০৬ অগাস্ট, ২০২৬ ০৯:৩১ পিএম

কারাগারে ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ, সাত মাস দেখা পায়নি পরিবার

কারাগারে ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ, সাত মাস দেখা পায়নি পরিবার
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান খান ও কাসিম খান। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলাইমান ঈসা খান। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ সাত মাস ধরে পরিবারের সদস্য, ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও আইনজীবীদের ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে বাবার বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁরা নিশ্চিতভাবে কিছু জানতে পারছেন না।

ইমরান খানের গ্রেপ্তারের তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে সিএনএনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে দুই ছেলে এসব কথা বলেন। লন্ডন থেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁরা জানান, বাবার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাওয়ার জন্য বারবার চেষ্টা করেও সফল হচ্ছেন না তাঁরা।

কাসিম খান বলেন, ইমরানের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাঁদের কাছে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য নেই। কারা কর্তৃপক্ষ তাঁর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদনও পরিবারের হাতে দিচ্ছে না। এ কারণে বাবার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির মুক্তির দাবিতে বুধবার পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফের (পিটিআই) নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। দলটির দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইমরানের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হয়েছে। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ইমরান খান ২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন।

এরপর তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়। ২০২৩ সালে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান তিনি।

ইমরান খান ও তাঁর দল শুরু থেকেই এসব মামলাকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। তাঁদের অভিযোগ, তাঁকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই এসব আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে পাকিস্তান সরকার ও দেশটির সামরিক বাহিনী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

কারাবন্দী হওয়ার পর থেকেই ইমরানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে পিটিআই। তাঁর দলের বহু নেতা ও কর্মীও বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে পিটিআই সমর্থিত প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিয়েও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।

ইমরানের দুই ছেলে কাসিম ও সুলাইমান যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। ২০০৪ সালে তাঁদের বাবা ও মা জেমিমা গোল্ডস্মিথের বিবাহবিচ্ছেদের পর তাঁরা লন্ডনেই থাকছেন। সেখান থেকেই বাবার মুক্তির দাবিতে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে আসছেন তাঁরা।

কাসিমের অভিযোগ, গণমাধ্যমে তাঁরা বাবার বিষয়ে কথা বললেই পাকিস্তানে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন জটিলতা তৈরি হয়। ভিসা ও প্রশাসনিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে তাঁরা বাবার সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না।

তবে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সিএনএনকে বলা হয়েছে, কাসিম ও সুলাইমানের কাছে প্রবাসী পাকিস্তানিদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইসিওপি রয়েছে। এই পরিচয়পত্র থাকলে পাকিস্তানে প্রবেশের জন্য তাঁদের ভিসার প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়। তাই ভিসা না দেওয়ার অভিযোগকে বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে সরকার।

অন্যদিকে ইমরানের ছেলেদের বক্তব্য, তাঁদের ওই পরিচয়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং তা নবায়ন করা হয়নি।

ইমরান খানের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগও অস্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২১ মার্চ ইমরান তাঁর এক ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।

এ ছাড়া কারাগারে তাঁর সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সাক্ষাতেরও রেকর্ড রয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

সরকারের ভাষ্য একজন উচ্চপ্রোফাইল বন্দীর ক্ষেত্রে কারাগারের নিয়ম, আদালতের নির্দেশনা এবং নিরাপত্তা বিবেচনায় সাক্ষাৎ ও যোগাযোগের সময়সূচি নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। এটিকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখার সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়েও সরকারের বক্তব্য ভিন্ন। সরকারি বিবৃতিতে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। গুরুতর কোনো স্বাস্থ্য অবনতির তথ্য নেই বলেও দাবি করা হয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি নিয়মিত ওষুধ, চিকিৎসা ও ফলোআপ সুবিধা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কারাগারে ইমরানের থাকার ব্যবস্থার বিস্তারিতও তুলে ধরেছে পাকিস্তান সরকার। তাদের দাবি, তাঁকে সাত কক্ষের একটি বিশেষ কম্পাউন্ডে রাখা হয়েছে। সেখানে থাকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, শৌচাগার, আসবাবপত্র ও ব্যায়ামের সরঞ্জাম রয়েছে। ফলে তাঁকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন বা অবহেলিত অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয় বলে দাবি সরকারের।

তবে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইমরান খান ও বুশরা বিবির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চলতি সপ্তাহে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি তাঁদের পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কথিত বিচ্ছিন্ন কারাবাস বন্ধ করারও দাবি জানানো হয়।

ইমরানের দুই ছেলে অবশ্য সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা দেখছেন না। তাঁদের বক্তব্য শুধু নিজের মুক্তির জন্য অন্য রাজনৈতিক বন্দীদের কারাগারে রেখে ইমরান কোনো চুক্তিতে যাবেন না।

সুলাইমান বলেন, তাঁর বাবা নিজের মুক্তির চেয়ে সব রাজনৈতিক বন্দীর বিষয়ে একটি ন্যায়সংগত সমাধানকে বেশি গুরুত্ব দেন। এ কারণে ব্যক্তিগতভাবে মুক্তি পাওয়ার জন্য কোনো আপস করার সম্ভাবনা নেই।

কাসিমও মনে করেন, ইমরানের সঙ্গে সরকারের সমঝোতার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে বাবার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য না পাওয়ায় তাঁদের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।

কাসিম বলেন, তাঁরা শুধু পরিবারের সদস্য হিসেবে নয়, পাকিস্তানের বিপুলসংখ্যক মানুষের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরতে চান। তাঁর দাবি, ইমরানের প্রতি জনগণের যে সমর্থন রয়েছে, সেটিকে উপেক্ষা করে তাঁকে দীর্ঘদিন কারাগারে রাখা হয়েছে।

ইমরানের পরিবার ও সমর্থকদের অভিযোগের বিপরীতে পাকিস্তান সরকার বলছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কারাবাস ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে সব ব্যবস্থা আইন, আদালতের নির্দেশনা এবং নিরাপত্তা বিধি মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।

এনএইচ/
 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও