রাজধানীতে বাসার গ্রিল কেটে নারীকে হত্যা, স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: রাজধানীর দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ এলাকার একটি বাসার গ্রিল কেটে সারা রোকসানা নামে এক নারীকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে ফায়দাবাদ এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সারা রোকসানা কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ভূইয়া বাড়ি এলাকার শিক্ষক মজিবুল হক বাচ্চুর মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সারা রোকসানা পেশায় ডেন্টাল টেকনোলজিস্ট ছিলেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, বাসায় ঢুকে দুর্বৃত্তরা সারা রোকসানাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে বাসায় থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
নিহতের ছেলে বলেন, ‘আমি বাসায় ছিলাম না। পরে এসে দেখি আমার আম্মুকে গেস্ট রুমে হত্যা করা হয়েছে। গ্রিল কেটে খুনি বাসায় ঢুকেছে। বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। আমার আম্মুর কাছে যত স্বর্ণ ও টাকা ছিল, সব নিয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, স্বর্ণালংকারের জন্যই দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। তবে বাসার কিছু জিনিসপত্র ও প্যাকেট এখনো পড়ে রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শেষ করার পর সেগুলোতে হাত দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘দিনদুপুরে এভাবে একজনকে খুন করা খুবই ভয়ংকর। আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। আজ এই বাসায় হয়েছে, কাল আমাদের বাসায়ও হতে পারে। বাসায় দুটি শিশু থাকলে তাদেরও বড় ধরনের বিপদ হতে পারত। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ গণমাধ্যমে বলেন, ভুক্তভোগী নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘরের জিনিসপত্র লুটের ঘটনাও ঘটেছে।
এ বিষয়ে দক্ষিণখান থানার উপ-পরিদশর্ক হাবিব মেডিভয়েসকে বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। এ সময় নিহতের স্বামী ও ছোট মেয়ে সেখানে ছিলেন। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সময় নিহতের স্বামী অফিসে ছিলেন। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যান। স্কুল ছুটির পর সাধারণত মা মেয়েকে নিয়ে আসতেন। কিন্তু ওই দিন নিহত চিকিৎসক স্কুলে না যাওয়ায় মেয়ে অপেক্ষা করতে করতে নিজেই বাসায় ফিরে আসে। বাসায় এসে পরিস্থিতি দেখে আবার স্কুলে ফিরে গিয়ে শিক্ষকের কাছে বিষয়টি জানায়। পরে শিক্ষক তার বাবাকে বিষয়টি জানান।
এসআই হাবিব বলেন, ঘটনাস্থলের গ্রিল কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। বাসার আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়ানো ছিটানো ছিল। তবে কীভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, কী কী মালামাল খোয়া গেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, লুটপাটের বিষয় এবং জড়িতদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
এনএইচ/