মেট্রোরেলে বিদেশি হাসপাতালের বিজ্ঞাপন, চিকিৎসক মহলে সমালোচনা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সরকারি প্রতিষ্ঠান মেট্রোরেলের এলইডি স্ক্রিনে ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালের বিজ্ঞাপন প্রচারিত হচ্ছে। গত ২১ দিন ধরে মেট্রোরেলে এই বিজ্ঞাপনটি প্রচারিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক কায়েস মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিদেশি হাসপাতালের বিজ্ঞাপন কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। এটি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।’
বিষয়টিকে চিকিৎসার আগ্রাসন হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
জানতে চাইলে ঢামেকের এফসিপিএস পার্ট-২-এর প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক সিদরাতুল মুনতাহা সিনজি মেডিভয়েসকে বলেন, ‘মেট্রোরেলে বিদেশি হাসপাতালের বিজ্ঞাপন দুঃখজনক। তবে দেশের প্রেক্ষাপটে এটি বাস্তবতার একটি প্রতিচ্ছবি। আমার মনে হয়, এটি শুধু ডাক্তারদের জন্য নয়, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য একটি ওয়েক-আপ কল। সচেতনতা আসতে হবে ওপরের স্তর থেকে, পাশাপাশি আমাদের সবার ভেতর থেকেও। অনেক ক্ষেত্রে দেশের মানুষ জানেনই না, কত উন্নত হচ্ছে আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা। এগুলোর প্রচার-প্রচারণা জরুরি।’
এ বিষয়ে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) পরিচালক (প্রশাসন) এ. কে. এম. খায়রুল আলম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমরা টেন্ডার করে বিজ্ঞাপন সংস্থাকে ভাড়া দিয়েছি। তারা বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। যেহেতু তারা স্পেস ভাড়া নিয়েছে, তাই গ্রাহক আকৃষ্ট করে আয় করার জন্য নানা কিছু প্রদর্শন করবে। এটি বিজ্ঞাপন সংস্থার বিষয়। তবে আমাদের কিছু নীতিমালা আছে—দেখতে হবে, সেটি আমাদের নীতিমালার পরিপন্থী কি না।’
পরে তিনি ডিএমটিসিএলের বিজ্ঞাপন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলেন।
ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. উসমান গনি বলেন, ‘মেট্রোরেলে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের দায়িত্ব বর্তমানে এনেক্স কমিউনিকেশনকে দেওয়া হয়েছে। আমরা বিজ্ঞাপন সংস্থার সঙ্গে কথা বলবো।’
বিদেশি হাসপাতালের বিজ্ঞাপন নীতিবিরোধী কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞপ্তির শর্তে এমন কিছু বলা ছিল না। তবে শর্ত ছিল, যা করা হবে তা বাংলাদেশের আইন-কানুন মেনেই করতে হবে।’
এ বিষয়ে জানতে বিজ্ঞাপন সংস্থা এনেক্স কমিউনিকেশন লিমিটেডের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয় মেডিভয়েস থেকে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে থাকা দুটি ফোন নম্বরে কল করা হলে নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন চলা প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলো হাসপাতাল, চেন্নাইয়ের ইনফরমেশন সেন্টার ঢাকার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো. আসাদুজ্জামান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘অ্যাপোলো হাসপাতাল, চেন্নাইয়ের ইনফরমেশন সেন্টার যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত। এটি শুধু একটি কনসালটেন্সি ফার্ম। যে রোগীরা ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতালে যাবে, তাদেরকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা হয়—অ্যাডভান্স অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং চিকিৎসা খরচ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অ্যাপোলো হাসপাতাল, চেন্নাইয়ের লোকাল এক্সিকিউটর হচ্ছে মেডিস্ফিয়ার। এটি একটি বাংলাদেশি মেডিস্ফিয়ার কোম্পানি। চেন্নাইয়ে যে রোগীরা যাবে, তাদের সহায়তার জন্য আমাদের একটি লিয়াজোঁ অফিস আছে, যেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়।’
বিজ্ঞাপনটি চেন্নাইয়ের হাসপাতালের নয়—এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘কোন হাসপাতালকে প্রমোট করা হচ্ছে না।’
বিদেশি হাসপাতালের নাম, স্থান ও লোগো বড় করে প্রদর্শনের কারণ জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন, এটি বিদেশি হাসপাতালের বিজ্ঞাপন। ভারতীয় হাসপাতালের বিজ্ঞাপন চালানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিস্তারিত জানাতে মেডিস্ফিয়ারের মালিকপক্ষ থেকে মেডিভয়েসে কল করা হবে।’ তবে পরে মেডিস্ফিয়ারের পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
টিআই/এমইউ