‘ঢামেকের এমআরআই মেশিন বেসরকারি হাসপাতালের চেয়েও বেশি দামী, তবে এগুলো পুরোনো’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) স্পাইন সার্জন অধ্যাপক ডা. শহিদুল ইসলাম আকন বলেছেন, ঢামেকে যে এমআরআই মেশিন কেনা হয়েছে, তা বেসরকারি হাসপাতালের চেয়ে বেশি দামী, তবে এগুলো পুরোনো, অযোগ্যটা—যেটা অন্য দেশে অচল।
সম্প্রতি রাজধানীর শাহবাগে বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে ন্যাশনাল ডক্টর ফোরামের (এনডিএফ) সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, বাজেট আছে, কিন্তু সেটির সঠিক বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আরেকটি বিষয় হলো বাজেটের স্বল্পতা। দুইটিই বাস্তবতা। স্বাস্থ্যখাতে যতটুকু বাজেট হওয়া প্রয়োজন, তা যথেষ্ট নয়। আবার যে বাজেট বরাদ্দ রয়েছে, সেটিরও সঠিক বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
বাজেটের বাস্তবায়ন এখন কিভাবে—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ দেশের এক নম্বর মেডিকেল কলেজ। ঢাকা মেডিকেল কলেজে কি দেশের এক নম্বর ইনভেস্টিগেশন ফ্যাসিলিটিজ আছে? অথচ ঢাকা মেডিকেল কলেজে যেটা কেনা হয়েছে, সেটি বেসরকারি খাতে ব্যবহৃত এমআরআই-এর তুলনায় বেশি দামের। কিন্তু আমরা কিনছি সবচেয়ে পুরোনো, অযোগ্য মডেল—যেটি অন্য দেশে ইতিমধ্যে বাদ দেওয়া হয়েছে। সত্যিকার অর্থে আমরা এরকম একটি ডিজাইনই কিনছি।
তিনি আরও বলেন, ‘যদি ভালো শাসনব্যবস্থা থাকে, কিছু ভালো কাজও হয়। বার্ন ইনস্টিটিউটটি আর্মিরা করেছে এবং তুলনামূলকভাবে ভালো হয়েছে। এমআরআই মেশিনের ক্ষেত্রে অনেকেই ঢাকা মেডিকেল থেকে বার্ন ইনস্টিটিউটে গিয়ে পরীক্ষা করান। অধ্যাপক ডিন মোহাম্মদ স্যার নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট করেছেন। সেখানে তারা সিমেন্সের ভালো মানের এমআরআই মেশিন কিনেছেন—এটা আমি একটি ক্ষুদ্র উদাহরণ হিসেবে বললাম।’
বাজেট পর্যাপ্ত থাকলে এবং বাজেটের যদি সঠিক ব্যবহার হয়, এবং প্রতিষ্ঠান প্রধান যদি ঠিক থাকেন, সর্বপরি দেশ ঠিক থাকে বলে যানান তিনি। বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান প্রধান ঠিক থাকলে বেশিদিন স্থায়ী হয় না’।
গত দেড় বছর সরকারের সাথে মিটিংয়ে যাওয়ার কিছু সুযোগ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মিডিয়াতে আসলো যে ঢাকা মেডিকেল কলেজের হোস্টেল ভেঙে পড়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজে হোস্টেল দরকার। আমি গেলাম ছাত্রদের পক্ষে হোস্টেল চাইতে। মিটিং হলো, আমাকে প্রমাণ করা হলো যে এরা ছাত্রদের নিয়ে আন্দোলন করছে এই ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে। অতএব, এদের পানিশমেন্ট হওয়া উচিত।
সৎ প্রজেক্ট ডিরেক্টরদের সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগের যারা বিভিন্ন প্রজেক্ট ডিরেক্টর ছিলেন, ভদ্রলোকেরা তো প্রজেক্ট ডিরেক্টর হতে চান না। ভদ্রলোক প্রজেক্ট ডিরেক্টর হলে—তিনি এক টাকাও খাওয়াবেন না, তিনি শতভাগ সৎ, নামাজ পড়েন, রোজা রাখেন, বেহেশতে যাওয়ার জন্য মরিয়া। কিন্তু কাজ শেষ করার পর যিনি অডিটে আসবেন, তাঁকে ১৫ শতাংশ দিতে হবে। এখন আপনি এই ১৫ শতাংশ কীভাবে দেবেন? আপনি তো সৎ মানুষ, আপনি একটি টাকাও খান নাই। এই অবস্থায় আপনি ১৫ শতাংশ না দিলে আপনার ভুল ধরা হবে, কারণ আপনার তো কোথাও না কোথাও ভুল থাকতেই পারে—চাইলে তো ধরতেই পারে।
সামগ্রিক সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এক হলো বাজেট কম, দুই হলো যেটুক আছে সেটুকের সঠিক ব্যবহার নাই, এবং যে মানুষটার হাতে পড়ছে, সেই মানুষটাও ওই পদে বেশিদিন থাকতে পারছে না। থাকতে হলে আপনাকে কম্প্রোমাইজ করতে হবে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল ডক্টর ফোরামের (এনডিএফ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে কি-নোট স্পিকার হিসেবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তরুণ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. কামারুদ্দিন মুজাক্কির।
প্যানালিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর সদ্যসাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম, ইবনে সিনা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. খোরশেদ আলী মিয়া, বিএমইউর ইন্টারনাল মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নাহিদুজ্জামান সাজ্জাদ ও এন্ডোক্রাইনলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুরজাহান বানু।
টিআই/এমইউ