ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের চিকিৎসা দেওয়ার আইনগত অধিকার নেই: ডিএমজে
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের আলোকে অবৈধ ডেন্টাল প্র্যাকটিস বন্ধ এবং বিএমডিসি আইনের কঠোর বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস’র বিডিএস উইং। সংগঠনটির দাবি, নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জন ছাড়া অন্য কারও ক্লিনিক্যাল ডেন্টাল চিকিৎসা পরিচালনার আইনগত অধিকার নেই এবং অবৈধ চেম্বার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল সেন্টার স্থাপন এবং পর্যাপ্ত বিডিএস ডেন্টাল সার্জন নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে তারা।
আজ বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মো. আকরাম খাঁ হলে সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানায় তারা। পরে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে সংগঠনটি।
এ সময় সংগঠনটির নেতারা বলেন, সম্প্রতি ২৪ জুন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সিভিল আপিল নং-৬০ অব ২০১৭ মামলায় রায় দিয়ে পূর্ববর্তী হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশনের রায় বাতিল করেছেন। এর ফলে আইনগতভাবে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে যে, ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের ডেন্টাল সার্জনের মতো স্বাধীনভাবে ক্লিনিক্যাল ডেন্টাল চিকিৎসা পরিচালনার কোনো আইনগত অধিকার নেই।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন, ২০১০-এর ধারা ২২, ২৮ ও ২৯ অনুযায়ী বিএমডিসিতে নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জন ছাড়া অন্য কেউ ডেন্টিস্ট বা ডেন্টাল সার্জন পরিচয়ে চিকিৎসা প্রদান, নিজেকে সে পরিচয়ে উপস্থাপন বা ডেন্টাল প্র্যাকটিস পরিচালনা করতে পারেন না। এ ধরনের কার্যক্রম আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
সংগঠনটির দাবি, ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের শিক্ষা ও পেশাগত দায়িত্ব মূলত ডেন্টাল ল্যাবভিত্তিক প্রযুক্তিগত কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তারা নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জনের নির্দেশনা অনুযায়ী ডেন্টাল ক্রাউন, ব্রিজ, অর্থোডন্টিক অ্যাপ্লায়েন্স ও অন্যান্য ডেন্টাল প্রস্থেসিস তৈরি করতে পারেন। তবে রোগ নির্ণয়, প্রেসক্রিপশন প্রদান, দাঁত উত্তোলন, স্কেলিং, ফিলিং, রুট ক্যানেল চিকিৎসাসহ কোনো ক্লিনিক্যাল চিকিৎসা বা স্বাধীনভাবে ডেন্টাল চেম্বার পরিচালনার আইনগত এখতিয়ার তাদের নেই।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু ব্যক্তি নিজেদের ডেন্টিস্ট বা ডেন্টাল সার্জন পরিচয়ে অবৈধভাবে ডেন্টাল চেম্বার পরিচালনা করছেন এবং ক্লিনিক্যাল চিকিৎসা দিচ্ছেন। পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং আইনের শাসনের পরিপন্থী।
সংগঠনটির বিডিএস উইংয়ের কো-অর্ডিনেটর ডা. রিফায়েত হোসেন বলেন, দেশে সরকারি পর্যায়ে ডেন্টাল চিকিৎসা এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত সীমিত। অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল সেন্টার এবং পর্যাপ্তসংখ্যক বিডিএস ডেন্টাল সার্জন ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় সাধারণ মানুষ মানসম্মত দন্তচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই সুযোগে অনেক অসাধু ব্যক্তিরা অবৈধভাবে ডেন্টাল চেম্বার খুলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।
এই পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে দুই দফা দাবি জানায় ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস-বিডিএস উইং। তাদের প্রথম দাবি— সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বিএমডিসি আইন, ২০১০ অনুযায়ী- সারা দেশের অবৈধ ডেন্টাল চেম্বার ও বেআইনি ডেন্টাল প্র্যাকটিস বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বিএমডিসির পরিপত্র জারি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জনের কাছে চিকিৎসা গ্রহণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডেন্টাল চেম্বার স্থাপনে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।
দ্বিতীয় দাবি, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে একটি করে পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল সেন্টার স্থাপনের দাবি জানানো হয়। এসব কেন্দ্রে ন্যূনতম পাঁচজন বিডিএস ডেন্টাল সার্জন, বিভিন্ন বিশেষায়িত শাখার অন্তত পাঁচজন কনসালটেন্ট ডেন্টাল সার্জন, প্রয়োজনীয় জনবল, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
শেষে বক্তারা বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের যথাযথ বাস্তবায়ন, বিএমডিসি আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং সরকারি ডেন্টাল সেবার সম্প্রসারণের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দেশের মানুষ নিরাপদ ও মানসম্মত দন্তচিকিৎসা নিশ্চিতভাবে পাবেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্দন করেন সংগঠনটি। মানববন্ধনে অবৈধ চেম্বার বন্ধ কর, করতে হবেসহ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাদের লিখিত দাবি দুটি তুলে ধরেন তারা। এসময় বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন মেডিকেল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এমআই/এমইউ