তাদের সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। আর সেই ক্ষতি হবে গোটা জাতির। অর্থাৎ, আপনাদের প্রতিশোধ শেষ পর্যন্ত জাতির বিরুদ্ধেই যাবে। আমরা সংসদে বিষয়টি তুলে ধরেছি, ব্যক্তিগতভাবেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। কিন্তু কোনো পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি না’—বলেন তিনি।

বিগত সরকার থেকে কোনো শিক্ষাই নেওয়া হয়নি মন্তব্য করে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা ছিল। যারা আজ সরকারে আছেন এবং যারা বিরোধী দলে আছেন, তারা সবাই একসময় মজলুম ছিলেন। তাহলে সেই মজলুমরাই আবার জালিমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন কেন?

মজলুম যখন জালিম হয়ে ওঠে, তখন তার পরিণতি অনেক সময় আগের জালিমের চেয়েও ভয়ংকর হয়।

ক্ষমতাচ্যুতদের ফিরে আসার হুমকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাঝেমধ্যেই শোনা যায়, এই বুঝি এসে গেলাম। আসলে যে মানুষ প্রতিদিন বলে, আমি আত্মহত্যা করব, সে সাধারণত আত্মহত্যা করে না। আর যে সত্যিকারের বীর, সে নিজেকে বীর যোদ্ধা বলে বেড়ায় না। যুদ্ধের ময়দানে তার সাহস ও ত্যাগই তাকে বীর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে; জাতিই তাকে বীর যোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়। তাই এত সাহস থাকলে পালিয়ে গেলেন কেন?

চিকিৎসা ছাড়া অন্য কিছু এতো সেবার সুযোগ নেই

তিনি বলেন, ‘আমার বিবেচনায়, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের যে সুযোগ চিকিৎসকদের দিয়েছেন, তা দেশের অন্য কোনো সেবার শাখায় এত ব্যাপকভাবে পাওয়া যায় না। কারণ মানুষ সাধারণত দুটি জায়গায় আশ্রয় খোঁজে। একটি হলো মারাত্মক কোনো সন্ত্রাস বা বিপদের মুখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পুলিশের কাছে। আরেকটি হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্র।’ 

তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা জীবন দান করেন, আর চিকিৎসকরা সেই জীবনকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখার জন্য নিরন্তর লড়াই করেন। এ কারণেই পশ্চিমা সমাজে চিকিৎসকদের কখনো কখনো ‘নেক্সট টু গড’ বলে অভিহিত করা হয়।

তিনি বলেন, সমাজে একজন চিকিৎসকের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। এমনকি একজন সাধারণ নার্স বা টেকনিশিয়ানকেও গভীর সম্মান দেওয়া হয়।

কাজের মাধ্যমে উদাহরণ সৃষ্টি করে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং সমাজকে আরও সুস্থ, মানবিক ও শক্তিশালী করে তোলার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

অভ্যুত্থানে চিকিৎসকদের ত্যাগের গল্প

অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানে চিকিৎসকদের ত্যাগের গল্প তুলে ধরেন জামায়াত আমীর। বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে, আপনারা ঐতিহাসিক মানবিক ভূমিকা পালন করেছেন। যারা আহত হয়েছিলেন, তাদের চিকিৎসা দিতে আপনারা চাকরি ও জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন।’

‘আপনারা সময়মতো চিকিৎসা না দিলে যারা শেষ পর্যন্ত বেঁচে ফিরেছেন, তাদের অনেকেই হয়তো আমাদের ছেড়ে চলে যেতেন। এই গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য আপনাদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা রইল’—বলেন তিনি। 

এ সময় আদ্ব-দীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমীর বলেন, আদ্ব-দীন হাসপাতাল কিছুদিন আগে একটি অন্যায় ও অযৌক্তিক হুমকির মুখে পড়েছিল। ছয়জন নবজাতকের মৃত্যুর পর হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সারাদেশের মানুষ আদ্-দ্বীনের পাশে এবং মহিউদ্দীন সাহেবের পাশে দাঁড়িয়েছিল। এটি ছিল আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

হাসপাতালটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্র্যান্ডিং করা হলো—এর মালিক জামায়াতে ইসলামী, অতএব এটি জামায়াতে ইসলামীর হাসপাতাল এবং তাই শাস্তি দিতে হবে। প্রশ্ন হলো, সবকিছুকে রাজনৈতিক দৃষ্টিতে দেখতে হবে কেন?

এটি মানবসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, যেখানে মানুষ চিকিৎসা ও সেবার মাধ্যমে স্বস্তি পায়। হাসপাতালটি বন্ধ হওয়ার পর মানুষের যে আহাজারি আমরা শুনেছি, তা সবারই জানা। এভাবেই এখন প্রতিটি ক্ষেত্রকে রাজনৈতিকীকরণ করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করা হচ্ছে। এটি বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, একদিকে গালিগালাজ ও বিভাজনের রাজনীতি চলবে, আর সবকিছু শেষ হওয়ার পর বলা হবে—‘আসুন, আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতি গঠন করি। এই ভণ্ডামি বন্ধ করতে হবে।’

প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান

জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হলে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে সম্মান করতে হবে এবং তার ন্যায্য অধিকার তাকে দিতে হবে। জাস্টিস প্রতিষ্ঠা করতে হবে, বৈষম্য দূর করতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা সত্যিকার অর্থে দেশপ্রেমিক, সৎ ও মেধাবী—তাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। তা না করে যদি অন্যদের অযোগ্যতা সত্ত্বেও প্রাধান্য দেওয়া হয়, তাহলে বুঝতে হবে এর পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। যারা এভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করছে, তারা তাদের হাতে থাকা ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করতে চায়। তারা কোনো প্রতিবাদী কণ্ঠ বা সৎ মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো অবস্থানে দেখতে চায় না।

‘অ্যাবসোলিউট পাওয়ার মেকস অ্যাবসোলিউট করাপশন। যদি এই ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যই হয় নিরঙ্কুশ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা এবং ব্যাপক দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করা, তাহলে আমরা তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই—আমরা নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকব না—সতর্ক করেন তিনি।

জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ

এর আগে বক্তব্যের শুরুতে জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করে জামায়াত আমীর বলেন, ২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশে একটি মাস ৩৬ দিনে গণনা করা হচ্ছে—সেই মাসটি জুলাই। ৫ আগস্টকে বলা হয় ৩৬ জুলাই। এই ৩৬ জুলাই রক্ত দিয়ে লেখা হয়েছে।

‘বিশ্বের ক্যালেন্ডারে এই নতুন অধ্যায় যুক্ত করতে আমাদের উচ্চ মূল্য দিতে হয়েছে। এই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন সম্মানিত চিকিৎসকও রয়েছেন। সম্ভবত এমন কোনো শ্রেণি-পেশা খুঁজে পাওয়া যাবে না, যার মানুষ এই আন্দোলনে কোনো না কোনোভাবে ত্যাগ স্বীকার করেননি।’

তিনি বলেন, ‘কেউ শহীদ হয়েছেন, কেউ হত্যার শিকার হয়েছেন; কেউ আহত ও পঙ্গু হয়েছেন, কেউ অন্যভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। আবার কেউ আহত, পঙ্গু ও হতাহতদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। আর যারা সরাসরি কিছু করতে পারেননি, তারাও আন্দোলনের রাজপথে নেমে আসা মানুষের জন্য এক বোতল পানি নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। এর মধ্য দিয়েও তারা জানিয়েছেন, তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চান।’

জামায়াত আমীর বলেন, আজকের এই দিনের প্রতিপাদ্য হিসেবে তিনটি বিষয়কে সামনে আনা হয়েছে—জাস্টিস, মেরিট ও ইউনিটি।

‘সেদিনগুলোতে যারা জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে রাজপথে লড়াই করছিলেন, তাদের অন্যতম স্লোগান ছিল উই ওয়ান্ট জাস্টিস। বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাদের দৃঢ় অবস্থান ছিল। তারা স্লোগান দিয়েছিলেন মেধা না কোটা, মেধা মেধা। এর মধ্য দিয়ে তারা জাতির মধ্যে বিদ্যমান বিভেদ, বিভাজন, বৈষম্য ও বঞ্চনা দূর করে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন, একটি ইউনিফাইড নেশন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন।’

জাতিসংঘ প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৪০০ মানুষ নিহত 

জামায়াত আমীর বলেন, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানবাধিকারবিষয়ক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, শুধু জুলাই-আগস্টের ঘটনায় এক হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ জীবন দিয়েছেন।

‘এ ছাড়াও ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের হত্যাকাণ্ডের যে তাণ্ডব শুরু হয়েছিল, তাতেও বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। কেউ কেউ গুম হয়ে লাশ হয়ে ফিরেছেন, আবার কেউ গুম হওয়ার পর আজ পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের হাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর তরতাজা তরুণ ও যুবকদের ধরে নিয়ে থানার মেঝেতে শুইয়ে ঠাণ্ডা মাথায় হাঁটুতে গুলি করা হতো, যাতে তারা চিরজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যান’—বলেন তিনি।

‘আহত অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলেও অনেক সময় চিকিৎসা নিতে দেওয়া হতো না। অবহেলা ও অযত্নে চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় তাদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হতো। কখনো আহত অঙ্গটি পচে-গলে যাওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হতো, যাতে শেষ পর্যন্ত সেই অঙ্গ হারিয়ে তারা পঙ্গুত্ব বরণ করেন।’

বগুড়ার আহত এক ছেলের কথা স্মারণ করেন বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘তখন সে নবম শ্রেণিতে পড়ত। ২০১৩ সালের পর আমি তাদের বাসায় তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। ছেলেটির অবস্থা দেখে খুব খারাপ লেগেছিল। তার শরীরে যেন হাড় আর চামড়া ছাড়া আর কিছুই ছিল না। সে বিছানা থেকে উঠতে পারত না; প্রতিদিন তাকে সাহায্য করার জন্য একজন মানুষের প্রয়োজন হতো।’

‘তার বাবা অতি সামান্য বেতনের একটি ছোট চাকরি করতেন। শেষ পর্যন্ত আমি তাকে বলেছিলাম, আপনি চাকরির মায়া ছেড়ে দিয়ে আপনার সন্তানকে সময় দিন। সন্তানের প্রতি ভালোবাসা ও মমতায় সেই বাবা চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। এরপর আর চাকরিতে ফেরেননি। একে একে ১৩ বছর কেটে গেছে।’

জামায়াত আমীর বলেন, সেদিন সরকারি দলের মানুষ, বিরোধী দলের মানুষ এবং যারা সংসদের বাইরে ছিলেন—সকলেই কোনো না কোনোভাবে মজলুম ছিলেন। এই লড়াই শুধু সাধারণ বা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষের ছিল না; পুরো জাতি মিলেমিশে এই লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিল। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। কওমি ও আলিয়া—সবাই একাকার হয়ে গিয়েছিল; সেখানে কোনো বিভেদ ছিল না।

শ্রমিকরাও ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। কৃতজ্ঞতার সঙ্গে এ কথাও উল্লেখ করতে হয় ১,৪০০ মানুষের মৃত্যুর কথা বলা হলে তাদের মধ্যে অন্তত ৬০০ থেকে ৭০০ জন ছিলেন সাধারণ শ্রমিক। এই আন্দোলনে শ্রমিকদের ত্যাগ ছিল অত্যন্ত ব্যাপক।

আন্দোলনে শামিল স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোটাব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু তাদের সঙ্গে কোটার কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক ছিল না—সাধারণ একটি বায়িং হাউস বা গার্মেন্টস কারখানার কর্মী, রাস্তায় কাজ করা পরিচ্ছন্নতাকর্মী, মুদির দোকানের কর্মচারী কিংবা কোনো চেইন শপের কর্মীরও কোটার সঙ্গে সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের সম্পর্ক ছিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে। তাদের সন্তান-সন্ততির জন্য একটি বৈষম্যহীন ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার আকাঙ্ক্ষাই তাদের এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করেছিল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সিটি আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। আরও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত আসনের চারজন সংসদ সদস্য। এনডিএফ সভাপতি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন বকাউল।

প্যানেল অব এক্সপার্ট হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম, খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক রুহুল আমিন, মুগদা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক সদরুল আলম, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের (এনআইসিভিডি) সাবেক ইউনিট প্রধান অধ্যাপক ডা. আ. বাকি, এনাম মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আমিনুল হক খান ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের স্পাইন সার্জারি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডা. মো. শহিদুল ইসলাম আকন।

অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখা, আহত ও জুলাই যোদ্ধাদের পাশে থাকা এবং দেশ ও মানুষের কল্যাণে চিকিৎসক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত